প্লেটো মাথায় করে মিশরের পথে পথে তেল বিক্রি করতেন।
মানুষ তার জীবিকা নির্বাহ ও পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ধরনের পেশা ও কাজে নিয়োজিত থাকে। প্রত্যেক কাজই নিজের পরিবার ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখে। এজন্য বলা যায়, সব কাজেরই আলাদা সম্মান আছে।
উদ্দীপকে তৌফিক সাহেবের পরিবারে যে ব্যয় হয় তাকে ভরণ-পোষণ ব্যয় বলে।
একটি পরিবারে প্রতিদিন, সপ্তাহে, মাসে কিংবা বছরে অনেক ধরনের ব্যয় ঘটে, যাকে ভরণ-পোষণ ব্যয় বলা হয়। অর্থাৎ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি ক্ষেত্রে একটি পরিবারে এ খরচগুলো হয়। উদ্দীপকের তৌফিক সাহেব একজন মুদি দোকানদার। তিনি তার ব্যবসায়ের আয় হতে পরিবারের সদস্যদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যয় করেন। এ খরচগুলো ভরণ-পোষণ ব্যয়ের আওতাভুক্ত বিধায় বলা যায়, তৌফিক সাহেবের পরিবারে সংঘটিত ব্যয়গুলো হলো ভরণ-পোষণ ব্যয়।
উদ্দীপকের তৌফিক সাহেব, তার স্ত্রী ও মেয়ের কাজকে অবশ্যই পেশা হিসেবে অভিহিত করা যায়।
অর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সামাজিকভাবে স্বীকৃত কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ বা বিশেষ কাজ করাকে পেশা বলে। পেশা হচ্ছে কাজ বা কাজের ক্ষেত্র। উদ্দীপকের তৌফিক সাহেব একজন মুদি দোকানদার। তার স্ত্রী একজন দর্জি অর্থাৎ কাপড় সেলাই করে এবং মেয়ে ব্যাংকার। প্রত্যেকেই সুনির্দিষ্ট কাজের সাথে যুক্ত থেকে আয় করছেন এবং পরিবারের ভরণ-পোষণে সহায়তা করছেন। অতএব তাদের কাজকে পেশা বলা যাবে। পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের আয় করতে হয়। আয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি কায়িক শ্রম কিংবা মেধাশ্রমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজে যুক্ত থাকেন এবং তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক পান। বিভিন্ন ব্যক্তির এ কাজ পেশা হিসেবে গণ্য হয়। এ প্রেক্ষিতে তৌফিক সাহেব, তার স্ত্রী ও মেয়ের কাজকে পেশা হিসেবে অভিহিত করা যাবে।
Related Question
View Allঅর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সামাজিকভাবে স্বীকৃত কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ বা বিশেষ কাজ করাকে পেশা বলে।
একটি পরিবার সঠিকভাবে চালাতে হলে পরিবারের জন্য ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। সাধারণত এসব ব্যয় করা হয় পরিবারের সদস্যদের ভরণ-পোষণের জন্য। আর এই ভরণ-পোষণের জন্য' পরিবারের যে ব্যয় হয় সেই ব্যয় নির্বাহের জন্য মানুষ কাজ করে।
কারণ কাজ করলে পারিশ্রমিক পাওয়া যায়।
আলম সাহেবের ছেলে উচ্চ শিক্ষিত হয়েও কৃষিকাজে যুক্ত থাকায় গ্রামের কিছু লোক তার ছেলেকে ঠাট্টা করে।
সাধারণত পড়ালেখা শিখে মানুষ ভালো চাকরি করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি কেউ এটা না করে এর ব্যতিক্রম কিছু করে তাহলে অনেক মানুষ সেটাকে নিয়ে বিদ্রূপ করে থাকে। উদ্দীপকে আলম সাহেব গ্রামের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ ও সম্মানিত ব্যক্তি।
গ্রামের সবাই তাকে শ্রদ্ধা করে। তিনি ছিলেন একজন কৃষক। তার একটিমাত্র ছেলে। তিনি ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে শিক্ষিত করেছেন। তার ছেলে লেখাপড়া শেষ করে মাছ চাষ করে। কিন্তু গ্রামের কিছু লোকের চিন্তা-চেতনার সাথে এটা মেলে না। তারা ভাবে শিক্ষিত হওয়ার পর এ ধরনের কাজ করা যায় না। শুধু যারা অশিক্ষিত তারাই এ ধরনের কাজ করতে পারে। আর এ কারণেই গ্রামের লোকেরা আলম সাহেবের ছেলেকে নিয়ে ঠাট্টা করে।
সব কাজেরই আলাদা সম্মান আছে বিধায় ছেলের পেশা নিয়েয় আলম সাহেবের খুশি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
সব ধরনের কাজ ও পেশায় পরিশ্রম আছে। যে যে কাজই করুক না কেন সব কাজেই পরিশ্রম, মর্যাদা, আর্থিকমূল্য, দক্ষতার ব্যবহারসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করলে সব কাজকে সমানভাবে দেখা ও সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
উদ্দীপকের আলম সাহেব গ্রামের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ ও সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি ছিলেন একজন কৃষক। তার একমাত্র ছেলে পড়ালেখা শেষ করে মাছ চাষ করেন। ছেলের পেশা নিয়ে আলম সাহেবের কোনো দুঃখ নেই; বরং তিনি আনন্দিত। কারণ তিনি জানেন সব কাজেরই আলাদা সম্মান আছে। তাই সব কাজকেই সমান মনে করা উচিত। আলম সাহেবের ছেলে পড়ালেখা শেষ করে মাছ চাষ করে। তিনি ভাবেন এ কাজের মাধ্যমে দেশ ও দশের সেবা করা সম্ভব। শিক্ষিত হওয়ার পরেও কৃষি, মাছ চাষ ইত্যাদি কাজ করা যায়। কারণ এসব কাজে সম্মান ও মর্যাদা সবই আছে এবং দেশের উন্নয়নের অংশীদার হওয়া যায়।
তাই' ছেলের পেশা নিয়ে আলম সাহেবের খুশি হওয়ার বিষয়টি যথার্থ
'আত্ম' অর্থ নিজের এবং 'মর্যাদা' অর্থ সম্মান। অর্থাৎ আত্মমর্যাদার অর্থ হলো নিজের সম্মান।
প্রতিটি মানুষকেই আত্মমর্যাদা বজায় রাখতে হয়। আত্মমর্যাদা বৃদ্ধির চারটি উপায় নিচে লেখা হলো:
১. যেকোনো কাজে নিযুক্ত থাকা। ২. পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যয় বহন করা। ৩. সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করা।
৪. মিথ্যা কথা না বলা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
