সূর্য এবং এর গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু, উল্কা প্রভৃতি নিয়ে যে পরিবার তাকে বলা হয় সৌরজগৎ।
গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতে জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জীবনধারণের ক্ষমতা থাকায় পৃথিবীকে আদর্শ গ্রহ বলা হয়। পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবীর আয়তন ৫১০,১০০০৪২২ বর্গ কিলোমিটার। এ গ্রহে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনও রয়েছে। তাই এ উদ্ভিদ ও মানুষ বসবাসের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় এটিকে আদর্শ গ্রহ বলা হয়।
ছকের 'A' চিহ্নিত স্থানটির দ্রাঘিমা ৯০০ পূর্ব এবং ছকের 'C' চিহ্নিত স্থানটির দ্রাঘিমা ৭৫০ পশ্চিম।
উক্ত স্থান দুটির দ্রাঘিমা পার্থক্য হলো
= ৯০০ + ৭৫০ = ১৬৫০
আমরা জানি,
১০ দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় = ৪ মি
∴ ১৬৫০ “ ” “ ” " = ১৬৫ × ৪ মি.
= ৬৬০ মি.
= ১১ ঘণ্টা
A চিহ্নিত স্থান পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত এবং
B “ ” পশ্চিম ” " হলে
B চিহ্নিত স্থানের সময় A চিহ্নিত স্থান থেকে ১১ ঘণ্টা কম হবে। যেমন-
A চিহ্নিত স্থানের সময় সোমবার সকাল ৯টা
B “ ” " হবে (সোমবার সকাল ৯টা - ১১ ঘণ্টা)
= রোববার রাত ১০টা।
উদ্দীপকের A ও B স্থান বিপরীত অক্ষাংশে অর্থাৎ উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে তাপমাত্রায় পার্থক্য হয়। আর তাপমাত্রায় পার্থক্যের কারণে এ স্থান দুটিতে একই ঋতু বিরাজ করবে না।
সূর্যকে পরিক্রমণকালে পৃথিবীর চারটি অবস্থানে ঋতু পরিবর্তিত হয়। পৃথিবীর বার্ষিক গতির জন্য সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে পতিত হয়। লম্বভাবে পতিত সূর্যরশ্মি কম বায়ুস্তর ভেদ করে আসে বলে ভূপৃষ্ঠকে অধিক উত্তপ্ত করে। আর তির্যকভাবে পতিত রশ্মি অধিক বায়ুস্তর ভেদ করে আসে এবং অধিক স্থানব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বলে ভূপৃষ্ঠ কম উত্তপ্ত হয়। সূর্যরশ্মির ভিন্ন ভিন্ন স্থানে লম্ব ও তির্যকভাবে পতিত হওয়ার কারণে স্থানভেদে তাপমাত্রার পার্থক্য হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত ২১ জুন সূর্যের উত্তরায়নের ফলে সূর্যরশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে পতিত হয়। ফলে উত্তর অক্ষাংশে এ সময় দিন বড় ও উত্তাপ বেশি থাকে। আবার একই সময়ে সূর্যের তীর্যক কিরণের জন্য দক্ষিণ অক্ষাংশে দিন ছোট হয় ও তাপমাত্রা কম থাকে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে একই সময় অর্থাৎ ২১ জুন উত্তর-দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত 'A' ও 'B' স্থানের তাপমাত্রার পার্থক্যের জন্য ভিন্ন ঋতু বিরাজ করবে।
Related Question
View Allপৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে মেরুরেখা বলে।
সূর্য একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র যা সৌরজগতের সকল গ্রহ ও উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক। ৫৫% হাইড্রোজেন, ৪৪% হিলিয়াম এবং ১% অন্যান্য গ্যাসের সমন্বয়ে সূর্য গঠিত। আর এ সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক বলে। সূর্যের অন্যান্য অংশের চেয়ে সৌরকলঙ্কের উত্তাপ কিছুটা কম থাকে।
দেওয়া আছে
A' চিহ্নিত স্থানটির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা A' চিহ্নিত স্থানের পূর্বে B' স্থানটি অবস্থিত হওয়ায় 'B' স্থানের স্থানীয় সময় ' A' চিহ্নিত স্থানের স্থানীয় সময় থেকে বেশি হবে।
অর্থাৎ, ৭টা + ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট = ১০টা ১৬ মিনিট
সুতরাং 'B' স্থানটির স্থানীয় সময় হবে ১০: ১৬ মিনিট
না, উক্ত তারিখে অর্থাৎ ২২ জুন তারিখে দুটি স্থানে দিবারাত্রির দৈর্ঘ্য একইরূপ হবে না।
ছকে 'A' ও 'B' স্থান দুটি দুই গোলার্ধে অবস্থিত। 'A' স্থানটি ৩০০ উত্তর অক্ষরেখা বরাবর এবং 'B' স্থানটি ৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখায় অবস্থিত। দুটি স্থান দুই গোলার্ধে হওয়ায় ২২ জুন তারিখে দুটি স্থানে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্য ভিন্ন রকম হবে। অর্থাৎ 'A' স্থানে দিন বড় এবং রাত ছোট হবে। পক্ষান্তরে, 'B' স্থানে দিন ছোট ও রাত বড় হবে। ২১ জুন সূর্যের উত্তরায়নের শেষ দিন। এদিন সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। লম্বরশ্মি অধিক তাপ দেয়। তাছাড়া সূর্য উত্তর গোলার্ধে অধিক স্থান জুড়ে এবং অধিক সময় ধরে কিরণ দেয়। ফলে ঐ দিনের পূর্বেকার দেড় মাস এবং পরবর্তী দেড় মাস মোট তিন মাস সূর্য উত্তর গোলার্ধে অধিক তাপ ও আলো দেয় বলে ঐ সময়কালে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হয়। এ কারণে ২২ জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে দিন বড় হয় এবং রাত ছোট হয়। পক্ষান্তরে, ২২ জুনে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলে সূর্য তির্যকভাবে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলে সূর্য তির্যকভাবে অল্প সময় এবং অল্প স্থানব্যাপী আলো দেয়। এর ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে তাপ ও আলো কম পায়। এ কারণে ২২ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট এবং রাত বড় হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, 'A' ও 'B' দুটি দুই গোলার্ধে অবস্থানের কারণে দিবা-রাত্রির মধ্যে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে। উত্তর গোলার্ধে দিন বড় এবং রাত ছোট। পক্ষান্তরে, দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট ও রাত বড় হয়।
নিজ অক্ষের ওপর পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনকে সৌরদিন বলে।
সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। এভাবে দেখা যায়, প্রতি ৪ বছর পর পর একটি বাড়তি দিন থাকছে। এই বাড়তি দিন প্রতি ৪র্থ বছরে যোগ হয়ে ৩৬৬ দিন হয়। সেই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিনে হয়। এরূপ বছরকে অধিবর্ষ বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!