পালকি লোকসংস্কৃতির একটি উপাদান।
শহরের সংস্কৃতি অনেক দিক থেকে গ্রামের চেয়ে কিছুটা পৃথক। গ্রামের সকল মানুষ একে অন্যের খবর রাখে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা একত্রিত হয়। এ কারণে গ্রামীণ জীবনে সামাজিক বন্ধন বেশ অটুট। কিন্তু শহরে তা লক্ষ করা যায় না। এজন্য বলা হয় গ্রামীণ জীবন সামাজিক বন্ধন বেশ অটুট।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুষ্ঠান গ্রামীণ সংস্কৃতির নির্দেশক। হালখাতা অনুষ্ঠান গ্রামীণ সংস্কৃতির আনন্দ উৎসব ও বিনোদনভিত্তিক অনুষ্ঠানের অংশ। বৈশাখী মেলা, নবান্ন উৎসবের মতো ব্যবসায়ীদের হালখাতাও একটি অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা তাদের পুরনো বছরের সকল হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন বছর শুরু করে। নতুন খাতায় লেখা শুরু হয় নতুন বছরের হিসাব। খাওয়া-দাওয়া ও নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা দিনটি উদ্যাপন করে। যেমনটি উদ্দীপকের দাউদের সবজির আড়তের হালখাতা অনুষ্ঠানে লক্ষ করা যায়। বাঙালিরা যুগ যুগ ধরে নানা ধরনের আনন্দ উৎসবের আয়োজন করে আসছে। কোনো অনুষ্ঠান সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে উদ্যাপন করে আবার কোনোটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষ পালন করে থাকে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত হালখাতা অনুষ্ঠান মূলত গ্রামীণ সংস্কৃতিকেই নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে গ্রামীণ সংস্কৃতির বিশেষ একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ একটি গ্রামপ্রধান দেশ। এদেশে ছোটবড় অনেক গ্রাম রয়েছে। তাছাড়া এদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামেই বাস করে। তাই গ্রামীণ সংস্কৃতি নানা বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। 'বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বৈশাখী মেলা, নবান্ন উৎসব, ব্যবসায়ীদের হালখাতা উৎসব, নৌকাবাইচ, বিয়ে প্রভৃতি। এসব অনুষ্ঠানে সব ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করে একসাথে উদ্যাপন করে থাকে। গ্রামে এক সময় বিনোদনের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল রাতভর যাত্রা, পালাগান, কবিগানের আসর। এসব অনুষ্ঠান এখন অল্প করে হলেও হচ্ছে। গ্রামের মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এছাড়া শবেবরাত, শবেকদর, ঈদে মিলাদুন্নবী এবং ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। হিন্দু সমাজের মানুষ নানা পূজার উৎসব উদ্যাপন করে থাকে। যেমন- দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কালী প্রভৃতি। বৌদ্ধরা বুদ্ধপূর্ণিমা এবং খ্রিস্টানরা ক্রিসমাস ডে বেশ জাঁকজমকের সাথে উদ্যাপন করে। সুতরাং বলা যায়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গ্রামীণ সংস্কৃতি অনন্য এক বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।
Related Question
View Allবাংলা প্রথম মাসের নাম বৈশাখ।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এদেশের কৃষি সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কৃষক তার কৃষিকাজের জন্য বিশেষভাবে মাটি, মেঘ, বৃষ্টি, রোদ এসবের ওপর নির্ভর করে। প্রকৃতি যদি অনুর্বর হয় তাহলে কৃষি উৎপাদনেও তেমন ফল পাওয়া যাবে না। আবার প্রকৃতির আলো, বাতাস, আবহাওয়া সবকিছু অনুকূলে হলে কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তাই বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে বাংলার পহেলা বৈশাখের মেলা তথা বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। এ মাসে বাঙালিরা তাদের অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য দীর্ঘ এক মাস মেলা উদ্যাপন করে। এ মেলায় গ্রাম-শহর সকল স্থানে লোক সমাগম হয়। মেয়েরা সকলে লাল-সাদা রঙের শাড়ি পরিধান করে মেলার দৃশ্যকে রঙিন করে দেয়। শহরের মেলাগুলোতে বিভিন্ন ব্যান্ড পার্টির আয়োজন থাকে। এ মেলার আকর্ষণীয় দৃশ্য হচ্ছে- প্রভাতে সকল শ্রেণির মানুষের রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের আয়োজনে একত্রিত হওয়া। যা মূলত গ্রামবাংলার অতীত ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দুপুরের পর থেকে দোয়েল চত্বর, টিএসসি, শাহবাগ সকল স্থান খুব সরগরম হয়ে ওঠে। চতুর্দিকে গানবাজনার আওয়াজে প্রকৃতি যেন ভারী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে নাগরদোলা থাকে। এতে শিশুরা তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবে হাসি-আনন্দের মাঝেই দিনটি শেষ হয়। সুতরাং উদ্দীপকের মেলাটি নিঃসন্দেহে পহেলা বৈশাখের মেলা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতির একটি উৎসব বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈশাখী মেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ মেলায় বাংলার ঐতিহ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে। মেয়েরা রং-বেরঙের শাড়ি পরিধান করে মেলা উদ্যাপন করে। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ও নাগরদোলা বসে। দোকানিরা সেখানে নানা রকমের জিনিস বিক্রি করে এবং মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করে আনন্দের মাধ্যমে মেলা উদ্যাপন করে। মেলার দিন সকাল বেলা সকলে মিলে রমনা বটমূলে একত্রিত হয় এবং সমবেতভাবে পান্তা-ইলিশে অংশ নেয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন বছরে একবার হলেও তা আমাদের সংস্কৃতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিকশিত করেছে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে মানুষ তার ধর্মকে সযত্নে লালন করলেও পহেলা বৈশাখের দিন সকলে কাঁধে কাঁধ মিলে এ মেলা উদ্যাপন করে। হাজার হাজার বছরের পুরনো এ সংস্কৃতি উদ্যাপনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ দূর হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অপরিসীম।
'গোপী নাচ' মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর উৎসব।
'বৈসাবি' বলতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, তঞ্চঙ্গা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর যৌথভাবে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উদযাপনকে বোঝায়। বাংলাদেশের প্রায় সকল নৃগোষ্ঠীর মানুষ নাচ-গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উৎসব পালন করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বৈশাখী, সাংগ্রাই ও বিজু এ তিনটিকে সমন্বয় করে বর্তমানে সবাই একত্রে পালন করে 'বৈসাবি।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!