উৎপাদন হতে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পণ্যটি পৌঁছানোর জন্য যে যে কাজগুলো করা হয় তাদের সমন্বয়কেই বিপণন বলে।
কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, ফসল উৎপাদন, সংগ্রহ, সংগ্রহ- উত্তর ফসল পরিচর্যা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ ইত্যাদি সকল কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য সীমিত সংখ্যক কৃষক একমত হয়ে নিজেদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যে সংগঠন গড়ে তোলেন তাকে কৃষি সমবায় বলে। সমবায় কৃষকদের নিজস্ব পেশাগত সংগঠন। দেশে প্রচলিত সমবায় আইন অনুসারে এ সমবায় গঠন করতে হবে এবং সমবায় আইনের আওতায় নিবন্ধিত হতে হবে। এরূপ সংগঠনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় এবং সহযোগিতা করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রবাদটি হলো- 'দশের লাঠি একের বোঝা।'
এ প্রবাদটির অর্থ হলো একজনের পক্ষে যেসব কাজ করা সম্ভব নয় তা দশজন একত্র হলে খুব সহজেই করা সম্ভব। যেমন- বর্তমানে কৃষির আধুনিকায়নের জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করা প্রয়োজন যার ব্যয়ভার বহন করা একজন কৃষকের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু কয়েকজন কৃষক যদি একজোট হয়ে সমবায় গঠন করে তবে সে কাজ সহজেই করা সম্ভব। সীমিত সংখ্যক কৃষক একমত হয়ে নিজেদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কৃষি সমবায় গড়ে তোলেন। এতে করে সহজেই কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, কৃষি পণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়। তাছাড়া সঠিকভাবে ফসল প্রক্রিয়াজাত এবং গুদামঘরের ব্যবস্থাও করা যায়। যার ফলে সঠিক সময়ে ভালো দামে ফসল বিক্রয় সম্ভব হয়। তাছাড়া সমবায় এর সদস্যদের আপদকালীন বা দুর্যোগের সময় প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা প্রদান করে বিপর্যয়ে সহনশীলতা যোগায়। ফলে সদস্যদের পক্ষে কোনো কাজই বোঝা মনে হয় না।
উদ্দীপকের শফিউল্লাহ সাহেবের বক্তব্যটি হলো, 'কৃষি উপকরণ ক্রয়, কৃষিপণ্য উৎপাদন, সংক্ষণ ও বিপণনে এ ধরনের সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নয়নতারা গ্রামের কৃষকেরা কৃষি সমবায় গঠন করেন। কৃষিকাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে এবং কৃষি থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে সমবায় গঠন করা হয়।
কৃষি সমবায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ সংগ্রহ, ক্রয় ও ব্যবহারে কৃষকদের সক্ষম করে তুলতে পারে। পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তিসমূহ যেমন- শস্য পর্যায় অবলম্বন, নিবিড় ও সমন্বিত চাষাবাদ পদ্ধতি, সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসলের নিরাপত্তা বিধান, যান্ত্রিক উপায়ে ফসল সংগ্রহ ও সংগ্রহ উত্তর পরিচর্যা, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং বিপণন সকল ক্ষেত্রেই উচ্চমাত্রার সক্ষমতা এনে দিতে পারে। কৃষি সমবায় কৃষিতে উচ্চ মুনাফা অর্জন' নিশ্চিত করতে পারে। কৃষি সমবায় কৃষককে হঠাৎ বিপর্যয়ে সহনশীল হতে শেখায়। এ সমবায় সরকারি-বেসরকারি সেবা সংস্থাগুলোর অনুদান, ভর্তুকি, সেবা গ্রহণ করে এবং হিসাব রাখে। তাছাড়া কৃষিপণ্য ক্রেতা সংস্থা, কোম্পানি বা ব্যক্তির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে এবং তদানুযায়ী ব্যবসা করে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সমবায় কৃষকদের সহায়তা করে।
তাই বলা যায়, জনাব শফিউল্লাহ সাহেবের বক্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allকৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, ফসল উৎপাদন, সংগ্রহ, সংগ্রহোত্তর 'পরিচর্যা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কৃষকগণ যে সমবায় গড়ে তোলেন তাকে কৃষি সমবায় বলে।
