বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটোগল্প হলো 'তোতা-কাহিনি'। এখানে একটি তোতা পাখিকে জোর করে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা এবং এর করুণ পরিণতি ফুটে উঠেছে। বন থেকে স্বাধীন তোতা পাখিকে ধরে এনে রাজা সোনার খাঁচায় বন্দি করেন। এরপর ভাগনে, পণ্ডিত, পুথিলেখক, লিপিকর, স্যাকরা, কামার, কোতোয়াল সবাইকে রাজা পাখিকে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কাজে লাগান। এ বিশাল আয়োজনের জন্য অনেক লোক লাগে এবং তাদের উপর নজর রাখার জন্য আরও লোক লাগানো হয়।
'তোতা-কাহিনি' গল্পে একটি তোতা পাখি বনে বাস করত। সে সারাদিন লাফাত, উড়ত, গান গাইত; কিন্তু শাস্ত্র পড়ত না। পাখির কর্মকান্ড দেখে রাজ্যের রাজা ভাবলেন এই মূর্খ পাখি কোনো কাজে লাগে না। বরং বনের ফল খেয়ে রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়। তাই তিনি মন্ত্রীকে ডেকে পাখিটিকে শিক্ষা দিতে বললেন। রাজার ভাগনেদের উপর পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পড়ল। প্রথমেই পণ্ডিতেরা বসে পাখির অবিদ্যার কারণ অনুসন্ধান করলেন। তাঁরা ভালো করে খাঁচা বানানোর পরামর্শ দিলেন। তাঁদের কথা শুনে রাজা খুশি হয়ে সবাইকে দক্ষিণা দিলেন।
এরপর শুরু হলো স্যাকরার কাজ। সে সোনা দিয়ে অত্যন্ত সুন্দর একটি খাঁচা তৈরি করল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে লাগল সেই আশ্চর্য খাঁচা দেখার জন্য। রাজা স্যাকরাকেও থলি বোঝাই বকশিশ দিলেন।
তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার বিশাল আয়োজন তো সোনার খাঁচা বানানোর মাধ্যমে কেবল শুরু হলো। খাঁচা বানানোর পরে পণ্ডিত পাখিকে লেখাপড়া শেখাতে বসলেন। কিন্তু পাখিকে শিক্ষিত করা অল্প পুথির কাজ নয়, এর জন্য আরও অনেক পুথি প্রয়োজন। ফলে লিপিকরদের ডেকে আনা হলো এবং তারা পুথির নকল করে পাহাড় সমান করে তুলল। রাজা তাদেরকেও পারিতোষিক দিয়ে সন্তুষ্ট করলেন। এরপর চলতে লাগলো মূল্যবান খাঁচাটার যত্ন-আত্তি। খাঁচার জন্য ভাগনেদের খবরদারির সীমা নেই। মেরামত, ঝাড়া-মোছা, পালিশ করা হতে লাগল নিয়মিত। খাঁচার দেখভাল করার জন্য অনেক লোককে নিয়োগ দেওয়া হলো এবং তাদের কাজ তদারকি করার জন্য আরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হলো। সবাই রাজার কাছ থেকে মুঠো মুঠো পারিশ্রমিক নিয়ে সিন্দুক বোঝাই করতে লাগল।
রাজা তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি। পাখির জন্য আলাদা শিক্ষামালার ব্যবস্থা করেছেন এবং শিক্ষাপদ্ধতি তদারকের জন্য বিস্তর লোক রেখেছেন। কিন্তু তারা সবাই শুধু সোনার খাঁচাটিরই যত্ন নিয়েছে। পাখির যত্নের কথা কেউ ভেবে দেখেনি। খাঁচার মধ্যে দানা-পানির অভাবে পাখিটি আধমরা অবস্থায় পড়ে থাকে। তাকে শিক্ষা দেওয়ার বিশাল আয়োজন আসলে পাখির কোনো কাজে লাগে না। বরং এ আয়োজন পাখিটিকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত এ অত্যাচারের কারণে তোতা পাখিটি মারা যায়। এভাবেই তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য রাজার বাড়াবাড়ি রকমের আয়োজন ও জবরদস্তি করুন রূপ ধারণ করে পাখির মৃত্যুর কারণে পরিণত হয়।
Related Question
View Allশেষ পর্যন্ত পাখিটি মারা গিয়েছিল।
রাজার নির্দেশে তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সোনার খাঁচা বানিয়ে তাতে পাখিকে বন্দি করে রাখা হয়। তারপর তাকে শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়। পণ্ডিতেরা আরও বেশি বেশি পুঁথি লিখিয়ে নেয়। লিপিকররা মোটা অঙ্কের পুরস্কার নিয়ে চলে যায়। স্যাকরা, কামার, মন্ত্রী সবাই লাভবান হয়। । আর শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাখির মুখে ঠেসে দেওয়া হয় পুঁথি। এভাবেই ধীরে ধীরে পাখিটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পাখিকে মুক্ত বাতাসে উড়তে না দিয়ে শিক্ষা দেওয়ার নাম করে খাঁচায় রেখে অত্যাচার করার কারণেই পাখিটির শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটে।
উদ্দীপকের পাখির সঙ্গে 'তোতা-কাহিনি' গল্পের তোতা পাখির পরিণতির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করতে চায়। সেই অধিকার সবারই আছে। তাই কারও, স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
উদ্দীপকের চিত্রে দুটি, তোতা পাখিকে দেখা যায়। এগুলো বন্দি অবস্থায় নেই, এগুলো মুক্ত। এগুলোকে শিক্ষা দেওয়ার মতো কোনো দৃশ্য চিত্রে দেখা যায় না। 'তোতা-কাহিনি' গল্পে তোতা পাখিকে খাঁচায় বন্দি করে শিক্ষা দেওয়ার নামে অত্যাচার করা হয়েছে। সেখানে মুক্ত আকাশের পাখিকে ধরে এনে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় মানুষ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে 'তোতা-কাহিনি' গল্পের পাখির পরিণতির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রটি 'তোতা-কাহিনি' গল্পের মূলভাবকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত করে।
সমাজে নিয়মের চেয়ে অনিয়ম বেশি। এই অনিয়মকেই আমরা আজকাল নিয়ম বানিয়ে ফেলেছি। অনিয়ম দিয়েই চলছে সমাজ, সভ্যতা। আমাদের উচিত সমাজ থেকে এই অনিয়মগুলো নির্মূল করা।
উদ্দীপকের চিত্রে একপাশে খাঁচা এবং তার পাশে উন্মুক্ত পাখি দেখা যায়। এখানে পাখির স্বাধীনভাবে থাকার এবং মুক্তজীবনের ইঙ্গিত রয়েছে। 'তোতা-কাহিনি' গল্পে তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার নাম করে অনেক নির্যাতন করা হয়। পাখিটির মৃত্যু হয়। আসলে পাখির শিক্ষার কোনো প্রয়োজন ছিল না। পাখির শিক্ষার নামে অন্যদের স্বার্থ হাসিলের চিত্র ফুটে উঠেছে গল্পে। মূলত গল্পে অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে স্বার্থ হাসিলের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
স্বাধীনতা সকলের জন্মগত অধিকার। উদ্দীপকে পাখির মুক্ত ও স্বাধীনভাবে থাকার মাধ্যমে সার্বিক স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে 'তোতা-কাহিনি' গল্পে পাখির পরাধীনতার কথা ফুটে উঠেছে। উভয়, জায়গায় মূলত ফুটে উঠেছে যে, প্রকৃতির একটা স্বাভাবিক নিয়ম রয়েছে। তা রোধ করলে অনর্থ হয়, যা আলোচ্য গল্পের পাখির পরিণতির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। পাখির পরিণতি প্রকাশ করে স্বাধীনতার অধিকার সবার। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই সরাই বেঁচে থাকে, যা উদ্দীপকের চিত্রে প্রকাশ পেয়েছে।
নিন্দুক ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়েছিল।
নিয়ম-কানুন না জানার কারণে রাজার মতে পাখিটা মূর্খ ছিল।
রাজার মতে পাখিটা ছিল মূর্খ। কারণ সে গান গাইতে পারত, কিন্তু শাস্ত্র পড়ত না। লাফালাফি করত, উড়ে বেড়াত, কিন্তু কায়দা-কানুন কিছুই জানত না। রাজা মনে করেছিল লেখাপড়া না জানার কারণে পাখিটা ছিল মূর্খ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
