ব্যাখ্যা দুই প্রকার-
১. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
২. লৌকিক ব্যাখ্যা
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ তিনটি-
এগুলো হলো-
১. বিশ্লেষণ
২. শৃঙ্খলযোজন
৩. অন্তর্ভুক্তি
উদ্দীপকে লাহান্তির দাদির বক্তব্যে লৌকিক ব্যাখ্যার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে লৌকিক ব্যাখ্যার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
কুসংস্কার ও প্রচলিত ধারণার ভিত্তিতে আলোচ্য ঘটনার ব্যাখ্যাদানের প্রক্রিয়াকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। এরূপ ব্যাখ্যার মাধ্যমে অলৌকিক বিষয় দ্বারা বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে বিশ্লেষণ করা হয়। এককথায় কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় না করে এবং প্রাকৃতিক নিয়মের প্রয়োগ ব্যতীত কেবল নিজস্ব বিশ্বাসের ভিত্তিতে জাগতিক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে লৌকিক ব্যাখ্যা। লৌকিক ব্যাখ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা যায়, “যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। যেমন: 'চন্দ্রগ্রহণ'-কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যদি বলা হয়, 'রাহু নামক দানব যখন সাময়িকভাবে চাঁদকে গ্রাস করে, তখনই চন্দ্রগ্রহণ হয়', তাহলে এ ব্যাখ্যাটি হবে লৌকিক ব্যাখ্যা। কারণ এখানে চন্দ্রগ্রহণের মতো একটি প্রাকৃতিক ঘটনা অতিপ্রাকৃত বিষয় দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা একটি দুর্বোধ্য ব্যাখ্যা। কেননা সাধারণ মানুষের কাছে 'রাহু' নামক দানবের প্রকৃতি অজানা, যা তাদের কাছে বোধগম্য নয়। কাজেই আলোচ্য ব্যাখ্যাটিকে একটি লৌকিক ব্যাখ্যা হিসেবে অভিহিত করা যায়। উল্লেখ্য, যেহেতু লৌকিক ব্যাখ্যায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের কোনো প্রয়োগ থাকে না, তাই একে অবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলেও আখ্যায়িত করা যায়।
সুতরাং বলা যায়, কুসংস্কার ও প্রচলিত ধারণার উপর ভিত্তি করে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তাই লৌকিক ব্যাখ্যা।
উদ্দীপকে লাহান্তির বক্তব্যের আলোকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং তার দাদির বক্তব্যের আলোকে লৌকিক ব্যাখ্যার মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো-
১। লৌকিক ব্যাখ্যার ভিত্তি হলো অতিপ্রাকৃত ও অলৌকিক কারণ। যেমন: এরূপ ব্যাখ্যায় বলা হয়, দেবতার অসন্তুষ্টির কারণেই বিভিন্ন রোগ হয়। এ ক্ষেত্রে রোগের সৃষ্টিতে দেবতার অসন্তুষ্টি হচ্ছে একটি অতিপ্রাকৃত ও অলৌকিক কারণ, যার কোনো বাস্তবতা নেই। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ভিত্তি হলো প্রাকৃতিক নিয়ম ও বাস্তব কারণ। যেমন: এরূপ ব্যাখ্যায় বলা হয়, 'জীবাণুর সংক্রমণের কারণেই বিভিন্ন রোগ হয়।' এ ক্ষেত্রে জীবাণুর সংক্রমণের সাথে রোগের একটি কারণিক সম্পর্ক আছে, যা নিয়মসংগত, বাস্তব এবং প্রমাণিত।
২। লৌকিক ব্যাখ্যায় ঘটনাবলির মধ্যকার সাদৃশ্যের বিষয়সমূহ কেবল অবলোকন করা হয়, এগুলোর কোনোরূপ যথার্থতা বিচার করা হয় না। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনাবলির মধ্যকার সাদৃশ্যের বিষয়সমূহের মূল্য ও গুরুত্ব নিরূপণ করার মাধ্যমে এগুলোর যথার্থতাও প্রতিপাদন করা হয়।
৩। লৌকিক ব্যাখ্যায় মূলত বিশেষ ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয়। পক্ষান্তরে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বিশেষ ঘটনার সাথে যুক্ত সাধারণ নিয়মের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
৪। লৌকিক ব্যাখ্যায় বিচ্ছিন্নভাবে ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সমজাতীয় ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার মাধ্যমে ঘটনাগুলোকে সামান্যীকরণের প্রেক্ষিতে মূল ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়ে থাকে।
৫। লৌকিক ব্যাখ্যায় ঘটনার শৃঙ্খলাবদ্ধতা থাকে না, অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কার্যকরণ শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
৬। লৌকিক ব্যাখ্যার ভিত্তি হচ্ছে কুসংস্কার, প্রথাগত বিশ্বাস, প্রত্যাদেশ, আপ্তবাক্য বা প্রাধিকার ইত্যাদি। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ভিত্তি হচ্ছে ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতালব্ধ সাক্ষ্য- প্রমাণ।
৭। লৌকিক ব্যাখ্যা মূলত লৌকিকতা, অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ইত্যাদি অবৈজ্ঞানিক বিষয়সমূহের সাথে জড়িত। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রকল্প, সংযুক্তকরণ, অবরোহ, আরোহ, শ্রেণিকরণ ইত্যাদি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত।
