জনগণের কাছে সংবাদ, মতামত, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমকে বলা হয় গণমাধ্যম।
শিশুর সামাজিকীকরণের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। অতীতকাল থেকেই মানুষ ধর্ম-কর্মে নিবেদিত ছিল। সকল ধর্মই মানুষকে নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় আচার-আচরণ, রীতিনীতি, অনুষ্ঠানসহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ব্যাপারের সকল শিক্ষা শিশুকে সর্বপ্রথম তার পরিবারই দিয়ে থাকে। ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের মধ্য দিয়ে একটি শিশু সামাজিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হয়ে গড়ে ওঠে। তাই শিশুর সামাজিকীকরণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
উদ্দীপকের তুলির মা-বাবার প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য সামাজিকীকরণের পরিবার মাধ্যমটিই দায়ী। শিশুর সামাজিকীকরণ শুরু হয় পরিবার থেকে। শিশুর চারিত্রিক গুণাবলি পারিবারিক পরিবেশে বিকশিত হয়। সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি; ভ্রাতৃত্ববোধ, আত্মত্যাগ, ভালোবাসা প্রভৃতি সামাজিক শিক্ষা শিশু পরিবার থেকে অর্জন করে। শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের জন্য প্রয়োজন হয় সুন্দর সামাজিক পরিবেশ। তুলির সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা নগণ্য ছিল। তার মা-বাবা তাকে পর্যাপ্ত সময় দেননি, যা তাকে তার মা-বাবার আদর্শকে অনুসরণ করতে সহায়তা করবে। ডে-কেয়ার সেন্টারের পরিবেশ একজন শিশুকে যেভাবে সামাজিক করে তোলে, পরিবার তার চাইতে আরও বিস্তৃতভাবে তাকে সামাজিক করে তোলে। কিন্তু পারিবারিক সান্নিধ্য বঞ্চিত এরূপ শিশুরা একাকীত্বে ভোগে, যা তাদের ব্যক্তিত্ব এবং আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। তাই সে তার মা-বাবার প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ করার মতো বিষয়টি সঠিকভাবে শিখতে পারেনি।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, তুলির সামাজিকীকরণে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাই মুখ্য। শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি কতকগুলো সামাজিক আদর্শও শিখে থাকে। এসব আদর্শ হচ্ছে- শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্ববোধ, নিয়মানুবর্তিতা, শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা, ভালোবাসা ইত্যাদি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম অংশগ্রহণ করে শিশু বৃহত্তর সমাজের আদব-কায়দা, আচার-আচরণ ও মূল্যবোধও শিখে থাকে।
উদ্দীপকে তুলি তিন বছর বয়স থেকে ডে-কেয়ার সেন্টারের শিক্ষার্থী। পরিবারের মা-বাবা তাকে পর্যাপ্ত সময় না দিতে পারায় সে নির্ভরশীল হয়ে ওঠে ডে-কেয়ার সেন্টারের ওপর। তার নিকট আদর্শ বলতে যা বোঝায় তা হলো তার শিক্ষক। তার মা-বাবার শূন্য স্থানটি পূরণ হয়েছে শিক্ষকদের দ্বারা। যে শিক্ষা ও আদর্শ সে পরিবার থেকে অর্জন করত, যে নীতি ও মূল্যবোধ পরিবার তাকে শিক্ষা দিত অনানুষ্ঠানিকভাবে, তা সে অর্জন করেছে বিদ্যালয় থেকে। তার শিক্ষার আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উভয়টিই সে অর্জন করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। অথচ অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাটি অর্জন করার কথা ছিল পরিবার থেকে। যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের থেকে সে এ সাপোর্টটি পেয়েছে, তাই তার সামাজিকীকরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের ভূমিকাই হবে মুখ্য। আমি
Related Question
