আঁশ উৎপাদনের জন্য যেসব ফসল চাষ করা হয় সেগুলোই আঁশ জাতীয় ফসল।
প্রথমবার আখ কাটার পর আখের গোড়া থেকে পুনরায় কুশি বের হওয়ার সুযোগ দিয়ে আখ চাষ করাই হলো আখের রেটুন চাষ।
রেটুন চাষ যেহেতু প্রথমবার আখ কাটার পর ঐ আখের গোড়া থেকে করা হয় তাই এক্ষেত্রে জমি চাষ ও বীজ বপনের প্রয়োজন হয় না। ফলে এ চাষে জমি চাষ ও বীজের জন্য যে খরচ হয় সেটি লাগে না। তাই রেটুন চাষে কম খরচ লাগে ।
উদ্দীপকের লিটন তার জমিতে উন্নত জাতের তুলা চাষ করেন। তিনি নিম্নোক্তভাবে তুলা চাষ করেন-
তুলা চাষের জন্য বন্যামুক্ত উঁচু জমি প্রয়োজন। তিনি দোঁআশ ও বেলে দোঁআশ মাটিতে তুলা চাষ করেন। তিনি ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে নেন। তুলা চাষের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ২৪-৩৩° সে এবং অম্লমান ৬-৭.৫। তিনি এসব বিষয়ও বিবেচনা করেন। তিনি প্রতি হেক্টর জমিতে ৫-৬ টন জৈব সার, ইউরিয়া ২০০-২৫০ কেজি, টিএসপি ১৫০-১৭৫ কেজি, এমপি ১০০-১৫০ কেজি, জিপসাম ২৫-৩০ কেজি, বোরাক্স ১০-২০ কেজি প্রয়োগ করেন। তুলা চাষে হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। তিনি নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রতি হিলে ৩-৪টি বীজ ১-২ সেমি গভীরে বপন করেন। তুলা চাষের জন্য ৭০-৯০ সেমি পানি প্রয়োজন। তিনি ফুল ফোটার আগে, ফুল ফোটার সময় ও ফসলের পরিপক্কতার সময় সেচ দেন। তুলার বিবিধ রোগ দমনে অটোস্টিন, কিউপ্রাভিট প্রভৃতি করেন। তিনি তুলার পোকা দমনে সাকসেস, টাফগর, অটোমিডা ইত্যাদি কীটনাশক প্রয়োগ করেন। তুলার ফুল ফোটার ৫০-৬০ দিনের মধ্যে বোল পরিপক্কতা লাভ করে। বোল ভালোভাবে ফেটে বের হলে পরিষ্কারভাবে তিনি বীজতুলা সংগ্রহ করেন। সেই বীজতুলা থেকে আঁশ ছাড়ানোর মাধ্যমে তুলা সংগ্রহ করেন। এভাবে লিটন তার জমিতে তুলা চাষ করেন।
উদ্দীপকের লিটন তুলা চাষ করে বাম্পার ফলন পেলেও আর চাষ করতে চাচ্ছেন না।
তুলা জুলাই-আগস্ট মাসে বপন করে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সংগ্রহ করা হয়। এক বিঘা জমিতে তুলা চাষ করলে ১৮-২০ হাজার টাকা নিট লাভ পাওয়া যায়। এতে চাষি লিটন অনেক লাভবান হন বটে কিন্তু বছরের বাকি সময় তিনি আর আয় করতে পারেন না। এক মৌসুমে তুলা চাষ করে যে পরিমান টাকা লাভ করা যায় তা দিয়ে সারাবছর জীবনধারণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া চাষি লিটন যদি ওই জমিতে পর্যায়ক্রমে বছরে ৩টি ফসল চাষ করতেন তবে তুলা চাষের তুলনায় অনেক বেশি টাকা আয় করতে পারতেন। তুলা চাষের সাথে সর্বোচ্চ আর একটি ফসল চাষ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে বার্ষিক ফসল উৎপাদনের হার কমে যায়। এছাড়া তুলা ক্ষারীয় মাটিতে ভালো জন্মে। ফলে দেখা যায় ক্ষারীয় প্রকৃতির জমিতে সব ধরনের ফসল চাষ করা সম্ভব হয় না। এছাড়া তুলা যেসকল পুষ্টি উপাদান মাটি থেকে গ্রহণ করে সেসকল উপাদানের ঘাটতি তৈরি হয়। অন্য ফসল চাষ করতে চাইলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাবে উৎপাদন বিফল হয়। ফলে মোট আয় কমে যায়।
তাই এসকল বিবেচনা করেন তুলা চাষি লিটন বাম্পার ফলন পাওয়া সত্ত্বেও আর তুলা চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
Related Question
View Allজীববিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের ও অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন অন্যান্য জলজ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস, চাষ পদ্ধতি, প্রজনন, রোগতত্ত্ব, সংরক্ষণ, পরিবহণ ও বিপণন বিষয়ে আলোচনা করা হয় তাকে মাৎস্য বিজ্ঞান বলে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় প্রতি মাসে অথবা প্রয়োজন অনুসারে কৃষকদের নিয়ে কোনো একজন কৃষকের উঠোনে কৃষির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে বৈঠক করে তাকে উঠোন বৈঠক বলে।
মূলত উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকেরা কৃষি তথ্য ও সেবা পেয়ে থাকে। উঠোন বৈঠকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো- কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তি হস্তান্তর করা, কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কৃষকদের জ্ঞান, তথ্য, অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। ফলে দুর্বল কৃষকরা কৃষি তথ্যে সমৃদ্ধ হয়ে কৃষিকাজে আরও উৎসাহী হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)। এ প্রতিষ্ঠানটি নিম্নলিখিত কার্যাবলীর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে-
