১৯০৫ সালে চিকিৎসা সমাজকর্মের সর্বপ্রথম প্রয়োগ শুরু হয়।
শিল্প সমাজকর্ম (Industrial Social Work) বলতে কারখানার পরিবেশে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সাহায্য করার লক্ষ্যে সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতার অনুশীলনকে বোঝায়।
শিল্প সমাজকর্ম পেশাদার সমাজকর্ম অনুশীলনের একটি বিশেষায়িত শাখা। এক্ষেত্রে শিল্প-কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিকদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজকর্মের জ্ঞান, নীতি ও দক্ষতা প্রয়োগ করা হয়। মূলত শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সামাজিক ভূমিকা ও মানবিক সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করাই শিল্প সমাজকর্মের লক্ষ্য।
উদ্দীপকের শারমিন ও তার সন্তানের সমস্যা মোকাবিলায় সমাজকর্মের অন্যতম শাখা ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম (Clinical Social Work) সাহায্য করতে পারে।
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের সেই শাখা যেখানে সাহায্যার্থীর (Client) সমস্যা (রোগ) নির্ণয় বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমাধানে সাহায্য করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন রোগীকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সমাজকর্মের এ শাখার বৈশিষ্ট্য। বিবাহবিচ্ছেদ, অটিজম প্রভৃতির মতো সমস্যা নিয়ে এ শাখা কাজ করে।
উদ্দীপকের শারমিন একজন স্বামী পরিত্যক্তা নারী। তার সন্তানটিও প্রতিবন্ধী। সে দারিদ্র্য ও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছে। এ অবস্থায় ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীরা তাকে সুস্থ জীবনযাপনে সাহায্য করতে পারেন। ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীরা দৈহিক ও মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং অবহেলা, বঞ্চনা এবং সহিংসতার শিকার মানুষদের নিয়ে কাজ করেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, সামাজিক বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বামী পরিত্যক্তা শারমিনের মানসিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীরা সাহায্য করতে পারেন। সমাজকর্মীরা তার প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করতেও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন। এভাবে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম শারমিন ও তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নতুন করে আশার আলো দেখাতে পারে।
উদ্দীপকের উল্লেখিত শাখা অর্থাৎ ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম বাংলাদেশের সমাজে বিদ্যমান বহুমুখী সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হতে পারে।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বহু ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এসব সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী মূলত দারিদ্রদ্র্য, অশিক্ষা আর নানা ধরনের সামাজিক কুপ্রথা। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ সব সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম অনুশীলনের বিকল্প নেই। বিশেষ করে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের যথার্থ প্রয়োগ ঘটাতে পারলে অনেক সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং দলীয়ভাবে সেবা দিয়ে থাকে। সমাজকর্মের এ শাখার পরিধি ব্যাপক। প্রিয়জনের মৃত্যু, ব্যক্তিগত অসামর্থ্য, ব্যর্থতা, বিবাহবিচ্ছেদ, চাকরি হারানো ইত্যাদি ঘটনায় জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তন হয় তা অনেক সময় ব্যক্তিকে বিভিন্নমাত্রায় বিপর্যস্ত করে। এরকম পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম কাজ করে। তাছাড়া ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম উদ্বাস্তু, বেকার, দুর্বল ও অসহায় প্রবীণ জনগোষ্ঠী এবং গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করে থাকে। দাম্পত্যকলহ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক যোগাযোগহীনতা, মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা, কিশোর অপরাধ ইত্যাদি সমস্যাও ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত। আর বর্তমান বাংলাদেশে এসব সমস্যা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। সমাজকর্মের কর্মপদ্ধতির আলোকে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম এসব সমস্যা সমাধানে উপযুক্ত।
পরিশেষে বলা যায়, ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের অনুশীলন বাংলাদেশে বিদ্যমান নানারকম পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে।।
Related Question
View Allমার্কিন সমাজবিজ্ঞানী শার্লট টোলে মৌল মানবিক চাহিদাকে ৬ ভাগে ভাগ করেছেন।
মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশে বাসস্থান পরিস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক নয়।
নিরাপদে বসবাসের জন্য বাস্থানের বিকল্প নেই। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাসস্থান সংকট বাড়ছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের প্রায় ২৫% মানুষ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পরিবার প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা ৪.৯ জন, শহরে ৪.৮ এবং গ্রামে ৪.৯ জন। তবে বাংলাদেশ সরকার শহর এলাকার বাসস্থান সংকট কমিয়ে আনতে পূর্বাঞ্চল এলাকায় বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদা শিক্ষাকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা পূরণ না হলে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশে বিরাজমান বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে অধিক জনসংখ্যা, দরিদ্রতা, বেকারত্ব প্রভৃতি। বর্তমানে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৮ লাখ (অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮) এবং এদেশের শতকরা ২৪.৩ ভাগ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অধিক জনসংখ্যা, দরিদ্রতা, বেকারত্ব, অসচেতনতা, শিক্ষা উপকরণের অভাব প্রভৃতি কারণে মৌলিক চাহিদা হিসেবে শিক্ষার উদ্দীপকে দেখা যায়, কানাইপুর একটি অনগ্রসর এলাকা। এর বাসিন্দারা পড়াশোনার ব্যাপারে উদাসীন, এলাকার অবকাঠামোগত অবস্থাও অনুন্নত। শিক্ষার অভাবের কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে কুসংস্কার, ভুল চিকিৎসা, অলৌকিকতায় বিশ্বাস প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে। অথচ শিক্ষা মানুষকে আধুনিক করে তোলে এবং আদর্শ সমাজ গঠনে সহায়তা করে। কিন্তু অধিক জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের পক্ষে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার অভাবে তারা নিরক্ষর ও অজজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। যার প্রভাবে স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, বাল্যবিবাহ নারী নির্যাতন, অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তেমনি উদ্দীপকের কানাইপুর গ্রামে শিক্ষার অভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি বিদ্যমান।
উদ্দীপকে নির্দেশিত শিক্ষার চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মীর ভূমিকা অপরিসীম- উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।
বিদ্যালয় সমাজকর্ম বলতে সমাজকর্ম অনুশীলনের একটি বিশেষ শাখাকে বোঝায়, যা বিদ্যালয় পরিবেশে শিক্ষার্থীর পূর্ণ বিকাশে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে বিদ্যালয় সমাজকর্মী পরিবার, স্কুল ও সমষ্টির মাঝে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অধিক জনসংখ্যা, বেকারত্ব, কুসংস্কারে বিশ্বাস, অসচেতনতা প্রভৃতির মতো সামাজিক সমস্যা শিক্ষা অর্জনের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী তার দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে এসব সমস্যা দূরীকরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারেন।
উদ্দীপকের কানাইপুর গ্রামে শিক্ষার অভাবে কুসংস্কারে বিশ্বাস, ভুল চিকিৎসার প্রচলনসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। এর পেছনে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞানতাসহ সামগ্রিক অবস্থা দায়ী। এক্ষেত্রে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। পারিবারিক ও আর্থিক সংকট, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে এখনো অসংখ্য শিক্ষার্থী মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। এ সংখ্যা কমিয়ে এনে শতভাগ শিক্ষার্থীর হার নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় সমাজকর্মের জ্ঞানের উপযোগিতা আছে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের স্কুলের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ভূমিকা রাখেন। সেই সাথে তিনি পড়াশোনায় অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে মানসিক সমর্থন দিয়ে থাকেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, কানাইপুর এলাকার মানুষের শিক্ষার চাহিদা পূরণে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
১৯০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাইকিয়াট্রিক কোর্স প্রথম চালু হয়।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বিদ্যালয় সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বিদ্যালয় সমাজকর্মী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্ষেত্রে বাধা দূর করার জন্য বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, পরিবার এবং সমষ্টির বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করতে পারেন। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি ও দল সমাজকর্ম পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে পারেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!