৮। লৌকিক ব্যাখ্যা একটি অস্থায়ী প্রক্রিয়া। কেননা এরূপ ব্যাখ্যা হচ্ছে পরিবর্তনশীল। পক্ষান্তরে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অপরিবর্তনীয়, তাই এর স্থায়িত্ব প্রমাণ করে।
সুতরাং লৌকিক ব্যাখ্যা ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পার্থক্য আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, এরা প্রক্রিয়াগত, পদ্ধতিগত এবং ভিত্তিগত সব দিক থেকেই পরস্পর আলাদা।
Related Question
View Allজগতের যাবতীয় জটিল ঘটনাকে সহজবোধ্য করার প্রেক্ষিতে মানবমনের সার্বিক কৌতূহল বা জিজ্ঞাসা নিবৃত্ত করার মাধ্যমে মানুষের বোধশক্তিকে পরিতৃপ্ত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে ব্যাখ্যা।
যেকোনো বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা নির্ভর করে মানবজীবনে বিষয়টির প্রয়োজনীয়তার উপর। আর ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়া হচ্ছে এমনই একটি বিষয়, মানবজীবনে যার অপরিসীম প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তাই শুধু দৈনন্দিন জীবনেই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর গুরুত্বের কারণেই বর্তমানের জ্ঞান- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার ধারায় ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সুতরাং যুক্তিবিদ্যায় ব্যাখ্যার প্রাসঙ্গিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে মনির কলম কিনতে গিয়ে প্রথম কলমটি পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও সে অন্য দোকানে গিয়ে একটি কলম কিনল। যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়।
কলম কেনার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের মনির যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, তা হলো শৃঙ্খলযোজন। আর শৃঙ্খলযোজন কথাটির অর্থ হলো 'কতগুলো ঘটনার পর্যায়ক্রমিক পারস্পরিক সংযুক্তি'; অর্থাৎ মনির এই পদ্ধতি অবলম্বন করেই সব বিষয় পর্যালোচনা করে অন্য দোকানে তার দেখা দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কেননা কলমটির আকার সুবিধাজনক, যার ফলে ব্যবহার সুবিধাজনক হবে।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, মনিরের দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্তটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আলোকে সঠিক ছিল।
আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে।- উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের মনির দোকানে কলম কিনতে গিয়েছে। এক দোকানে সে একটি কলম দেখল, যার আকার ও রং অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং কলমটি বেশ দামি। এ ছাড়া কলমটি একটি নামি কোম্পানির তৈরি; কিন্তু কলমটি না কিনে মনির অন্য একটি দোকানে যায়। সেখানে সে এমন একটি কলম দেখল যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়। এ ছাড়া কলমটির আকার এমন, যার ব্যবহার অত্যন্ত সুবিধাজনক। মনির কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নিল এবং মনে মনে পর্যালোচনা করে দেখল সিদ্ধান্তটিতে কোনো ভুল আছে কিনা। কেননা আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে। যেমন: কোনো নামি কোম্পানির কলম হলেই যে সেটি ভালো হবে এবং সাধারণ কোম্পানির কলম হলে তা খারাপ হবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তাই উদ্দীপকের মনির উক্ত বিষয়গুলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণরূপের' আলোকে পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাধারণত 'বিশ্লেষণ' কথাটির অর্থ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে এর গুরুত্ব অনুধাবন করা। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের উক্তিটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংযোগ ক্রিয়া বর্তমান।
যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয় তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। সাধারণভাবে বলতে গেলে সাধারণ লোকের সাধারণ বিশ্বাস এবং মনগড়া চিন্তা ও প্রচলিত ধারণার দ্বারা কোনো ঘটনার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা-ই হচ্ছে লৌকিক ব্যাখ্যা। তাই লৌকিক ব্যাখ্যা হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে বাসা বাঁধা বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের প্রতিফলন।
সুতরাং লৌকিক ব্যাখ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা যায়, যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!