আদালতের হুকুম বা নির্দেশনামাকে বলে ডিক্রি।
'তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু'বিঘার পরিবর্তে।'- চরণটির মাধ্যমে উপেনের শেষ সম্বল দুই বিঘা জমি হারানোকে বোঝানো হয়েছে।
উপেনের শেষ সম্বল দুই বিঘা জমিও জমিদার কিনে নিতে চায়। উপেন রাজি না হলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জমিদার জোরপূর্বক সেই জমির কেড়ে নেয়। এতে একেবারেই ভিটেছাড়া, নিঃস্ব হয়ে পড়ে উপেন। ভিটেছাড়া হয়ে পথে নামে উপেন। আর এই পথে নামাকেই উপেন তুলনা করেছে পুরো দুনিয়া লিখে দেওয়ার সাথে। কারণ সব হারিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না। সেজন্যই উপেন মনে করেছে তার দুই বিঘা জমির পরিবর্তে তাকে যেন পুরো বিশ্ব লিখে দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকের গোপাল সাহা প্রতারণা ও জুলুম করে অন্যের জমি দখল করার দিক থেকে 'দুই বিঘা জমির' কবিতার জমিদার।
ক্ষমতাধররা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে। অনেকে আবার জোরজুলুম করে অন্যের সহায়-সম্পদ হস্তগত করে সম্পদের পাহাড় বানায়। বর্তমানে সমাজে এ অন্যায় প্রকট আকার ধারণ করে আছে।
উদ্দীপকে গোপাল সাহা একজন মিথ্যবাদী ও প্রতারক। সে দিনমজুর ভবেশকে মেয়ের বিয়ের জন্য পাঁচ হাজার টাকা ধার দেয় আর প্রমাণ হিসেবে সাদা কাগজে টিপসই নিয়ে রাখে। দুমাস যেতে না যেতেই সে মিথ্যে দলিল দেখিয়ে দলবল নিয়ে ভবেশের ভিটেমাটি দখল করে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায়ও দরিদ্র উপেনের জমি দখল করে স্থানীয় জমিদার। শখের বাগানকে দৈর্ঘ্য-প্রস্থে সমান করার জন্য সে উপেনকে মিথ্যা দেনার দায়ে জড়িয়ে তার ভিটেমাটি দখল করে। তাই বলা যায় যে, এই জোর-জবরদস্তি করে অন্যের জায়গা জমি দখলের দিক দিয়ে উদ্দীপকের গোপাল সাহা 'দুই বিঘা জমি' কবিতার জমিদার।
না, আংশিক সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের ভবেশ পঠিত কবিতা 'দুই বিঘা জমি'র উপেন হয়ে উঠতে পারেনি।
সম্পদের প্রতি লোড থাকে অনেকের। বিশেষ করে যারা ধনী তারা আরও বেশি করে সম্পদের মালিক হতে চায়। লোভ তাদের কখনই কমে না। গরিবের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনও তারা গ্রাস করতে কুণ্ঠিত হয় না।
উদ্দীপকে এক হতভাগ্য দিনমজুর ভবেশ। মেয়ের বিয়েতে টাকা ধার করতে ব্যবসায়ী গোপাল সাহার কাছে যায়। ব্যবসায়ী ৫ হাজার টাকা ঋণ দেয় এবং সাদা কাগজ ভবেশের টিপ সই নিয়ে রাখে। তার কিছুদিন পর জোর করে ভবেশের জায়গাজমি দখল করে নিলে সে নিঃসম্বল হয়ে পড়ে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেনও জমিদারের রোষানলে পড়ে তার ভিটেমাটি হারায়। এটুকু সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের ভবেশ কবিতার উপেন হয়ে উঠতে পারেনি।
'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন একজন দরিদ্র কৃষক। জমিদারের চোখ পড়ে তার শেষ সম্বল দুই বিঘা জমির ওপর। উপেন জমি বিক্রি করতে না চাইলে জমিদার মিথ্যা দেনার দায়ে তার জমি দখল করে নেয়। উপেন নিঃস্ব হয়ে পথে বেরিয়ে পড়ে। দীর্ঘ দিন সে পথে পথে ঘোরে, জন্মভূমির কথা স্মরণ করে কষ্ট পায়। শেষ পর্যন্ত কিন্তু জন্মভূমির টানে আবার ফিরে আসে গ্রামে। নিজের গাছের আম কুড়াতে গেলে চোর প্রতিপন্ন হয়। উপেনের জীবনের এসব ঘটনা ভবেশের জীবনে ঘটেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভবেশ আলোচ্য কবিতার উপেন হয়ে উঠতে পারেনি।
Related Question
View Allরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার পান।
'রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি' বলতে বোঝানো হয়েছে বিত্তবান লোকের প্রচুর সম্পদ থাকার পরও তারা দরিদ্রের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেয়।
ধনী ব্যক্তিরা কখনো অল্পে তৃপ্ত হয় না। আরও সম্পদের লোভে তারা সবকিছু করতে পারে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতা জমিদার উপেনের সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত জমির দখল নিতে চায়। কিন্তু উপেন দিতে না চাইলে জমিদার তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে সে জমি দখল করে নেয়। অর্থাৎ যার অনেক আছে সে আরও চায়। উপর্যুক্ত উদ্ধৃতির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
