তূর্য দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। একদিন  সে বাসায় একটি ভারী টেবিলের সামনের চেয়ারে বসে টেবিলকে টানতে শুরু করল। কিন্তু চেয়ারসহ সে নিজেই টেবিলের দিকে সরে গেল।পরদিন সে একটি মার্বেলকে রুমের মসৃণ মেঝেতে নির্দিষ্ট বলে গড়িয়ে দিল। এরপর বাসার বাইরে পিচের রাস্তায় একই মার্বেলকে একই বলে গড়িয়ে দিল। তখন এটি তার চেয়ে কম দূরত্ব অতিক্রমকরল।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

নিউটনের গতি বিষয়ক দ্বিতীয় সূত্রটি হলো 'বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই হয়।'

উত্তরঃ

বস্তু যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাই জড়তা। স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম তাকে স্থিতি জড়তা এবং গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে গতিশীল থাকতে চাঁওয়ার যে প্রবণতা বা ধর্ম তাকে গতি জড়তা বলা হয়।

উত্তরঃ

চেয়ারসহ তূর্য টেবিলের দিকে সরে আসার কারণ নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র এবং দ্বিতীয় সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।
নিউটন তাঁর গতিবিষয়ক তৃতীয় সূত্রে বলেছেন 'প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে'। এ সূত্রানুযায়ী তূর্য ভারী টেবিলের সামনে চেয়ারে বসে টেবিলকে টানতে শুরু করায় টেবিলের দিক হতে একটি টান অনুভব করবে, এই টান তার দ্বারা প্রযুক্ত টানের সমান এবং বিপরীতমুখী।
অপরপক্ষে F= ma সমীকরণটি পাই নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র হতে।

এই সূত্রানুসারে ত্বরণের মান বল এবং ভরের অনুপাতের সমান। সুতরাং ভর অত্যন্ত বেশি হলে ত্বরণের মান খুব ক্ষুদ্র হয়, ক্ষেত্রবিশেষে তা শূন্যের কাছাকাছি বা শূন্যও হতে পারে। তুর্য টেবিলের উপর যে টান প্রয়োগ করে তা টেবিলকে নড়াবার জন্য বা গতিশীল করার জন্য যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে টেবিল না নড়ার পেছনে একটি বড় কারণ হলো ঘর্ষণ বল। যে বস্তুর ভর যত বেশি সেটি তত বৃহৎ মানের ঘর্ষণের সম্মুখীন হয়। টেবিলটি অনেক

ভারী হওয়ার কারণে এটিকে নড়াতে প্রচন্ড মানের ঘর্ষণ বল মোকাবেলা করতে হয়, যা তুর্যের প্রযুক্ত বলের পক্ষে সম্ভবপর ছিল না, এক্ষেত্রে তুর্য টেবিলের উপর যে টান বল প্রয়োগ করে তা হলো ক্রিয়া বা ক্রিয়াবল।

টেবিল তার উপর প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে যা ক্রিয়ার বিপরীতমুখী এবং ক্রিয়াবলের সমান। F = ma সূত্রানুসারে তুর্য এবং তার দেহ সংলগ্ন চেয়ারের ভর খুব বেশি না হওয়ার কারণে চেয়ারসমেত তার দেহে ত্বরণ তথা গতির সঞ্চার হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া বলের মান স্পষ্টত ঘর্ষণ বল অপেক্ষা বেশি ছিল।

উত্তরঃ

মার্বেলটির দুইটি স্থানে অতিক্রান্ত দূরত্ব ভিন্ন হওয়ার কারণ হলো 'ঘর্ষণ বল' বা 'ঘর্ষণ'-এর তারতম্য।
আমরা জানি, দুটি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একে অপরের ওপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে বা চলতে থাকে তাহলে বস্তুদ্বয়ের স্পর্শতলে এ গতির বিরুদ্ধে যে বাধার উৎপত্তি হয়, তাকে ঘর্ষণ বলে। যখন কোনো বস্তু অন্য বস্তুর উপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে, তখন ঘর্ষণ বস্তুটিকে থামিয়ে দিতে চেষ্টা করে। অর্থাৎ ঘর্ষণ সর্বদা গতিকে বাধা দেয়।

তুর্য রুমের মসৃণ মেঝেতে এবং পিচের রাস্তায় একই মার্বেলকে একই বলে গড়িয়ে দেয়। মার্বেলটি ছেড়ে দেয়ার পর সে মার্বেলের ওপর আর কোনো বল প্রয়োগ করে না। তবে এর ওপর ঘর্ষণ বল এর গতির বিপরীতে ক্রিয়া করে। ফলে মার্বেলটি এক সময় থেমে যায়। যদি কোনোরূপ ঘর্ষণবল ক্রিয়া না করতো তাহলে নিউটনের গতির প্রথম সূত্রানুসারে মার্বেলটি চিরকাল সুষম গতিতে চলতে থাকতো। কিন্তু রুমের মেঝেতে এবং পিচের রাস্তায় ঘর্ষণ বল ক্রিয়াশীল ছিল। তবে এ দুই স্থানে ঘর্ষণ বলের মান ভিন্ন ছিল। রুমের মেঝেটি মসৃণ হওয়ার কারণে এখানে অনেক কম মানের ঘর্ষণ বল ক্রিয়াশীল ছিল। পক্ষান্তরে পিচের রাস্তায় ঘর্ষণ বলের মান ছিল বৃহৎমানের। তাই রুমের মেঝেতে মার্বেলটি বেশ কিছু পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করলেও পিচের রাস্তায় কম দূরত্ব অতিক্রম করলো।
উভয় ক্ষেত্রে গতির বিপরীতে ঘর্ষণ বল প্রযুক্ত হওয়ায় ঋণাত্বক ত্বরণ বা মন্দনের সৃষ্টি হয়। F=ma সূত্রানুসারে এ মন্দনের মান নির্ভর করে ঘর্ষণ বলের উপর। পিচের রাস্তায় ঘর্ষণ বলের মান বেশি বলে সেখানে মন্দনের মানও বেশি, ফলে মসৃণ মেঝের তুলনায় পিচের রাস্তায় মার্বেলের গতিবেগ অধিকহারে হ্রাস পেয়ে অল্প দূরত্বের মধ্যে মার্বেলটি থেমে