একই উদ্দেশ্যে একজোট হয়ে কাজ করাকে সমবায় বলে।
কারো একার পক্ষে যে কাজ সম্ভব নয় তা সমবায়ের মাধ্যমে সকলে মিলে সহজেই করা সম্ভব। জমি ও পুঁজির আনুপাতিক হারে মুনাফার শরিকানা লাভ সমবায়ের মূল ভিত্তি। সমবায় পদ্ধতিতে প্রতিটি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হয়। তাই অংশীদারকে তার নির্দিষ্ট কাজ সঠিক ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। এভাবে সমবায় ব্যবস্থা অপরকে সক্রিয় হতে শেখায়।
যুব উন্নয়ন কর্মীর পরামর্শে পরিমল বাবু মনিপুর গ্রামের কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন করে কৃষি ঋণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে আগ্রহী কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিমল বাবু সমিতি গঠনের কার্যক্রম সূচনা করেন। এরপর কৃষি সমবায় সমিতির মূল শর্ত তথা বিধিগুলো আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় উপজেলা কৃষি, পশু পালন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং সমবায় অধিদপ্তরের সহযোগিতা নেন। সমবায় অধিদপ্তর প্রণীত কৃষি সমবায় প্রণালি অনুসরণ করে তিনি কৃষি সমবায় সমিতি গঠন করেন এবং যথা নিয়মে রেজিস্ট্রি করেন। কেননা সরকারি ও বেসরকারি দাতা সংস্থাগুলো তখনই ঋণ দিতে আগ্রহী হবে যখন ঋণ গ্রহীতার নিবন্ধনকৃত পরিচয়পত্র থাকবে, ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারের ও পরিশোধের নিশ্চয়তা থাকবে।
অর্থাৎ, পরিমল বাবু কৃষি ঋণ প্রাপ্তির জন্য উল্লিখিত কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন।
যুব উন্নয়ন কর্মীর পরামর্শে গ্রামের কৃষকগণ গোমেজ বাবুর নেতৃত্বে সমবায়ের মাধ্যমে 'ফুল নার্সারি' স্থাপন করে।
যশোর জেলার মনিপুর গ্রামের কৃষকদের পক্ষে তাদের সামান্য আবাদি জমিতে এককভাবে অধিক উপার্জনের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। মাঠ ফসল যেমন- ধান, পাট, গম, আলু ইত্যাদির আবাদও ঐ সামান্য জমিতে করে লাভবান হওয়া যায় না।
যশোর জেলার মাটি ও আবহাওয়া ফুল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সমবায়ের মাধ্যমে গোমেজ বাবুর নেতৃত্বে নার্সারি গড়ে ওঠায় ঐ এলাকার কৃষকগণ ফুল উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পায়। এতে করে তাদের সারা বছর কাজের সংস্থান হয়। কৃষকগণ যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করায় আশানুরুপ ফলন পায়। অর্থাৎ, সমবায়ের মাধ্যমে ঐ সামান্য জমিতে ফুল নার্সারি স্থাপন করে কৃষকগণ অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হয়।
তাই বলা যায়, যশোর অঞ্চলের কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে গোমেজ বাবুর গৃহীত কার্যক্রম ও নেতৃত্ব যথার্থ ছিল।
কৃষিকাজকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যে টাকা নেওয়া হয় সেটা হলো কৃষি ঋণ।
কৃষিকাজ সম্পন্ন করতে এবং কৃষি থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি সমবায় গড়ে তোলা হয়।
কৃষক হঠাৎ বিপর্যয়ে যেমন- প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হলে কৃষি সমবায় কৃষককে প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দেয়। এছাড়াও কৃষি সমবায় কৃষককে ঋণ সুবিধা প্রদান করে এবং উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বীজ, সার, ঔষধ, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি উপকরণ সরবরাহ করে থাকে। কৃষি পণ্য গুদামজাতকরণ ও বাজারজাতকরণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে এই কৃষি সমবায়। ফলে কৃষকেরা ঝুঁকি এড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জন করতে পারে। এভাবেই কৃষি সমবায় কৃষককে হঠাৎ বিপর্যয়ে সহনশীলতা যোগায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!