View Allভালোভাবে জীবনযাপনের জন্য মা-বাবার বা পরিবারের সদস্যদের কোনো কাজে সহায়তা করা শিশুদের জন্য উপযোগী।
প্রতিবন্ধকতা শিশুর জন্য কাম্য নয়। কারণ প্রতিবন্ধকতা শিশুর জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শিশুর প্রতি নির্দয় আচরণ শিশুর শারীরিক-মানসিক-নৈতিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। অনেক সময় মা-বাবার অত্যধিক প্রত্যাশাও শিশুর ওপর এক ধরনের মানসিক পীড়ন তৈরি করে যা শিশুমনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে করে শিশু ক্ষীণ স্বাস্থ্যের অধিকারী ও খিটখিটে মেজাজের হয়।
উদ্দীপকে মোহনের কাজ শিশুশ্রম ধারণাকে প্রতিফলিত করে।
সাধারণত দরিদ্রতা বা পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক সময় শিশুরা বিদ্যালয়ে না গিয়ে বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ১৮ বছর বয়সের কম বয়সি কোনো শিশু যদি উপার্জন করার জন্য কাজ করতে গিয়ে বিপদ, ঝুঁকি, শোষণ ও বঞ্চনার সম্মুখীন হলে সে কাজকে শিশুশ্রম বলা হয়। উদ্দীপকের মোহন তেরো বছর বয়সে জুতার কারখানায় কাজ করে। তার এ শ্রম স্পষ্টতই শিশুশ্রম। আমাদের দেশের শিশুরা বাসাবাড়ির বাইরে বিভিন্ন কলকারখানায় যেমন- চুড়ি, বিড়ি, ব্যাটারি ও জুতা তৈরির কারখানায় কাজ করছে। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য তৈরির কারখানায়, লেদ ও ওয়েল্ডিং মেশিনেও কাজ করছে। গাড়ি বা টেম্পুর সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করছে। উদ্দীপকে মোহন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি জুতা তৈরির কারখানায় কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
অতএব মোহনের কাজ শিশুশ্রমের ধারণাকে প্রতিফলিঅন্তরে করে ।
উদ্দীপকে মলির কর্মক্ষেত্রে তার প্রতি যে আচরণ করা হয় তা শিশুশ্রমের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
শ্রমজীবী শিশুর প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। তাদের প্রতি ভালো ব্যবহার করতে হবে। তাদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। ভালো খাবার, পোশাক ইত্যাদি দিতে হবে যাতে এসব শিশু ভালো পরিবেশে বেড়ে উঠে পরিবার ও সমাজের প্রতি তারা দায়িত্বশীল হয়ে উঠে।
উদ্দীপকে মলির কাজ শিশুশ্রমের পর্যায়ে পড়ে। সাধারণত শিশুরা যেখানে শ্রমিক হয়ে কাজ করে সেসব জায়গায় তারা নানারকম বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হয়। কিন্তু উদ্দীপকের মলি তার কর্মক্ষেত্রে ভালো খাবার খেতে পায়, বেড়াতে যেতে পারে, ঈদের সময় পছন্দের জামা পায়। এসব কর্মকাণ্ড একজন শিশু শ্রমিকের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া মলি কাজের অবসরে লেখাপড়ারও সুযোগ পায়। এতে তার মানসিক বিকাশ ঘটে। মলির প্রতি ভালো আচরণের কারণে সে মানবিক গুণসম্পন্ন একজন নাগরিক হয়ে উঠবে। অতএব বলা যায়, কর্মক্ষেত্রে মলির প্রতি আচরণ প্রশংসনীয়। এরূপ আচরণ প্রতিটি কর্মজীবী শিশুর প্রতি কাম্য। এরূপ আচরণই শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক।
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সামাজিক শিক্ষা আয়ত্ত করে সমাজের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তাই সামাজিকীকরণ।
ব্যক্তির সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ব্যক্তিকে আদর্শ সামাজিক মানুষে পরিণত করবে। ওর দ্বারা ব্যক্তি কাঙ্ক্ষিত আদর্শ, মূল্যবোধ, রীতিনীতি ইত্যাদি আয়ত্ত করবে। এতে করে ব্যক্তি যেমন আদর্শ মানুষে পরিণত হবে তেমনি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণেও তার ভূমিকা সহায়ক হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