311

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিদিনই আমাদের কোনো কিছুকে টানতে হয়, ঠেলতে হয় কিংবা ধাক্কা দিতে হয়। কোনো বস্তুর গতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাইলেই আমরা সেটাকে টানি, ঠেলি বা ধাক্কা দিই অর্থাৎ বল প্রয়োগ করি। বল প্রয়োগ করে স্থির কর্তৃকে গতিশীল করা যায়, আবার গতিশীল কস্তুর গতি পরিবর্তন করা যায়, এমনকি গতি থামিয়েও দেওয়া যায়। এ অধ্যারে আমরা জড়তা, বল, স্থিতি এবং গতি আলোচনা করব। পতির উপর বলের প্রভাব বোঝার জন্য আমরা নিউটনের প্রথম সূত্র থেকে বলের প্রকৃতি জানব। নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র থেকে বলের পরিমাপ করব এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্র থেকে বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আলোচনা করব।


এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:

  • বস্তুর জড়তা এবং বলের গুণগত ধারণা নিউটনের পতির প্রথম সূত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • জড়তার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • বিভিন্ন প্রকার বলের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে পারব ।
  • ব্যবহারিক জীবনে ঘর্ষণের সুবিধা বর্ণনা করতে পারব।
  • স্থিতি ও গতির ওপর বলের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র ব্যবহার করে বলের পরিমাপ করতে পারব।
  •  সহজ পরীক্ষণের সাহায্যে বল পরিমাপ করতে পারব।
  • নিউটনের তৃতীর সূত্রের সাহায্যে সংঘঠিত কয়েকটি জনপ্রিয় ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • আমাদের জীবনে বলের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

যে বল কেবল দুটি বস্তুর ভৌত সংস্পর্শে এসে পরস্পরের উপর ক্রিয়া করে তাকে স্পর্শ বল বলে।

4.5k
উত্তরঃ

আমরা জানি যে, কোনো বস্তুই নিজে থেকে এর অবস্থান পরিবর্তন করতে চায় না। বস্তু স্থির থাকলে চিরকাল স্থির থাকতে চায়, গতিশীল থাকলে চিরকাল গতিশীল থাকতে চায়। বস্তুর অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বাইরে থেকে কিছু একটা প্রয়োগ করতে হয়, যা বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন করে তাকেই বল বলা হয়।
অর্থাৎ বল হলো সেই ভৌত রাশি যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় বা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায়।

3.5k
উত্তরঃ

ধরি, বাসটির উপর ক্রিয়াশীল বলের মান F

এখানে, বাসের ভর, m- ১৪০০ কেজি

ত্বরণ, এ ৪ মি/সে

বল F=?

আমার জানি, F = ma

= ১৪০০ কেজি × ৪ মি/সে' ৫৬০০ নিউটন

সুতরাং বাসটির ওপর ক্রিয়াশীল বলের মান ৫৬০০ নিউটন।

1.9k
উত্তরঃ

বস্তু তার গতির যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাকে জড়তা বলে।
স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাকে স্থিতি জড়তা এবং গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে গতিশীল থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা ধর্ম তাকে গতি জড়তা বলা হয়।
গতিশীল বাস যখন থেমে যায় তখন যাত্রীর শরীরের নিচের অংশ বাসের সাথে থেমে যায়। কিন্তু উপরের অংশ তখনও গতিশীল থাকার কারণে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে গতি জড়তার কারণে হঠাৎ গাড়িটি থামালে চলন্ত গাড়ির যাত্রীগণ সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। পক্ষান্তরে বাসটি পুনরায় চলতে শুরু করলে যাত্রীদের শরীরের নিচের অংশ গাড়ির সাথে চলতে শুরু করে, কিন্তু উপরের অংশ বাস সংলগ্ন না হওয়ায় তা পেছনের দিকে হেলে পড়ে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে স্থিতি।

জড়তার কারণে স্থির বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন।
সুতরাং যাত্রীরা প্রথমে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লেও পরবর্তীতে পিছনে হেলে পড়ার কারণ হলো- যাত্রীদের উপর প্রথম ক্ষেত্রে গতি জড়তা কাজ করলেও পরের ক্ষেত্রে স্থিতি জড়তা কাজ করে।

1.1k
উত্তরঃ

নিউটনের গতি বিষয়ক দ্বিতীয় সূত্রটি হলো 'বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই হয়।'

897
উত্তরঃ

বস্তু যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাই জড়তা। স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম তাকে স্থিতি জড়তা এবং গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে গতিশীল থাকতে চাঁওয়ার যে প্রবণতা বা ধর্ম তাকে গতি জড়তা বলা হয়।

3k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews