রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম- সোহরাওয়ার্দি উদ্যান।
'২৩ বছরের করুণ ইতিহাস' বলতে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাঙালির নানাভাবে নিপীড়িত-নির্যাতিত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের শোষণ করতে থাকে। এর বিরুদ্ধে বাঙালিরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। প্রতিবারই বাংলার মানুষকে শাসকদের নির্দেশে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। তাদের এই অন্যায় আচরণ ও শোষণের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। সেখানে তিনি বাঙালির ২৩ বছরের করুণ ইতিহাস তুলে ধরে তাদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।
উদ্দীপকের নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী চেতনা, যোগ্য নেতৃত্বের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
যেকোনো জাতির উন্নয়নে সঠিক নেতৃত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জাতির চরম দুর্যোগের মুহূর্তে একজন সৎ ও যোগ্য নেতাই পারেন দেশ ও জাতিকে বিপদমুক্ত করে সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করে। শেখ মুজিবুর রহমানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে অধিকার আদায় সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করার এই গুণাবলি উদ্দীপকের নেলসন ম্যান্ডেলার গুণাবলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকার এই নেতাও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। শেষে তিনিই বিজয়ী হয়ে মানবতা ও স্বাধীনতার কেতন উড়িয়েছেন স্বদেশের আকাশে। শেখ মুজিবুর রহমানও বাংলার স্বাধীনতা অর্জনে বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই এ জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে।
'মানবতা ও স্বাধীনতার কেতন উড়িয়ে দেন স্বদেশের আকাশে'- এ বাক্যটি 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ভাষণটির ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।
জাতির ভাগ্যোন্নয়নে সৎ ও যোগ্য নেতার যথার্থ নেতৃত্ব একান্ত অপরিহার্য। যুগে যুগে নিপীড়িত জাতি এমন নেতাই প্রত্যাশা করে।
উদ্দীপকের দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। শেষাবধি তিনি বিজয়ী হন এবং মানবতা ও স্বাধীনতার বিজয় কেতন উড়িয়ে দেন স্বদেশের আকাশে। শেষোক্ত এই বাক্যটি 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ভাষণটির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। যার পরিপ্রেক্ষিতে এদেশের সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দীর্ঘ নয় মাস মরণপণ লড়াই করে বাংলার আকাশে স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনে। উদ্দীপকের নেলসন ম্যান্ডেলা ও উভয়েই সাধারণ ও নিপীড়িত মানুষকে জাগ্রত করেছেন। তাদের অধিকার আমাদের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ ও বাঙালি জাতি স্বাধীনতার কেতন উড়াতে পেরেছে। তাই আমরা বলতে পারি যে, 'মানবতা ও স্বাধীনতার কেতন উড়িয়ে দেন স্বদেশের আকাশে' এ বাক্যটি আলোচ্য ভাষণের ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।
Related Question
View Allবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই মার্চ।
'বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস' বলতে বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে রক্তদান ও আত্মদানকে বোঝানো হয়েছে।
'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনাটিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদান, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর গুলি, ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ১৯৭০-এর নির্বাচন আন্দোলনের এ ধারাবাহিকতাকে নির্দেশ করা হয়েছে। বাঙালিরা যুগে যুগে রক্ত দিয়ে তাদের অধিকার অর্জন করেছে। ন্যায্য দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে উল্লিখিত উক্তিটিতে বাঙালির ঐতিহ্যগত আন্দোলনের ধারা ও ত্যাগকে বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীর ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা হলো, অধিকার আদায়ে সমষ্টিগত আন্দোলন।
যেকোনো জাতির মুক্তি ও উন্নতির মূলে রয়েছে সঠিক নেতৃত্ব। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক নেতার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যারা দেশ ও দেশের মানুষের মুক্তি, উন্নতি ও কল্যাণের জন্য যথার্থ নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালির অধিকার ও স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে সোচ্চার ছিলেন। এজন্যই তিনি বাঙালির বন্ধু, প্রাণের মানুষ হয়েছিলেন। উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীও সাধারণ মানুষের অধিকারের সংগ্রামে ছিলেন আপসহীন। এ কারণে সবাই তাঁকে সমর্থন করেছিল। উভয় নেতাই অন্যায়ের প্রতিবাদী; গণমানুষের স্বার্থরক্ষায় তৎপর এবং জনগণকে ন্যায় ও সংগ্রামের পথে উদ্বুদ্ধ করেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীর মতোই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণেও অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সংগ্রাম করার নির্দেশ রয়েছে।
উদ্দীপকটি 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ভাষণের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করে- মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। মানুষ পরাধীনতার বেড়াজালে বন্দি থাকতে চায় না। তাই বাঙালিও তার প্রিয় দেশকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখেছিল। তারা একজন যোগ্য নেতার জন্য অপেক্ষা করছিল যিনি এসে তাদেরকে মুক্তির পথ দেখাবেন।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। এই আহ্বানই 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ঐতিহাসিক ভাষণ। তাঁর এ স্বাধীনতার ডাক ছিল পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের নিগড় থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার এক উদাত্ত আহ্বান। আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ ভাষণের মাধ্যমেই সূচিত হয়। সেদিন তিনি উত্তাল জনতাকে মুক্তির অমোঘ বাণী শুনিয়েছিলেন। সেই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছিল ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, কুলি, কেরানি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ। উদ্দীপকে মানুষকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে অসাম্প্রদায়িক হতে। সংগ্রামী হতে বলা হলেও মুক্তির অনুরূপ চেতনা প্রকাশ পায়নি। সেখানে যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক হতে বলা হয়েছে মাত্র।
১৭৫৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কয়েকশ বছরের সংগ্রামী চেতনার যথার্থ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ভাষণের মধ্য দিয়ে। বাঙালি জাতি সেদিন তাদের প্রিয় নেতার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে অবশেষে তাঁরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এ ধরনের চেতনা জাগানোর মতো উল্লেখযোগ্য বিষয় উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে শুধু অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রতী হতে বলা হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
'জাতীয় পরিষদ' হচ্ছে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি।
আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না- এ উক্তিটির কারণ বাংলার মানুষের ন্যায্য দাবি আদায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলন-সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীনতা।পাকি
স্তানি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে বাঙালির সার্বিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে কারাবরণ করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। তবু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর প্রতিবাদে ১৯৭১ সালে ২ মার্চ বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তিনি এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ১৮ মিনিটের এই ভাষণে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁর আপসহীন অবস্থান তুলে ধরেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!