দাদু নাতিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালি জনগণের মুক্তি সংগ্রামের যথার্থতা বর্ণনা করেন। একই সাথে তিনি হানাদার বাহিনী দ্বারা অত্যাচারিত ও আশ্রয়হীন দেশত্যাগী জনগণকে ভারত সরকার কর্তৃক আশ্রয় প্রদান, খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা দিয়ে মানবতার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত স্থাপনের কথা উল্লেখ করেন

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

মুক্তি সংগ্রাম ১৯৭১ সালে সংঘটিত হয়।

উত্তরঃ

হানাদার বাহিনী বলতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বোঝায়।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে। তারা লুটতরাজ, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যা প্রভৃতি সংঘটিত করে। এ কারণে এই পাকবাহিনীকে হানাদার বাহিনী হিসেবে অভিহিত করা হয়।

উত্তরঃ

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের প্রচার মাধ্যম অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রচার মাধ্যমগুলো পাক হানাদার বাহিনীর নির্যাতন, লুণ্ঠন, গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, অত্যাচার ও উৎপীড়ন প্রভৃতির সংবাদ বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে। এছাড়া ভারতের সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমগুলো দৈনন্দিন পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক বাঙালি নিধনের সংবাদ প্রচারে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। ভারতীয় প্রচার মাধ্যম পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাঙালি নর-নারী নিধন ও নির্যাতনের সংবাদ দ্রুত বহির্বিশ্বে প্রচার করলে বিশ্ব জনমত সোচ্চার হয়ে ওঠে। তাছাড়া ভারতের প্রচার মাধ্যমগুলো ভারতে বাংলাদেশী শরণার্থীদের মানবেতর জীবনের চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে। তারা শরণার্থী শিবিরের মধ্যে বসবাসকারীদের জন্য বিশ্ববাসীর কাছে সাহায্যের দাবি করেন। এসব প্রচার প্রচারণার ফলে পাকিস্তানি অপকীর্তির খবরাখবর এত ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় যে, বিশ্বের বৃহৎ পরাশক্তি আমেরিকা এবং চীনের সমর্থন সত্ত্বেও পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত পরাজিত হতে বাধ্য হয়। এভাবে ভারতীয় প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে ভারত মানবতার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উদ্দীপকে দাদুর এ মন্তব্যটি যথার্থ।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, উৎপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বপ্রথম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ভারত। ভারত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্লজ্জ বাঙালি নিধনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে পাকিস্তান সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানায়। এতদসত্ত্বেও পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের অত্যাচার, উৎপীড়ন ও নির্যাতনের ফলে লক্ষ লক্ষ বাঙালি দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। এ সময় ভারতের সাধারণ জনগণ দেশত্যাগী বাঙালিদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে। ফলে ভারতের সীমান্ত এলাকায় স্থাপিত হয় হাজার হাজার শরণার্থী শিবির। বাঙালি শরণার্থীদের চাপে ভারত সরকার দিশেহারা হয়ে জাতিসংঘের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনমূলক কর্মকান্ড বন্ধের দাবি উত্থাপন করে। কিন্তু পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও. গণচীনের বন্ধুরাষ্ট্র হওয়ায় এবং জাতিসংঘের নেতিবাচক ভূমিকায় ভারত মর্মাহত হয়। ফলে বাংলাদেশে পাক হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, নারী ধর্ষণ, লুটতরাজ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের বীভৎস ঘটনা ভারত প্রচার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরে। শুধু তাই নয়, ভারতের তাৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্রায় এক কোটি বাঙালি শরণার্থীকে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাছাড়া ভারত সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করলে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কাজ সহজ হয়।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য।

131
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

১৯৭১ সালে মুজিবনগর থেকে সর্বপ্রথম 'দৈনিক জয়বাংলা' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

383
উত্তরঃ

মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারত সরকার বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, সামরিক দিক দিয়ে নানাভাবে সহায়তা করে।
পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ভারত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলাসহ সামরিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে সাহায্য করে। এছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন, বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র ও মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ভারত সরকার ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছিল।

