জাওয়াদের দাদার মন্তব্যটি সঠিক।
জাওয়াদ ও জারিফ দুই ভাই। তাদের বড় চাচার দুটি পুত্র সন্তান আছে। আবার ছোট চাচারও একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে। মেয়ে সন্তান না হওয়ায় তাদের দাদি মন খারাপ করেন। তখন তাদের দাদা মন খারাপ করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন সন্তান জন্মের ব্যাপারে মানুষের করণীয় কিছু নেই। কারণ এটি সম্পূর্ণ বংশগত একটি বিষয়। যেখানে ক্রোমোজোম দায়ী।
বাবার শুক্রাণু ও মায়ের ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে ভ্রূণ বা জীবকোষ তৈরি হয়। প্রতিটি মানব জীবকোষের নিউক্লিয়াসে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। প্রতিটি জোড়ার একটি আসে মাতৃকোষ থেকে অন্যটি পিতৃকোষ থেকে। ক্রোমোজোমগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য শিশুর মধ্যে বহন করে। ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের ২২ জোড়াই ছেলে ও মেয়ের একই রকম থাকে। বাকি একজোড়া অর্থাৎ ২৩ তম ক্রোমোজোম জোড়াটিই লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
মায়ের ডিম্বকোষ থেকে যে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম আসে তা সব সময়ই X টাইপ। আর বাবার X ও Y টাইপ। যদি মায়ের X টাইপ ক্রোমোজোমের সাথে বাবার X টাইপ ক্রোমোজোমের মিলন ঘটে তাহলে মেয়ে শিশু জন্ম নেয়। কিন্তু X এর সাথে Y টাইপ ক্রোমোজোমের মিলন হলে পুত্র সন্তান জন্মে। এজন্য ক্রোমোজোমই দায়ী। এখানে মানুষের কিছু করার নেই। তাই জাওয়াদের দাদার মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allপঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত মানবদেহে বর্ধন চলে।
সাধারণত মানব বিকাশের ৬৫ বছর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়কে বার্ধক্য বলে।
বার্ধক্যে ক্ষয়ের সূচনা হয়। শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হয়। ফলে আগের মতো শারীরিক ও মানসিক শক্তি থাকে না। এজন্য বার্ধক্যে ব্যক্তির কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়।
রাফি বিকাশের বয়ঃসন্ধি বা কৈশোরকালে অবস্থান করছে। বয়ঃসন্ধিকাল (১১-১৮ বছর পর্যন্ত) হলো শৈশব থেকে প্রাপ্ত বয়সে যাওয়ার সময়। বয়ঃসন্ধিকালে প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির মতো দেহের আকৃতি ও যৌন বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়। এ সময়ে মা-বাবা ও অন্যের ওপর থেকে ছেলেমেয়েদের নির্ভরশীলতা কমে আসে। এ সময় তারা প্রজনন ক্ষমতা অর্জন করে। তারা বিমূর্ত বিষয় (যে বিষয়গুলো দেখা যায় না। যেমন- সততা, স্নেহ-ভালোবাসা ইত্যাদি) নিয়ে চিন্তা করতে পারে। ভবিষ্যতে কে কোন পেশায় যাবে সে অনুযায়ী তারা পড়াশোনা করে। বয়ঃসন্ধিক্ষণে নিজস্ব লক্ষ্য ও মূল্যবোধ তৈরি হয়। এ বয়সে ছেলেমেয়েরা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। এ সময় তারা নিজ চেহারার প্রতি মনোযোগী হয়। এছাড়া এ বয়সের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নৈতিকতা অর্জন (ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বোঝা) ও সামাজিক দায়িত্বপূর্ণ আচরণ (এলাকায় গাছ লাগানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ইত্যাদি) গ্রহণের আগ্রহ তৈরি হওয়া।
আমি মনে করি রাফি পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়ে উঠবে না। রাফি বৈমানিক হতে চায়। বৈমানিক হতে হলে বিজ্ঞানের ওপর দক্ষতা থাকা জরুরি। কিন্তু তার মা তাকে পছন্দমতো পড়তে দেন না। এছাড়া বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী তাকে খেলতে দেন। যা তার বিকাশে বাধা হয়ে উঠতে পারে।
কৈশোরকালীন সময়ে ছেলেমেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হতে পছন্দ করে এবং এটি হলো পরিপূর্ণ বিকাশের সময়। তাদের মধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করার চাহিদা থাকে। তারা বন্ধুদের সাথে মিশে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে চায়। পরিবার ও সমাজের প্রেক্ষিতে তারা ভালো-মন্দ, ন্যায়- অন্যায় বোঝা শুরু করে এবং তাদের নিজস্ব লক্ষ্য ও মূল্যবোধ তৈরি হয়। তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী পেশার চিন্তা করে ও সে অনুযায়ী পড়াশোনা করে। কিন্তু এ সময় পিতামাতা বাধা দিলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় পরিবার থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে খারাপ বন্ধুদের সাথে মেশার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। ফলে শারীরিক, সামাজিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
তাই আমি মনে করি, এরূপ পরিবেশে থাকলে রাফির পরিপূর্ণ বিকাশ হবে না।
জনমানব জীবকোষের নিউক্লিয়াসে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
বিকাশ মূলত শিশুর গুণগত পরিবর্তন।
শিশুর বিকাশ বলতে দৈহিক আকার-আয়তনসহ আচরণ, দক্ষতা ও কার্যক্ষমতার পরিবর্তনকে বোঝায়। শিশুর মধ্যে এ পরিবর্তন অভিজ্ঞতা ও পরিপক্বতার মাধ্যমে অর্জিত হয়। বিকাশ মৃত্যু পর্যন্ত চলমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!