'তোতা-কাহিনি' গল্পটির প্রধান চরিত্র তোতা পাখি। গল্পটিতে তোতা পাখির জীবনের কঠিন পরিণতি ও জীবনচিত্র নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় গল্পটির নামের সার্থকতা বিদ্যমান।
'তোতা-কাহিনি' গল্পে একটি মূর্খ তোতা পাখি ছিল, যেটি গান গাইতে পারত, শাস্ত্র পড়তে জানত না। সেটির বিদ্যার প্রসঙ্গে রাজা, মন্ত্রিবর্গ ও নিকটাত্মীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা জানাল যে পাখিটি খড়কুটা নির্ভর ছোট্ট নীড়ে বাস করে বলে বিদ্যা উপযুক্তভাবে ধরে না। তখন রাজা তোতা পাখির জন্য স্যাকরা দ্বারা স্বর্ণখাঁচা বানালেন এবং পাখিকে আবদ্ধ করে রাখলেন। তোতা পাখিকে জোরজবরদস্তি করে রাশি রাশি পুথি খাওয়াতে লাগলেন। ফলে পাখিটির গান বন্ধ হয়ে গেল, এমনকি চিৎকার করার সুযোগটুকু পর্যন্ত রইল না। দিনদিন পাখিটা মৃতপ্রায় অবস্থায় উপনীত হলো। তবু সে বাঁচার আশায় পাখা ঝাঁপটাতে থাকে। পাখিটি যেন আর ডানা ঝাঁপটাতে না পারে এজন্য তার পাখাও কেটে দেওয়া হয়। এসব অত্যাচারের ফলে পাখিটা মারা যায়। এরই সঙ্গে সমাপ্ত হয় তোতা পাখির জীবনের করুণ কাহিনি।
যেহেতু 'তোতা-কাহিনি' গল্পটি তোতা পাখির মর্মান্তিক পরিণতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে তাই বলা যায়, গল্পটির নামকরণ সার্থক।
Related Question
View Allশেষ পর্যন্ত পাখিটি মারা গিয়েছিল।
রাজার নির্দেশে তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সোনার খাঁচা বানিয়ে তাতে পাখিকে বন্দি করে রাখা হয়। তারপর তাকে শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়। পণ্ডিতেরা আরও বেশি বেশি পুঁথি লিখিয়ে নেয়। লিপিকররা মোটা অঙ্কের পুরস্কার নিয়ে চলে যায়। স্যাকরা, কামার, মন্ত্রী সবাই লাভবান হয়। । আর শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাখির মুখে ঠেসে দেওয়া হয় পুঁথি। এভাবেই ধীরে ধীরে পাখিটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পাখিকে মুক্ত বাতাসে উড়তে না দিয়ে শিক্ষা দেওয়ার নাম করে খাঁচায় রেখে অত্যাচার করার কারণেই পাখিটির শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটে।
উদ্দীপকের পাখির সঙ্গে 'তোতা-কাহিনি' গল্পের তোতা পাখির পরিণতির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করতে চায়। সেই অধিকার সবারই আছে। তাই কারও, স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
উদ্দীপকের চিত্রে দুটি, তোতা পাখিকে দেখা যায়। এগুলো বন্দি অবস্থায় নেই, এগুলো মুক্ত। এগুলোকে শিক্ষা দেওয়ার মতো কোনো দৃশ্য চিত্রে দেখা যায় না। 'তোতা-কাহিনি' গল্পে তোতা পাখিকে খাঁচায় বন্দি করে শিক্ষা দেওয়ার নামে অত্যাচার করা হয়েছে। সেখানে মুক্ত আকাশের পাখিকে ধরে এনে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় মানুষ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে 'তোতা-কাহিনি' গল্পের পাখির পরিণতির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রটি 'তোতা-কাহিনি' গল্পের মূলভাবকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত করে।
সমাজে নিয়মের চেয়ে অনিয়ম বেশি। এই অনিয়মকেই আমরা আজকাল নিয়ম বানিয়ে ফেলেছি। অনিয়ম দিয়েই চলছে সমাজ, সভ্যতা। আমাদের উচিত সমাজ থেকে এই অনিয়মগুলো নির্মূল করা।
উদ্দীপকের চিত্রে একপাশে খাঁচা এবং তার পাশে উন্মুক্ত পাখি দেখা যায়। এখানে পাখির স্বাধীনভাবে থাকার এবং মুক্তজীবনের ইঙ্গিত রয়েছে। 'তোতা-কাহিনি' গল্পে তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার নাম করে অনেক নির্যাতন করা হয়। পাখিটির মৃত্যু হয়। আসলে পাখির শিক্ষার কোনো প্রয়োজন ছিল না। পাখির শিক্ষার নামে অন্যদের স্বার্থ হাসিলের চিত্র ফুটে উঠেছে গল্পে। মূলত গল্পে অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে স্বার্থ হাসিলের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
স্বাধীনতা সকলের জন্মগত অধিকার। উদ্দীপকে পাখির মুক্ত ও স্বাধীনভাবে থাকার মাধ্যমে সার্বিক স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে 'তোতা-কাহিনি' গল্পে পাখির পরাধীনতার কথা ফুটে উঠেছে। উভয়, জায়গায় মূলত ফুটে উঠেছে যে, প্রকৃতির একটা স্বাভাবিক নিয়ম রয়েছে। তা রোধ করলে অনর্থ হয়, যা আলোচ্য গল্পের পাখির পরিণতির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। পাখির পরিণতি প্রকাশ করে স্বাধীনতার অধিকার সবার। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই সরাই বেঁচে থাকে, যা উদ্দীপকের চিত্রে প্রকাশ পেয়েছে।
নিন্দুক ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়েছিল।
নিয়ম-কানুন না জানার কারণে রাজার মতে পাখিটা মূর্খ ছিল।
রাজার মতে পাখিটা ছিল মূর্খ। কারণ সে গান গাইতে পারত, কিন্তু শাস্ত্র পড়ত না। লাফালাফি করত, উড়ে বেড়াত, কিন্তু কায়দা-কানুন কিছুই জানত না। রাজা মনে করেছিল লেখাপড়া না জানার কারণে পাখিটা ছিল মূর্খ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
