ব্যক্তির সমষ্টিকে এক কথায় জাতি বলা যায়।
আমাদের দেশে জনশক্তি গঠিত হতে পারছে না, কারণ আমরা আমাদের 'দশ আনা' জনশক্তিকে উপেক্ষা করে আসছি।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক সাম্যবাদী চেতনা এবং গণতন্ত্রের জন্য উপেক্ষিত শক্তির জাগরণের দিকটি তুলে ধরেছেন। উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন বলতে লেখক পতিত, চণ্ডাল, ছোটলোকদের ঐক্যবদ্ধ মহাশক্তির যথার্থ মূল্যায়ন ও ব্যবহারকে বুঝিয়েছেন। দেশের ষোলো আনা শক্তির মধ্যে এই শ্রেণি-গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে দশ আনা শক্তি। ফলে দশ আনা শক্তিকে কাজে না লাগিয়ে ছয় আনা শক্তিতে দেশের কল্যাণ ও উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। কাজেই বিশ্বসভায় নিজেদের আসন লাভ করতে হলে এই দশ আনা উপেক্ষিত শক্তির কোনো বিকল্প নেই। অথচ এদেশে তাদের পেছনে রেখে একদল অত্যাচারী নিজেদের স্বার্থরক্ষায় তাদেরকে উপেক্ষা ও নির্যাতন করে চলছে।
উদ্দীপকের মজুর, মুটে ও কুলি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের তথাকথিত 'ছোটলোক' সম্প্রদায়ের সমার্থক।
দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে মানুষের সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টার উপর। কোনো একটি বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর পক্ষে এককভাবে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়। যুগে যুগে যত উন্নতি ও অগ্রগতি হয়েছে তা সবার ঐক্যবদ্ধ শ্রমের মাধ্যমেই হয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি সমাজের নিম্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ জয়গান গেয়েছেন। কবি এখানে বড়লোক বলে আত্মপরিচয়দানকারী তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়ের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছে সেই শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। এসব মানুষ 'উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' প্রবন্ধে উল্লেখকৃত তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়ের সমার্থক। আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক বলেছেন এসব মানুষের ওপরই আমাদের দেশের দশ আনা শক্তি নির্ভর করে। এই তথাকথিত 'ছোটলোক' সম্প্রদায়ের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ। তাদের অবহেলা করার কারণেই দেশ আজ অধঃপতনের দিকে ধাবিত। দেশে জনশক্তি বা গণতন্ত্র গঠিত হতে পারছে না। প্রবন্ধের এই উপেক্ষিত মানুষেরা উদ্দীপকের মুটে-মজুর-কুলিদের সমার্থক।
উদ্দীপকের মূলভাব 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র। মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগে যুগে শোষিত-বঞ্চিতরাই সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছে; মানবসভ্যতার বিকাশ ও উন্নয়ন ঘটিয়েছে। অথচ তারাই তথাকথিত ভদ্র সমাজের চোখে ছোটলোক, ছোট জাত বলে অবহেলিত, নির্যাতিত। আভিজাত্যবোধ ও বংশগৌরবকে পুঁজি করে আমাদের সমাজে যে তথাকথিত ভদ্র সমাজ গড়ে ওঠে তাদের দ্বারা দেশ ও জাতির প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। কারণ তারা স্বার্থপর, শোষক।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি নিম্নশ্রেণির মানুষের অবদান তুলে ধরেছেন। তারাই যে সভ্যতা নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, তাদের চেষ্টা ও ঐক্যবদ্ধ শক্তি দ্বারাই যে সভ্যতা এগিয়ে চলে- সেই সত্যটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। এই বিষয়টি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকের এই চেতনা ছাড়াও প্রবন্ধে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে প্রাবন্ধিক সব জাত-ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ জাগরণ কামনা করেছেন।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্দ্দ্বোধন' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, আমাদের সমাজের বৃহৎ অংশ অর্থাৎ কৃষক, শ্রমিক, চণ্ডাল, মুচি আজ অবহেলিত। দেশের মোট শক্তির হিসাবে তারা দশ আনা শক্তি। এই দশ আনা শক্তি বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়ে ছয় আনা শক্তির কাছে অবহেলিত, নির্যাতিত। অথচ জগতের বড় বড় যত অর্জন আছে সেগুলোর পেছনে এই শক্তির অবদান সবচেয়ে বেশি। এই দশ আনা শক্তির উদবোধন ও প্রয়োজনীয়তার যেসব দিক আলোচ্য প্রবন্ধে প্রতিফলিত হয়েছে সেগুলো উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। সেখানে একটি বিশেষ দিকই প্রতিফলিত হয়েছে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!