444
উত্তরঃ

রিফাতের লেখাটি মূলত চীনকে ইঙ্গিত করে লেখা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে চীনের প্রথম পর্যায়ের ভূমিকা হলো স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থেকে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
মুক্তিযুদ্ধের শুরু হতে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধ শুরুর পূর্ব পর্যন্ত চীন পাকিস্তানপন্থি থাকলেও মোটামুটিভাবে বাঙালির সংগ্রাম বিরোধী কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গোপনে সে পাকিস্তানের সামরিক চক্রকে নৈতিক শক্তি ও সাহস যুগিয়েছিল এবং সরাসরি সামরিক উপকরণ সরবরাহ করেছিল। ১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট ভারত- েচুক্তি স্বাক্ষরের পর চীনের পাকিস্তানপন্থি নীতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। সেপ্টেম্বর মাসে চীন-পাকিস্তানকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে, জাতীয় স্বার্থরক্ষায় চীন পাকিস্তানকে সাহায্য করবে। তখন পর্যন্তও চীনের বক্তব্যে বাঙালি বিরোধী তেমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৯৭১ সালের ৫ নভেম্বর চীনাদের আস্থাভাজন ভুট্টোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে যায় চীন থেকে অতিরিক্ত অঙ্গীকার বা সাহায্য পাওয়ার আশায়। কিন্তু চীনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী চি পেঙ ফি পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যার একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। বাঙালিবিরোধী বক্তব্য না রাখলেও পশ্চিম পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে চীন নিয়মিতভাবে পাকিস্তানকে সমরাস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে।
তাই বলা যায়, রিফাতের ইঙ্গিতকৃত দেশটি হলো চীন।

352
উত্তরঃ

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে এই দেশটি অর্থাৎ চীনের বিরোধিতার কোনো ছাপ না পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোপুরি বিরোধী ছিল।
পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারতের পূর্বাঞ্চলে সামরিক হামলা করলে শুরু হয় সরাসরি পাক-ভারত যুদ্ধ। এ সময় হতে চীন জাতিসংঘে সরাসরি বাঙালিবিরোধী ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। পাক-ভারত যুদ্ধের জন্য চীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে দায়ী করে। যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করার লক্ষ্যে ৫ ও ৭ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতিসংঘে দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। কিন্তু প্রস্তাব দুটোর বিরুদ্ধে চীন প্রথম ভেটো প্রয়োগ করে এবং চীনের নিজস্ব প্রস্তাবে ভারতকে আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, চীন জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের মাত্র ৪০ দিনের মাথায় নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী আসন লাভের পর প্রথম প্রস্তাবেই ভেটো প্রয়োগ করেছিল। এছাড়া, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে চীন এক বিবৃতিতে 'তথাকথিত' বাংলাদেশের সৃষ্টির জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের তীব্র সমালোচনা করে। তবে পরবর্তীতে চীন তার নীতি পরিবর্তন করে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, এই দেশটির অর্থাৎ চীনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোপুরি বিরোধী উক্তিটি যথার্থ।

224
উত্তরঃ

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য। পরিচালিত হত্যাকাণ্ডই হলো বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড।
ঢাকার মিরপুরের শিয়ালবাড়ি, মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার বদ্ধভূমিসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। জাতির সূর্য সন্তানদের তারা অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। যুদ্ধের পর বিভিন্ন বধ্যভূমিতে যেসব লাশ পাওয়া যায় তাদের কারও হাত-পা বাঁধা ছিল, কারও জিহ্বা কাটা ছিল, চক্ষু উপড়ানো ছিল কিংবা হাত-পা ভাঙা ছিল। বুদ্ধিজীবী হত্যার দিনটিকে অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর 'বুদ্ধিজীবী দিবস' ঘোষণা করা হয়।

538
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews