তুহিন তার বাবার সঙ্গে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে যায়। সকাল বেলায় তারা দেখতে পায় সমুদ্রের পানি স্ফীত হয়ে উপরে ওঠে এসেছে কিন্তু সন্ধ্যার সময় আবার নেমে গেছে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ।

উত্তরঃ

পৃথিবী নিজ মেরুরেখার উপর চারদিকে অনবরত আবর্তনের ফলে কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়।
কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর প্রতিটি বস্তুই মহাকর্ষ শক্তির বিপরীত দিকে বিকর্ষিত হয় বা ছিটকে যায়। মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে যেখানে জোয়ার হয় তার বিপরীত দিকে কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে সমুদ্রের জল বিক্ষিপ্ত হয়েও জোয়ার সৃষ্টি হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত পানির এরূপ আচরণের কারণ হলো জোয়ার।

সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকার জলরাশি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর ফুলে ওঠে আবার তা ধীরে ধীরে নেমে যায়। জলরাশির এরূপ নিয়মিত ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। জোয়ার সৃষ্টির পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-

চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব: মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে চাঁদ ও সূর্য
পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। কিন্তু চাঁদ পৃথিবীর নিকটে অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবীর উপর সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি। সমুদ্রের জল তরল বলে চাঁদের আকষর্ণে পানি ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থিত বলে এদের উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।

পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি: পৃথিবী নিজ অক্ষের
চারদিকে প্রতিনিয়ত আবর্তন করছে। এই আবর্তনের ফলে চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে সৃষ্ট জোয়ারের বিপরীত দিকে কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবেও জোয়ারের সৃষ্টি হয়।

উত্তরঃ

তুহিনের দেখা সমুদ্রের পানির আচরণটি হলো জোয়ার-ভাটা।

মানবজীবনে জোয়ার-ভাটার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। নিচে উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ার-ভাটার প্রভাব আলোচনা করা হলো-

i. জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে ভূখণ্ড থেকে আবর্জনাসমূহ নদীর মাধ্যমে সমুদ্রে পতিত হয়।
ii. দৈনিক দুবার জোয়ার-ভাটার ফলে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না।'

iii. জোয়ার-ভাটার ফলে সৃষ্ট স্রোতের সাহায্যে নদীখাত গভীর হয়। যেমন- আমেরিকার গ্রান্ড ক্যানিয়ন নদীর খাত।
iv. বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যেমন- কর্ণফুলী নদীতে সৃষ্ট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

V. জোয়ারের পানি সেচে সহায়তা করে। যেমন: খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকিয়ে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয়।
vi. শীতপ্রধান দেশে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জোয়ারের সাহায্যে নদীতে প্রবেশ করে। এর ফলে নদীর পানি সহজে জমে না। ফলে বন্দরগুলো বরফমুক্ত থাকে। যেমন- লন্ডনের টেমস নদীর তীরবর্তী বন্দর।
vii. জোয়ার-ভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হয়। যেমন- বাংলাদেশের দুটি প্রধান সমুদ্রবন্দর (পতেঙ্গা ও মংলা) এবং অন্যান্য উপকূলবর্তী নদীবন্দর (যেমন- আরিচা, দৌলতদিয়া) সচল রাখতে জোয়ার-ভাটার ভূমিকা রয়েছে।

জোয়ার-ভাটার উপকারিতার পাশাপাশি কিছু ক্ষতিকর প্রভাবও লক্ষ্যণীয়। মাঝে মাঝে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে জোয়ারের সময় বান (Tidal bore) ডাকে। ফলে প্রবল স্রোতের কারণে নৌকা, লঞ্চ প্রভৃতি ডুবে যায় এবং নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় জানমালের ক্ষতি হয়। ivate

256

বারিমণ্ডল সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত। পৃথিবীতে জনসংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে এবং সম্পদের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। এর জন্য বারিমণ্ডলের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে। কারণ বারিমণ্ডলের তলদেশে বৈচিত্র্যপূর্ণ গঠন রয়েছে এবং সেখানে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

পৃথিবীর গভীরতম (১০,৮৭০ মিটার) খাতের নাম ম্যারিয়ানা খাত (Mariana trench) যা প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।

2.1k
উত্তরঃ

সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ পর্যন্ত ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান (Continental shelf) বলে।

পৃথিবীর নদীবন্দরগুলোর অধিকাংশই মহীসোপান অঞ্চলে গড়ে ওঠেছে। ফলে এসব অঞ্চলে নৌচলাচল ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। মহীসোপানের তলদেশে খনিজ সম্পদের ভান্ডার থাকায় এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।

1.5k
উত্তরঃ

চিত্রের 'A' চিহ্নিত স্থানের পানির প্রবাহ বা স্রোতটি হলো ল্যাব্রাডর স্রোত। এটি একটি শীতল স্রোত।

উত্তর মহাসাগর হতে আগত দুইটি সুমেরু শীতল স্রোত গ্রীনল্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিণ দিকে' প্রবাহিত হয়ে ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের নিকট মিলিত হয়। এই মিলিত স্রোত শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত নামে পরিচিত। এই স্রোতটি উত্তর আমেরিকার স্থলভাগের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই স্রোতের জন্য উত্তর আমেরিকার ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের বন্দরগুলো বছরের প্রায় নয় মাস বরফে আচ্ছাদিত থাকে। এর উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক ও শীতল হওয়ায় নিকটবর্তী স্থলভাগে বৃষ্টিপাত না হয়ে ব্যাপক তুষারপাত ঘটে। ফলে এ অঞ্চলে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার না হওয়ায় মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।

480
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews