তোমার কলেজে মহান বিজয় দিবস উদযাপন বিষয়ে একটি দিনলিপি রচনা কর।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ টাঙ্গাইল।

ভোর পাঁচটায় ঘুম ভেঙে গেল। মা উঠে গেছেন আগেই। নাশতা তৈরি করছেন। আমাকে তাড়াতাড়ি তৈরি হতে বললেন। আজ বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাস ধরে মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ শত্রুমুক্ত হয়। এই দিন চূড়ান্ত পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। কাজেই আজকের দিনটি বাঙালি জাতির জন্য পরম পবিত্র ও তাৎপর্যময় দিন।

আমাদের কুমুদিনী কলেজ থেকে সকাল ৬টায় বিজয় র‍্যালি বের হবে। আমি যথাসময়ে পৌঁছে 'জয় বাংলা' স্লোগান মুখর বিজয় র‍্যালিতে অংশ নিলাম। শহরের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিজয় র‍্যালি আবার কলেজ গেটে এসে থামল। আমরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলাম। সেখানে শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট নীরবতা পালন করলাম। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করা হলো। পাশেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংবলিত চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করলেন কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়। ছবিগুলো সংগ্রহ করেছে 'আমরা মুক্তিযুদ্ধের সন্তানরা'। এতে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চ এর ভাষণ, ২৫ শে মার্চের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ, পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের হত্যাযজ্ঞ, মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্মম অত্যাচার, নারীর সম্ভ্রম হরণ, নির্যাতন, গ্রামে গ্রামে অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ও হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য, পরাজিত পাকিস্তানি সেনাদের পিছু হটে যাওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশন, খন্ডযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণ, মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন বৈঠক, এলাকাবাসীর সর্তক অবস্থান ইত্যাদি বিষয়ে চিত্রগুলো চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল। সেগুলো অপূর্ব দীপ্তি ছড়াল হৃদয় জুড়ে।

সকাল ৯টায় কলেজ মিলনায়তনে শুরু হলো আলোচনা সভা। পর্যাক্রমে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি হলো। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইল, বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষক ও সাহিত্যিক ডা. মাহবুব সাদিক, কবি ও সাংবাদিক সাজ্জাদ কাদির ও কবি বুলবুল খান মাহবুব। তাঁদের তথ্যনির্ভর ও জ্ঞানগর্ভ আলোচন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আমি একটি পূর্ণ ধারণা লাভ করলাম। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করছিল কলেজের ছাত্রীরা। আমিও কবি শামসুর রহমানের 'স্বাধীনতা তুমি' কবিতাটি আবৃত্তি করেছি। মিলনায়তনের দর্শক-শ্রোতারা দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেছিল। এই উজ্জীবিত হৃদয় দেশ ও জাতির কল্যাণে অকৃপণভাবে নিবেদিত হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার সংগ্রামে দৃপ্ত সৈনিক হওয়ার আহবান জানিয়ে অধ্যক্ষ মহোদয় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করলেন। বাসায় ফিরে এসে মাকে আমার অনুভূতি জানালাম। যাঁরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন তাঁদের মতো দেশপ্রেমিক হতে মা আমাকে আশীর্বাদ করলেন। টিভিতে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উপভোগ করার পর রাত ১১টায় ঘুমাতে গেলাম।

3.7k

Related Question

View All
উত্তরঃ

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বুধবার
রাত ১০টা
ঢাকা
আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। শীতের পরে বসন্ত এসে প্রকৃতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়, বসন্তের প্রকৃতি আমার খুব ভালো লাগে। আমাদের কলেজে প্রতিবছরই বসন্তবরণে একটি অনুষ্ঠান হয়। আজ সকালে আমি বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়েছিলাম। কলেজের মাঠে একটি মন্ঞ্চ বানিয়ে সেখানে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে গান, কবিতা, নাচ ইত্যাদি পরিবেশনার সঙ্গে চলছিল বসন্ত বন্দনা। একজন গেয়েছিল লগ্নজিতার 'বসন্ত এসে গেছে' গানটি। তবে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আহা আজি-এ বসন্তে' গানটির পরিবেশনা। আমার ফন্ধু সাদিয়া 'ফুলে ফুলে ঢোলে, ঢোলে...' গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছিল। অনুষ্ঠান শেষে একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে সংগীত পরিবেশন করেছিল শিল্পী অর্ণব। কনসার্ট শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন আমাদের কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি তার বক্তব্যে বসন্তবরণের সঙ্গে বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলেন। কিছুক্ষণ আগেই বাসায় এসেছি। আজ সারা দিন খুব আনন্দে কেটেছে, আবার কবে বসন্ত আসবে তার জন্য আমি অপেক্ষা করছি।

22.2k
উত্তরঃ

আজ ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

মঙ্গলবার

প্রিয় দিনলিপি,

আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। সারা বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকি, আর আজ সেই আনন্দঘন দিনটি কাটানোর পর আমার মন এক অনাবিল তৃপ্তিতে ভরে আছে। সকাল থেকেই বাড়ির সবার মধ্যে এক উৎসবের আমেজ ছিল। মা সকালে উঠেই পান্তা-ইলিশ আর নানা রকম ভর্তা তৈরি করছিলেন। নতুন লাল-সাদা শাড়ি পরে, বাবা-মা আর ছোট বোনকে নিয়ে প্রথমে আমরা রমনা বটমূলে গিয়েছিলাম। সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। সবার পরনেই ছিল বৈশাখী পোশাক, যা দেখে মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। মনে হয় যেন সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

রমনার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো ছিল মনোমুগ্ধকর। শিল্পীরা যখন দেশের গান গাইছিলেন আর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করছিলেন, তখন গর্বে আমার বুক ভরে উঠছিল। এরপর আমরা বৈশাখী মেলায় ঘুরতে গেলাম। মেলায় হরেক রকম গ্রামীণ পসরা, মাটির জিনিসপত্র, খেলনা আর মুখরোচক খাবারের দোকানে উপচে পড়া ভিড়। আমি মাটির চুড়ি আর একটি ছোট মাটির পুতুল কিনলাম। এরপর বন্ধুদের সাথে দেখা হলো, সবাই মিলে একসাথে ফুচকা খেলাম আর আড্ডা দিলাম। এই দিনটায় যেন কোনো ক্লান্তি আসে না, শুধু আনন্দ আর উদ্দীপনা কাজ করে।

বিকেলে বাসায় ফিরেও উৎসবের রেশ ছিল। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা এসেছিলেন শুভেচ্ছা জানাতে। সবার মুখে হাসি আর নতুন বছরের জন্য শুভকামনা। এই দিনটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দেয়। নতুন বছর নতুন করে বাঁচতে শেখায়, পুরনো সব গ্লানি ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়। আমি আশা করি, নতুন বছরটি সবার জন্য বয়ে আনুক সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি। দিনটি সত্যিই অসাধারণ কেটেছে। এই অনুভূতিগুলো আজীবন মনে থাকবে।

শুভ নববর্ষ!

ইতি,
[তোমার নাম]

Satt AI
Satt AI
3 days ago
2.3k
উত্তরঃ

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
বুধবার, রাত ১০:৪৫

প্রিয় দিনলিপি,

আজকের দিনটি ছিল একুশের চেতনায় উদ্ভাসিত। আমাদের কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই আমরা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী নির্বিশেষে, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত হয়েছিলাম। সকাল ৬টায় শুরু হয় প্রভাতফেরি। সাদা পোশাকে, খালি পায়ে, হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে আমরা যখন কলেজের শহীদ মিনারের দিকে ধীর পদক্ষেপে এগোচ্ছিলাম, তখন "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" গানটি যেন আমাদের অন্তরাত্মাকে স্পর্শ করছিল। সকলের চোখে ছিল গভীর শোক ও শ্রদ্ধার মিশ্রণ।

শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর অধ্যক্ষ মহোদয় সংক্ষিপ্ত কিন্তু আবেগময় এক ভাষণ দেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ এবং মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের অবিস্মরণীয় ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর বক্তব্যে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। সকাল ৯টায় কলেজের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

আলোচনা সভায় কলেজের বাংলা ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপকগণ ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশ্বব্যাপী গুরুত্ব এবং ভাষার বৈচিত্র্য রক্ষায় এর ভূমিকা নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রবন্ধ পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। বিশেষ করে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটকটি দর্শকদের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে। শহীদদের আত্মত্যাগের দৃশ্যায়ন এবং বাংলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রদর্শিত হওয়ায় সকলের চোখ সজল হয়ে ওঠে। আজকের দিনটি শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না, এটি ছিল আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতিধ্বনি এবং বাংলা ভাষার মহিমা উপলব্ধির এক অনন্য সুযোগ। শহীদদের রক্তস্নাত এই দিনে তাঁদের প্রতি আবারও জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

আজ এই পর্যন্তই।

তোমার একান্ত,
[তোমার নাম]

Satt AI
Satt AI
3 days ago
2.9k
উত্তরঃ

তারিখ: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বুধবার


প্রিয় দিনলিপি,

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিনটি প্রতি বছরই আমার মনে এক গভীর অনুভূতি নিয়ে আসে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় আমার মন ভরে ওঠে। সকাল থেকেই আমার মনে এক মিশ্র আবেগ কাজ করছে – একদিকে যেমন গর্ব অনুভব করছি এমন একটি ভাষার অধিকারী হতে পেরে, যার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে তেমনই বেদনাবোধ করছি সেইসব বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা ভেবে, যারা আমাদের মায়ের ভাষা রক্ষার জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে গিয়ে মনটা আরও আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে। খালি পায়ে হেঁটে শহীদ মিনারের দিকে যাওয়া, হাতে ফুল নিয়ে "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি" গানটি গাইতে গাইতে মনে হচ্ছিল যেন এক ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছি। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে যখন শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করছিলাম, তখন চোখে জল চলে এসেছিল। এই ভাষার জন্য যে দাম দিতে হয়েছে, তা সত্যিই অপরিসীম।

বিকেলে বইমেলায় গিয়েছিলাম। বাংলা ভাষার বিভিন্ন বই দেখে মনটা ভরে গেল। মনে হলো, এই যে আমরা আজ এত স্বাচ্ছন্দ্যে বাংলায় কথা বলতে পারছি, লিখছি, পড়ছি – এর পেছনে রয়েছে এক বিশাল আত্মত্যাগ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষার এই স্বীকৃতি আমাদের জাতির জন্য এক মহা গৌরবের বিষয়। ইউনেস্কো কর্তৃক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে আমাদের ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি জাতিসত্তা তার নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অনুপ্রেরণা পায়।

আজকের এই দিনে আমি মনে মনে শপথ নিলাম, বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকব। ভাষার সঠিক ব্যবহার, শুদ্ধ উচ্চারণ এবং এর চর্চার মাধ্যমে আমাদের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। দিনটি শেষ হতে চলেছে, কিন্তু ২১শে ফেব্রুয়ারির চেতনা আমার হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে।


তোমারই,
[তোমার নাম]

Satt AI
Satt AI
3 days ago
2.9k
উত্তরঃ

 পদ্মাসেতু দর্শনের অনুভূতি 

তারিখঃ ২৬ শে জুন, ২০২৫

সময়ঃ রাত ১০ঃ০০ টা

স্থানঃ ঢাকা

চমৎকার একটি দিন কাটালাম আজ। কলেজের কয়েকজন বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম পদ্মা সেতু দেখতে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সীগঞ্জের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হয়েছে এই সেতু। পদ্মা সেতু প্রথম দেখাতেই মনের মধ্যে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। এই সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। বাংলাদেশের তিন কোটিরও অধিক মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে এই সেতুটির মাধ্যমে। দেশের পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ সেতু খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সেতুর ফলে দেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সারকথা, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পদ্মা সেতু সমগ্র দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। পদ্মা সেতু ও আমাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি উপলব্ধি করে এক অজানা আনন্দে মন পুলকিত হয়ে আছে।

805
উত্তরঃ

১৪ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

রবিবার, রাত ১০:৩০

ঢাকা


প্রিয় দিনলিপি,

আজ বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ। সকাল থেকেই মনটা এক অনাবিল আনন্দে ভরে ছিল। গত রাত থেকেই উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি মা আর ছোট বোন নতুন শাড়ি পরে তৈরি। আমিও আমার পছন্দের পাঞ্জাবিটা পরে নিলাম। সবাই মিলে একসঙ্গে পান্তা ইলিশ খাওয়ার যে আনন্দ, তা সত্যিই অতুলনীয়। মা নিজ হাতে ভর্তা, ভাজি আর শুঁটকি তৈরি করেছিলেন, যা দিয়ে পান্তা ইলিশের স্বাদ আরও বেড়ে গিয়েছিল।

সকাল ৯টার দিকে আমরা পরিবারসহ বের হলাম রমনা বটমূলের দিকে। পথে ঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সবার পোশাকে লাল-সাদার ছোঁয়া, যা বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে। রমনার আশপাশের এলাকায় বসেছে বৈশাখী মেলা। বাঁশি, একতারা, মাটির খেলনা আর নানান লোকশিল্পের পসরা দেখে মুগ্ধ হলাম। বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের আয়োজন থেকে ভেসে আসা গানের সুর মনকে এক অন্যরকম শান্তি এনে দিল। অনেকক্ষণ মেলায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্টল দেখলাম এবং কিছু ঐতিহ্যবাহী জিনিস কিনলাম।

দুপুরে আমরা চাচা-চাচীদের বাসায় গেলাম। সেখানে বড় পরিসরে বৈশাখী ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। পোলাও, মাংস, বিভিন্ন পদের ভর্তা আর মিষ্টান্নের সমারোহ ছিল। হাসি-ঠাট্টা আর আড্ডায় পুরোটা দিন বেশ আনন্দেই কাটলো। সন্ধ্যার দিকে সবাই মিলে আরও একবার মেলায় গেলাম। সে এক ভিন্ন রূপ। আলোর রোশনাই আর মানুষের কোলাহলে পুরো পরিবেশটা উৎসবমুখর ছিল। লোকনৃত্য আর গান দেখে মন ভরে গেল।

সব মিলিয়ে এবারের নববর্ষ উদ্‌যাপন এক অসাধারণ স্মৃতি হয়ে থাকবে। পুরনো বছরের জরা মুছে ফেলে নতুন বছর যেন সবার জীবনে সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি বয়ে আনে, এই কামনাই করি।

ইতি,

তোমার প্রিয় [তোমার নাম]

Satt AI
Satt AI
3 days ago
550
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews