২০১০ সালে বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ৯৯০ জন।
বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম একটি কারণ হলো দারিদ্র্য।
বাংলাদেশের অনেক মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ফলে মা ও শিশু সঠিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হয়। মূলত দারিদ্র্যের কারণেই শিশুদের একটা অংশ মৃত্যুবরণ করে।
গণি মিয়ার পরিবারে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে যে কারণটি কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে তা হলো ছেলে সন্তানের প্রত্যাশা।
আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক মনে করেন যে, পুত্র সন্তান বৃদ্ধ পিতামাতাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে সক্ষম। অধিক নিরাপত্তার আশায় তারা একাধিক পুত্র সন্তান কামনা করেন। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, দরিদ্র কৃষক গণি মিয়ার ছয় মেয়ে। তার স্ত্রী আবারও সন্তানসম্ভবা। এ থেকে বোঝা যায়, ছেলে সন্তানের প্রত্যাশাতেই। ছয় সন্তান থাকার পরেও গণি মিয়ার স্ত্রী আবারও সন্তানসম্ভবা হয়েছেন। সুতরাং বলা যায়, ছেলে সন্তানের প্রত্যাশাই গুণি মিয়ার পরিবারে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শটি বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের একমাত্র পদক্ষেপ নয়।
জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন। তাছাড়া বিবাহের ক্ষেত্রে আইনানুগ বয়সের (ছেলেদের ২১ ও মেয়েদের ১৮ বছর) প্রয়োগ কার্যকর করা। প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের উৎপাদনমুখী কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি জনসংখ্যাকে. মানবসম্পদে রূপান্তর করা। এছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান ব্যবস্থা উন্নয়ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কেননা, দক্ষ মানবসম্পদ শুধু দেশের জন্য নয়, বরং বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারবে।
উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাস্থ্যকর্মী গণি মিয়া দম্পতিকে ভবিষ্যতে আর সন্তান না নেওয়ার জন্য স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের অন্যতম একটি পদক্ষেপ। তবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এটিই একমাত্র পদক্ষেপ নয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শটি বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও তা একমাত্র পদক্ষেপ নয়।
Related Question
View Allবাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ১৮ বছর।
বসতি স্থানান্তরের কারণে কোনো দেশে বহির্গমনের থেকে বহিরাগমন মাত্রা বেশি হলে সে দেশের জনসংখ্যা বেড়ে যায়।
বসতি স্থানান্তর জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। দেশান্তরের কারণে বহিরাগমন এবং বহির্গমন ঘটে থাকে। বহিরাগমন অর্থাৎ দেশের বাইরে থেকে দেশে লোক আসলে জনসংখ্যা বেড়ে যায়।
১৯৬১ সালের তুলনায় ২০০৭ সালের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে জন্মহার ও মৃত্যুহারের ব্যবধান।
১৯৬১ সালের তুলনায় ২০০৭ সালের জনসংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতিবছর জন্ম নিচ্ছে ২৫ লক্ষ শিশু আর মৃত্যুবরণ করছে সব বয়সের মাত্র ৬ লক্ষ লোক। ফলে বছরে মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ১৯ লক্ষ। এভাবে জনসংখ্যা বাড়লে ৪০ বছরে জনসংখ্যা তিনগুণ হওয়াই স্বাভাবিক।
এছাড়া মৃত্যুহার হ্রাসের কারণেও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি, খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে ধারণা লাভ প্রভৃতি কারণেও শিশু মৃত্যুহার অনেক কমে যাচ্ছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে- উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।
১৯৭৪ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭.৬৪ কোটি। ২০০১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১২.৯৩ কোটি। অর্থাৎ ২৭বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.২৮ কোটি। অন্যদিকে ১৯৯১ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১১.১৫ কোটি। ২০২২ সালে এসে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। অর্থাৎ ৩১ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে পাঁচ কোটি তিরাশি লাখের মতো। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা কম।
আবার, ১৯৯১ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.১৭% যা ২০০১ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫৯। ২০১১ সালে তা আরও কমে হয় ১.৩৭%। বর্তমানে জনসংখ্যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ১.২২%। দেখা যাচ্ছে, ১৯৯১ সালের পর থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার পেছনে নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, চিকিৎসা সেবার উন্নতি, জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে সচেতনতা প্রভৃতি কারণ ভূমিকা রেখেছে। এ বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির যথার্থতা আছে।
একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে কোনো বছরে প্রতি এক হাজার লোকের মধ্যে মোট জীবন্ত শিশু জন্মের সংখ্যা এবং সেই বছরের মধ্যবর্তী সময়ের জনসংখ্যার অনুপাতকে স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate) বলে।
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি।
মাত্র ৫০ বছর আগেও এ ভূখণ্ডে কলেরা, বসন্ত, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি সংক্রামক রোগ মহামারীরূপে দেখা দিত এবং হাজার হাজার লোক মারা যেত। কিন্তু প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়ায় এ ধরনের রোগে আর মানুষ সহজে আক্রান্ত হচ্ছে না। আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার বদৌলতে হৃদরোগ বা ক্যানসারের মতো অসংক্রামক অন্যান্য রোগে মৃত্যুহার কমেছে। চিকিৎসা সেবার উন্নতির ফলে শিশু ও মাতৃমৃত্যুও অনেক কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!