সমাজজীবনে বাঞ্চিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনয়নের উদ্দেশ্যে গৃহীত সুচিন্তিত, সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক পদক্ষেপকে সামাজিক পরিকল্পনা বলে।
উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতার দিক থেকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সামাজিক পরিকল্পনা পৃথক।
জনগণের সামাজিক জীবনমান উন্নয়নকল্পে যে সুশৃঙ্খল কর্মপন্থা গ্রহণ করা হয় তাকেই সামাজিক পরিকল্পনা বলা হয়। অপরদিকে,
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হলো উৎপাদনের উপাদানসমূহের বণ্টন, সম্ভাব্য সম্পদের প্রাপ্যতা প্রভৃতি নির্ধারণের পর পরিকল্পনার অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য অর্থের মাধ্যমে কৌশল নির্ধারণ করা। অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অর্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং সামাজিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জনগণের জীবনমান সংরক্ষণের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে গৃহীত বাস্তব আদর্শ বলতে সামাজিক নীতিকে বোঝানো হয়েছে।
সামাজিক নীতি সামাজিক সমস্যা নিরসনের ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে। বিবেচিত হয়। সামাজিক নীতি মানবীয় প্রয়োজন ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট থাকে। এ নীতিতে সমাজের প্রতিটি জনগণের কল্যাণের বিষয়টি সর্বাগ্রে। বিবেচনা করা যায়। তাই সামাজিক নীতি সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডের ক্ষেত্র তৈরি করে ও মানুষের প্রতিভার সুষ্ঠু বিকাশে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত বর্ণনা থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ সরকার জাতিকে খাদ্যে স্বনির্ভর করে তোলা এবং সবার জন্যে একটি নির্ভরযোগ্য খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার জন্যে কতকগুলো বাস্তব আদর্শ গ্রহণ করে। বাস্তব আদর্শগুলোর কতকগুলো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। এ বাস্তব আদর্শটি কেন গ্রহণ করা হয়েছে এবং কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত ছিল। প্রাপ্ত বাস্তব আদর্শটির বৈশিষ্ট্যগুলোকে পাঠ্যবইয়ে প্রদত্ত তথ্যের সাথে মিলিয়ে বলা যায় যে বাস্তব আদর্শটি হলো সামাজিক নীতি।
সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে অবশ্যই বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে। পারে।
আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধতার কারণে সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি হয়। সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সঠিক তথ্যের অভাব। তথ্যের অপর্যাপ্ততা ও সঠিক তথ্যের অভাবে নীতি বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দেয়। একটি দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সংকট সে দেশের সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের পথে বড় রকমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, অজ্ঞতা, অশিক্ষা প্রভৃতি সামাজিক ব্যাধি প্রকটরূপে বিরাজমান। আর কোন সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন করতে গেলে এই ব্যাধিগুলো প্রায়ই বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে পরিকল্পণা প্রণয়ন কর্মসূচি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অনেক সময়ই সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। এর ফলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। । সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নশীল দেশকে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই সময়মতো অর্থ সাহায্য পাওয়া না গেলে নীতি বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দেয়। সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের আরেকটি সমস্যা হলো বিশেষজ্ঞের অভাব। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ মূলত এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, সামাজিক নীতি তখনই সফল হবে যখন এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন অধিকতর ফলপ্রসূ হবে। তাই এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে একজন সমাজকর্মী বা সরকারকে উল্লিখিত সমস্যাগুলো সমাধান করে সামাজিক নীতি প্রণয়ন করা উচিত।
Related Question
View AllMDG-র পূর্ণরূপ Millennium Development Goals |
জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি নীতিই জনসংখ্যা নীতি।
যে কোনো দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সে দেশের জনসংখ্যা। অর্থাৎ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পদের সাথে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা আবশ্যক। সঠিকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত নীতিকেই জনসংখ্যা নতি বলা হয়।
শীলার কর্মকান্ডের সাথে বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার মিল রয়েছে।
বেগম রোকেয়া ছিলেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য তাদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করেন। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র বালিকাদের শিক্ষাদান, বিধবা ও আশ্রয়হীন মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকের শীলার কর্মকাণ্ডেও এ বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়।
শীলা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে গ্রামে ফিরে যান। তিনি তার এলাকার অধিকার বঞ্চিত নারীদের সংগঠিত, শিক্ষাদান করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে একটি মহিলা সমিতি ও নারী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড উপরে বর্ণিত বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শীলার কাজের সাথে বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান নারীদের উন্নয়নে সরকারের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন যার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।
নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে রক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রভৃতি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর প্রধান উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন, অভিভাবকহীন, বিধবা, অসহায় নারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রভৃতির উদ্দেশ্যও এ নীতির লক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রূপপুর গ্রামের নারীরা পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তাদের সমান মজুরি পায় না। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। নারী-পুরুষের এই বৈষম্য দূরীকরণ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। আর রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নের জন্য এ নীতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নে সরকার প্রণীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। আর এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা
নয়টি দেশের সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে 'Study Group' গঠন করা হয়।
সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণে সমাজকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম।
সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের সেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত থাকে। অবহেলিত বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা এবং সর্বোপরি সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে পেশাদার সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ। বিশেষ করে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!