শহরের পথে থরে থরে কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে।
শহরের পথে ফোটা কৃষ্ণচূড়া ফুল কবির কাছে ভাষা শহিদদের রক্তের বুদ্বুদ মনে হয়।
১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থানে বাঙালি যখন সংগ্রমরত কবি তখন শহরের পথে পথে ফুটে ওঠা কৃষ্ণচূড়ার মাঝে একুশের চেতনার রং দেখতে পান। ভাষার জন্য যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের ত্যাগ আর মহিমা মূর্ত হয়ে উঠেছে লাল কৃষ্ণচূড়ার স্তবকে স্তবকে। মূলত উদ্ধৃত করতে উক্তিটি দ্বারা কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙের মধ্য দিয়ে ভাষা শহিদদের মহান আত্মত্যাগের স্মৃতি এবং চেতনার দিককে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বর্ণিত বায়ন্নোর ভাষা আন্দোলন ও উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পথ ধরে স্বাধীনতা অর্জনের দিকটি নির্দেশ করে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালির ব্যাপক গণ অভ্যুত্থনের এক অখণ্ড চিত্র। এই গণ অভ্যুত্থনের প্রেরণা যুগিয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষাশহিদদের সংগ্রামী চেতনা। ভাষা আন্দোলনে বাঙালির তাজার রক্তের স্মৃতিগন্ধ এখনো টাটকা। শহরের পথের পাশে থরে থরে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া ফুলগুলো যেন সেই রক্তকেই ধারণ করছে। বায়ান্নোর প্রেরণায় উনসত্তর আর ঊনসত্তরের প্রেরণায় স্বাধীনতা সংগ্রাম; সবই যেন একবই সূত্রে গাঁথা।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পিছনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বাঙালির আত্মত্যাগী মানসিকতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। যতোবার বাঙালির ওপর অন্যায় করা হয়েছে প্রতিবারই এদেশের তরুণরা শত্রুর বিরুদ্ধে বলিষ্ঠভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল। ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৯-র গণ অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের তরুণরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে অধিকার আদায় করেছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামী চেতনার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের দিকটি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়ও একইভাবে উঠে এসেছে।
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে তরুণদের ভূমিকাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রচিত। দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে এ কবিতায়। মুক্তিসংগ্রামের প্রথম সোপান ভাষা আন্দোলনে প্রথমবারের মতো রক্ত ঝরিয়েছে এ দেশের তরুণ সমাজ। ১৯৬৯ সালে জাতিগত শোষণ, নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ দেশের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, জেগে ওঠে তরুণ জনতা। গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য তরুণ বেরিয়ে আসে রাজপথে।
উদ্দীপকে মূলত তরুণদের তারুণ্যশক্তির কথা বলা হয়েছে, যারা বাঙালি জাতির প্রাণ। মাতৃভাষা ও দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণের বিসর্জন দিয়ে তাঁরা অক্ষয় হয়ে আছে বাংলার আকাশে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ দেশের তরুণ সমাজ প্রথমবারের মতো অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শামিল হয়। তরুণদের হাত ধরেই সংঘটিত হয় বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন, উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান। সবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তাদের হাত ধরেই এসেছে বাঙালি বহু প্রত্যাশিত স্বাধীনতা।
উদ্দীপকে জাতির সকল আন্দোলন-সংগ্রামের সাথেই তরুণদের অংশগ্রহণের চিত্র পাওয়া যায়। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তরুণদের ভূমিকাই ছিল মুখ্য। 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়ও দেখা যায় জাতিগত চেতনা সৃষ্টি, বিদ্রোহ আর সংগ্রামের পথে তরুণদেরকেই প্রথম সারিতে দেখা যায়। তাই বলা যায়, 'বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে তরুণদের ভূমিকাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!