i. ফসলের নতুন নতুন জাত নির্বাচন, উদ্ভাবন ও উন্নয়ন সাধন।
ii. নির্বাচিত ও উদ্ভাবিত ফসলের জাতসমূহ চাষাবাদের জন্যে অনুমোদনের ব্যবস্থাকরণ এবং উন্নত চাষাবাদ কলাকৌশল উদ্ভাবন।
iii. বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক গবেষণা প্রকল্প তদারকীকরণ ও পরামর্শ প্রদান।
iv. উন্নত সেচ প্রযুক্তি উদ্ভাবন।
V. সার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন।
vi. মাটির উর্বরতা রক্ষার উপায় উদ্ভাবন ও উন্নয়ন।
vii. ফসলের প্রজাতি বা জিন সংরক্ষণ।
viii. চাষাবাদ ও পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র উদ্ভাবন।
ix. কৃষিপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার কৌশল উদ্ভাবন।
x. কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা প্রভৃতির আয়োজনকরণ।
xi. শস্য বিন্যাস পদ্ধতির আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন।
xii. কৃষি পরিবেশ ও অঞ্চলেভেদে দেশের চাহিদাভিত্তিক কৃষি গবেষণা পরিচালনা।
xiii. কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান।
xiv. কৃষিতে আইসিটি এর প্রয়োগকরণ।
পরিশেষে বলা যায়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন, কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র দূরীকরণে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উদ্দীপকে চাষকৃত ফুলটি হলো ডালিয়া। ডালিয়া ফুল গাছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া প্রভৃতি আক্রমণ করলে নানাবিধ রোগ হয়। এসব প্রতিরোধে দরকার প্রয়োজনীয় রোগ দমন ব্যবস্থাপনা।
ডালিয়ার পাউডারি মিলডিউ রোগ দমনে গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে। রোগের প্রকোপ কম হলে দ্রুত বেগে পানি স্প্রে করেও দমন করা যায়। সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ১ লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ৩-৫ বার স্প্রে করতে হবে। রোগ দেখা মাত্রই সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন- থিয়োভিট ৮০ ডব্লিউজি বা কুমুলাস ডিএফ) ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে অথবা প্রোপিকোনাজোল (যেমন- টিল্ট ২৫০ ইসি) ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। ঢলে পড়া রোগ দমনে রোগাক্রান্ত চারা/গাছ তুলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। মেটালেক্সিল + মেনকোজেব (যেমন- রিডোমিল গোল্ড) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে কন্দ আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে জমিতে বপন করতে হবে। আক্রান্ত গাছে অক্সিক্লোরাইড বা কপার জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। ডালিয়ার ড্যাম্পিং অফ রোগ হলে মেটালেক্সিল ও রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। ডালিয়ার কান্ড পচা রোগ হলে রোগাক্রান্ত গাছ ধ্বংস করে ফেলতে হবে। ডালিয়ার অ্যানথ্রাকনোজ রোগ প্রতিরোধে কার্বেন্ডাজিম দ্বারা কন্দ শোধন করতে হবে। আর এ রোগে আক্রান্ত গাছে কপার অক্সিক্লোরাইড ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া ভাইরাসঘটিত রোগের কোনো ঔষধ নাই। সুতরাং রোগাক্রান্ত গাছগুলি সঙ্গে সঙ্গে তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জাবপোকা, থ্রিপস, জ্যাসিড ইত্যাদি পোকা দ্বারা ভাইরাসের বিস্তার হয়। তাই সুস্থ গাছে নিয়মিত ডাইমেক্রন ১০০ ইসি (৫%) দ্রবণ প্রতি ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করলে এইসব পোকা দমন করা যায়।
অতএব, উপরে উল্লিখিত বিবিধ রোগ দমন ব্যবস্থাপনা গ্রহণের মাধ্যমে ডালিয়া ফুলের লাভজনক চাষ করা যায়।
ভূমিক্ষয় হলো বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক শক্তি যেমন- বৃষ্টিপাত, পানি, বায়ু, বরফ, তাপ, মধ্যাকর্ষণ শক্তি, ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া এবং পানি চলাচলের প্রভাবে মৃত্তিকা কণার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারণ হওয়া।
মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদমকে মাটির অম্লমান বা মাটির pH বলে। এটি মাটির একটি রাসায়নিক ধর্ম। মাটির অম্লমান বা pH ১-১৪ সংখ্যা দ্বারা উল্লেখ করা হয়। কোনো মাটির pH ৭.০ হলে তাকে প্রশম মাটি ধরা হয় আবার মাটির pH ৭.০ এর নিচে গেলে উক্ত মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হয় এবং pH ৭.০ এর উপরে উঠে গেলে মাটির ক্ষারত্ব দেখা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!