রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বাস্তবধর্মী কিন্তু কল্পনা আশ্রিত ছোটোগল্প হলো 'তোতা-কাহিনি'। এখানে তিনি তোতা পাখির সাথে ঘটা করুন ঘটনার মাধ্যমে সমাজে অপশিক্ষার প্রতিফলকে উপস্থাপন করেছেন। আর গল্পটির কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে রাজার একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত। এসব সিদ্ধান্ত রাজার নির্বুদ্ধিতারই পরিচয় দেয়।
তোতা-কাহিনি' গল্পে একবার এক মূর্খ তোতা পাখির শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন রাজা। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় শিক্ষা দেওয়া হবে সে বিষয়ে রাজা কোনো পরিকল্পনা করেন না। ফলে তিনি তার ভাগনেদের উপর পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্বভার অর্পণ করেন। তারা রাজপণ্ডিতদের পরামর্শে পাখির জন্য স্যাকরাকে দিয়ে সোনার খাঁচা তৈরি করায়। রাজার প্রথম নির্বুদ্ধিতা ছিল পাখিকে সোনার খাঁচায় বন্দি করা। এতে পাখির স্বাধীনতা ও শিক্ষার স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।
'তোতা-কাহিনি' গল্পে রাজা দ্বিতীয়বার নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেন তাঁর ভাগনেদের উপর অন্ধভাবে বিশ্বাস করার মাধ্যমে। তিনি তাদেরকে শিক্ষাশালার সমস্ত দায়িত্ব দিয়ে নিজে নির্ভার থাকেন। আর ভাগনেরা নানারকম মেরামত, পালিশ, নজরদারির অজুহাত দেখিয়ে রাজার কাছ থেকে 'কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ও উপঢৌকন আদায় করতে থাকে। স্যাকরা, লিপিকর, পণ্ডিত, কোতোয়াল সবাই ফুলে-ফেঁপে ওঠে এবং তাদের আত্মীয় স্বজনদেরও তোতা পাখির শিক্ষাশালায় কোনো না কোনো কাজ জুটে যায়।
'তোতা-কাহিনি' গল্পের রাজার তৃতীয় ও সবচেয়ে মারাত্মক নির্বুদ্ধিতা হলো নিন্দুকদের কথা আমলে না নেওয়া। নিন্দুকেরা রাজাকে বারবার সতর্ক করেছিল যাতে তিনি পাখির প্রকৃত অবস্থার খোঁজ নেন। কিন্তু তিনি তা না করে উলটো নিন্দুকদেরকেই শাস্তি দিয়েছেন। এর ফলস্বরূপ একসময় তোতা পাখিটি মারা যায়। পদে পদে রাজার নির্বুদ্ধিতাই তোতা পাখির মৃত্যুর মূল কারণ।
সুতরাং, বলা যায় যে, শিক্ষার স্বাভাবিক পথকে রুদ্ধ করে তোতা পাখিকে জোর করে শিক্ষা দেওয়ার বিরাট আয়োজনের প্রতিটি পর্যায়েই রাজার নির্বুদ্ধিতার প্রতিফলন ঘটেছে।
Related Question
View Allশেষ পর্যন্ত পাখিটি মারা গিয়েছিল।
রাজার নির্দেশে তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সোনার খাঁচা বানিয়ে তাতে পাখিকে বন্দি করে রাখা হয়। তারপর তাকে শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়। পণ্ডিতেরা আরও বেশি বেশি পুঁথি লিখিয়ে নেয়। লিপিকররা মোটা অঙ্কের পুরস্কার নিয়ে চলে যায়। স্যাকরা, কামার, মন্ত্রী সবাই লাভবান হয়। । আর শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাখির মুখে ঠেসে দেওয়া হয় পুঁথি। এভাবেই ধীরে ধীরে পাখিটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পাখিকে মুক্ত বাতাসে উড়তে না দিয়ে শিক্ষা দেওয়ার নাম করে খাঁচায় রেখে অত্যাচার করার কারণেই পাখিটির শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটে।
উদ্দীপকের পাখির সঙ্গে 'তোতা-কাহিনি' গল্পের তোতা পাখির পরিণতির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করতে চায়। সেই অধিকার সবারই আছে। তাই কারও, স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
উদ্দীপকের চিত্রে দুটি, তোতা পাখিকে দেখা যায়। এগুলো বন্দি অবস্থায় নেই, এগুলো মুক্ত। এগুলোকে শিক্ষা দেওয়ার মতো কোনো দৃশ্য চিত্রে দেখা যায় না। 'তোতা-কাহিনি' গল্পে তোতা পাখিকে খাঁচায় বন্দি করে শিক্ষা দেওয়ার নামে অত্যাচার করা হয়েছে। সেখানে মুক্ত আকাশের পাখিকে ধরে এনে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় মানুষ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে 'তোতা-কাহিনি' গল্পের পাখির পরিণতির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রটি 'তোতা-কাহিনি' গল্পের মূলভাবকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত করে।
সমাজে নিয়মের চেয়ে অনিয়ম বেশি। এই অনিয়মকেই আমরা আজকাল নিয়ম বানিয়ে ফেলেছি। অনিয়ম দিয়েই চলছে সমাজ, সভ্যতা। আমাদের উচিত সমাজ থেকে এই অনিয়মগুলো নির্মূল করা।
উদ্দীপকের চিত্রে একপাশে খাঁচা এবং তার পাশে উন্মুক্ত পাখি দেখা যায়। এখানে পাখির স্বাধীনভাবে থাকার এবং মুক্তজীবনের ইঙ্গিত রয়েছে। 'তোতা-কাহিনি' গল্পে তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার নাম করে অনেক নির্যাতন করা হয়। পাখিটির মৃত্যু হয়। আসলে পাখির শিক্ষার কোনো প্রয়োজন ছিল না। পাখির শিক্ষার নামে অন্যদের স্বার্থ হাসিলের চিত্র ফুটে উঠেছে গল্পে। মূলত গল্পে অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে স্বার্থ হাসিলের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
স্বাধীনতা সকলের জন্মগত অধিকার। উদ্দীপকে পাখির মুক্ত ও স্বাধীনভাবে থাকার মাধ্যমে সার্বিক স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে 'তোতা-কাহিনি' গল্পে পাখির পরাধীনতার কথা ফুটে উঠেছে। উভয়, জায়গায় মূলত ফুটে উঠেছে যে, প্রকৃতির একটা স্বাভাবিক নিয়ম রয়েছে। তা রোধ করলে অনর্থ হয়, যা আলোচ্য গল্পের পাখির পরিণতির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। পাখির পরিণতি প্রকাশ করে স্বাধীনতার অধিকার সবার। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই সরাই বেঁচে থাকে, যা উদ্দীপকের চিত্রে প্রকাশ পেয়েছে।
নিন্দুক ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়েছিল।
নিয়ম-কানুন না জানার কারণে রাজার মতে পাখিটা মূর্খ ছিল।
রাজার মতে পাখিটা ছিল মূর্খ। কারণ সে গান গাইতে পারত, কিন্তু শাস্ত্র পড়ত না। লাফালাফি করত, উড়ে বেড়াত, কিন্তু কায়দা-কানুন কিছুই জানত না। রাজা মনে করেছিল লেখাপড়া না জানার কারণে পাখিটা ছিল মূর্খ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
