'Civics' শব্দটির উৎপত্তি দুটি ল্যাটিন শব্দ সিভিস (Civis) এবং সিভিটাস (Civitas) থেকে।
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য মতবাদ।
বিবর্তনমূলক মতবাদের মূল বক্তব্য হলো- রাষ্ট্র কোনো একটি বিশেষ কারণে হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিনের বিবর্তনের মাধমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন শক্তি ও উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে হতে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব উপাদান কার্যকর ছিল সেগুলো হলো- সংস্কৃতির বন্ধন, রক্তের বন্ধন, ধর্মের বন্ধন, যুদ্ধবিগ্রহ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চেতনা ও কার্যকলাপ প্রভৃতি। ড. গার্নার বলেন, 'রাষ্ট্র বিধাতার সৃষ্টি নয়, বল প্রয়োগের মাধ্যমেও সৃষ্টি হয়নি বরং ঐতিহাসিক কর্মবিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে।'
উদ্দীপকে রাহাতের পরিবারের শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যাবলি প্রকাশ পেয়েছে।
পরিবারের কার্যাবলির মধ্যে শিক্ষামূলক ও বিনোদানমূলক কাজ অন্যতম। পরিবারকে শাশ্বত বিদ্যালয় বা জীবনের প্রথম পাঠশালা বলা হয়। শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে। আবার শিষ্টাচার, সততা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক গুণাবলির শিক্ষা লাভ পরিবার থেকেই শুরু হয়। এছাড়াও ব্যক্তি পারিবারিক জীবনে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা লাভ করে থাকে। অন্যদিকে বিনোদনেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্যদের সাথে গল্প-গুজব, হাসি-ঠাট্টা, গান-বাজনা, বেড়াতে যাওয়া প্রভৃতির মাধ্যমে বিনোদন লাভ করে থাকে।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থী রাহাত করোনাকালীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাসায় তার বড় বোনের কাছে নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করে, যা পরিবারের শিক্ষামূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া করোনা কালীন গৃহবন্দি সময়ের একঘেয়েমি কাটাতে তারা পরিবারের সদস্যরা মিলে নানা ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিনোদন লাভ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে রাহাতের পরিবারের শিক্ষামূলক ও বিনোদানমূলক কার্যাবলি প্রকাশ পেয়েছে।
আমি মনে করি, উদ্দীপকে উল্লেখিত কাজগুলোই পরিবারের একমাত্র কাজ নয়।
পরিবার তার সদস্যদের সুন্দর ও নিরাপদ জীবন গড়ে তোলার জন্য বহুবিধ কাজ করে। পরিবারের অন্যতম কাজ হলো সন্তান জন্মদান ও লালন-পালন যাকে জৈবিক কাজ বলা হয়। পরিবার সদস্যদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতি চাহিদা পূরণের জন্য আয়-উপার্জনমূলক কাজ করে থাকে, যা পরিবারের অর্থনৈতিক কাজ বলে স্বীকৃত। পরিবারের বড়রা ছোটদের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে। পরিবারের বড়রা ছোটদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে। পারিবারিক শিক্ষা ও নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে শিশুর রাজনৈতিক শিক্ষা শুরু হয় এবং পরিবারের বড়দের আলোচনা শুনে শিশু দেশের রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। এছাড়াও পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক কাজ রয়েছে। পরিবার যেমন মায়া-মমতা, স্নেহ, ভালোবাসা দিয়ে তার সদস্যদের মানসিক চাহিদা পূরণ করে।
কিন্তু উদ্দীপকে রাহাতের পরিবারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রাহাত তার পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাসার বড়বোনের কাছে নিয়মিত পড়াশোনা করে এবং গৃহবন্দি সময়ের একঘেয়েমি দূর করতে তারা নানা ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এগুলো মূলত পরিবারে শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কাজকে নির্দেশ করে। কিন্তু এ দুটো ছাড়া পরিবারের জৈবিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কাজ আছে।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত কাজগুলোই পরিবারের একমাত্র কাজ নয়। পরিবারের আরও বহুবিধ কাজ রয়েছে।
Related Question
View Allফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো (Jean Jacques Rousseau) রাষ্ট্র সৃষ্টির সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন।
রাষ্ট্রের চরম ক্ষমতা হলো সার্বভৌমত্ব।
রাষ্ট্র গঠনের চারটি মৌলিক উপাদানের (জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার, সার্বভৌমত্ব) মধ্যে সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সার্বভৌমত্ব শব্দটি ল্যাটিন 'Superanus' শব্দ থেকে উদ্ভব হয়েছে। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Sovereignty'। এর অর্থ চরম ক্ষমতা। সার্বভৌম ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা বিধান করা হয়। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলেই রাষ্ট্র দেশের ভেতরে বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ জারির মাধ্যমে সকল সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কর্তৃত্ব আরোপ এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। আর বাহ্যিক ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র সকল প্রকার বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে।
সার্বভৌম শক্তির ওপর রাষ্ট্রের স্থিতি নির্ভরশীল।
'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক 'গ' রাষ্ট্রকে দখল করে নেওয়া রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি, প্রয়োগ মতবাদকে সমর্থন করে।
বল প্রয়োগ মতবাদের মূল বক্তব্য হলো- বল বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে এবং শক্তির জোরে রাষ্ট্র টিকে আছে। এ মতবাদে বলা হয়, সমাজের বলশালী ব্যক্তিরা যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্বলের ওপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র সৃষ্টি এবং শাসনকাজ পরিচালনা করে। স্কটিশ দার্শনিক ডেভিড হিউম (David Hume), ইংরেজ আইনজীবী এডওয়ার্ড জেংকস (Edward Jenks) প্রমুখ বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদের সমর্থক। এ সম্পর্কে এডওয়ার্ড জেংকস বলেন- 'ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, আধুনিক সকল রাষ্ট্রব্যবস্থা সার্থক রণকৌশলের ফলশ্রুতি'।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' তার পার্শ্ববর্তী দুর্বল রাষ্ট্র 'গ'-কে যুদ্ধে পরাজিত করে দখল করে নেয়, যা রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কাজেই বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক 'গ' রাষ্ট্রকে দখল করে নেওয়া রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদকে সমর্থন করে।
'খ' শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদের প্রতিফলন ঘটেছে, যা রাষ্ট্র সৃষ্টির মতবাদগুলোর মধ্যে অধিক যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য।
ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদের মূল বক্তব্য হলো রাষ্ট্র কোনো একটি বিশেষ কারণে হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরে বিভিন্ন শক্তি ও উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে হতে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে। যেসব উপাদানের কার্যকারিতার ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে সেগুলো হলো- সংস্কৃতির বন্ধন, রক্তের বন্ধন, ধর্মের বন্ধন, যুদ্ধবিগ্রহ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চেতনা এবং কার্যকলাপ ইত্যাদি। রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মতবাদটিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ প্রসঙ্গে আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক ড. গার্নার (Dr. James Wilford Garner) বলেন, 'রাষ্ট্র বিধাতার সৃষ্টি নয়, বল প্রয়োগের মাধ্যমেও সৃষ্টি হয়নি; বরং ঐতিহাসিক ক্রমবিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে'।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'খ' তার পার্শ্ববর্তী দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে। এর ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং এক সময় সবগুলো রাষ্ট্র মিলে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন করে। এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে 'খ' রাষ্ট্রের শক্তিশালী হওয়ার দিকটি ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদকে ইঙ্গিত করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য। আর এ মতবাদের মধ্যেই রাষ্ট্রের উৎপত্তির সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
পারিবারিক কাঠামো অনুযায়ী পরিবার দুই প্রকার। যথা- ১. একক ও ২. যৌথ পরিবার।
আত্মসংযমের শিক্ষা পরিবারের শিক্ষামূলক কাজ।
পরিবারকে সমাজজীবনের শাশ্বত বিদ্যালয় বলা হয়। পরিবারেই একটি শিশু বর্ণমালার সাথে পরিচিত হয়। মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের পারস্পরিক সহায়তায় সততা, শিষ্টাচার, উদারতা, আত্মসংযম, নিয়মানুবর্তিতা, বড়দের প্রতি সম্মান ও ছোটদেরকে ভালোবাসা ইত্যাদি মানবিক গুণ শিক্ষা লাভের প্রথম সুযোগ ঘটে পরিবারে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক নিজেকে সব ধরনের লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, রাষ্ট্রের আইন মান্য করা প্রভৃতি করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!