ক' হাউজিং সোসাইটির কার্যক্রমে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার বাবু সাহেব চরিত্রের শোষক মানসিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
আমাদের সমাজে সবলেরা সব সময় দুর্বলের উপর অত্যাচার করে। এটাই যেন সমাজের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্বলদের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে, এ অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে পারে না।
উদ্দীপকে মতিন মিয়ার ছোট্ট একটা চায়ের দোকানের পাশেই গড়ে উঠেছে 'ক' হাউজিং সোসাইটির বিশালাকার অ্যাপার্টমেন্ট। একদিন সকালে মতিন দেখতে পায়, তার দোকান অ্যাপার্টমেন্টের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে আটকে গেছে। উপায়ান্তর না দেখে রাস্তায় রাস্তায় ফ্লাস্কে করে চা বিক্রির মাধ্যমে সে সংসার চালায় আর উদাস দৃষ্টিতে অ্যাপার্টমেন্টের দিকে তাকিয়ে বেদনার নিশ্বাস ছাড়ে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায়ও মিথ্যে মামলা দিয়ে জমিদার বাবু উপেনের জমি দখল করে নেয়। ভিটেছাড়া উপেন বাধ্য হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় সাধুর শিষ্য হয়ে। উভয় জায়গায় দরিদ্রের ওপর শোষকের অত্যাচার প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, 'ক' হাউজিং সোসাইটির কার্যক্রমে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার বাবু সাহেব চরিত্রের শোষক মানসিকতার দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের মতিন 'দুই বিঘা জমির' শোষিত উপেনের সার্থক প্রতিনিধি, কারণ তারা দুজনই শোষিত।
দরিদ্র অসহায় লোকেরা সামান্য কিছু পেলেই খুশি হয়, আর বিত্তশালী ভূস্বামীরা যে সম্পদ আছে তার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করতে চায়। এমনকি গরিবের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিতেও তারা দ্বিধা করে না।
উদ্দীপকের মতিনের ছোট্ট চায়ের দোকানের পাশেই গড়ে উঠেছে 'ক' হাউজিং সোসাইটির বিশালাকার অ্যাপার্টমেন্ট। একদিন সকালে সে দেখে, তার দোকানটি অ্যাপার্টমেন্টের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে আটকে গেছে। মতিন বুঝতে পারে যে, তার পক্ষে আর কিছুই করার নেই। তার এত দিনের সম্বল হাতছাড়া হয়। এ শোষণের পরিণতিতে সে ফ্লাস্কে করে চা নিয়ে রাস্তায় নামে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে শোষক ও শোষিতের কথা। সমাজে একশ্রেণির লুটেরা বিত্তবান প্রবল প্রতাপ নিয়ে বাস করে। সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে তারা সম্পদশালী হয়। কবিতার দরিদ্র কৃষক উপেন ঋণের দায়ে সব হারিয়েছে, বাকি আছে মাত্র দুই বিঘা জমি। অথচ জমিদার তার বাগান বাড়ানোর জন্য সেই জমিরও দখল নিতে চায়। সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত সেই জমি উপেন দিতে না চাইলে জমিদার মিথ্যে মামলা দিয়ে ঐ জমি দখল করে নেয়। উদ্দীপকের মতিন ও 'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন দুজনেই শোষকদের হাতে শেষ সম্বল হারিয়ে পথে নামতে বাধ্য হয়। উপেন এবং মতিনের শোষিত হওয়ার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বিষয় অভিন্ন। কাজেই একথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, উদ্দীপকের মতিন 'দুই বিঘা জমি' কবিতার শোষিত উপেনের সার্থক প্রতিনিধি।
'দুই বিঘা জমি' কবিতাটি পাঠের উদ্দেশ্য- শিক্ষার্থীদের শোষকশ্রেণির নিষ্ঠুর শোষণ ও গরিবদের দুর্দশা সম্পর্কে জানানো।
'চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো-জোর মরিবার মতো ঠাঁই' বলতে দুই বিঘা জমিই যে উপেনের শেষ সম্বল সে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন একজন দরিদ্র কৃষক। জমিদারের বাগানের পাশে তার দুই বিঘা জমি রয়েছে। এই জমি তার পৈতৃক ভিটা। তার সাত পুরুষের জন্মস্থান। জমিদার তার বাগান দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সমান করার জন্য উপেনের কাছ থেকে সেই জমি কিনে নিতে চায়। উপেন তখন জমিদারকে বলে যে, জমিদার তো ভূস্বামী তার ভূমির শেষ নেই কিন্তু এই দুই বিঘে জমিই তার শেষ সম্বল। তার সাত পুরুষের বসত ভিটের ঐটুকু ভূমিই তার শেষ আশ্রয়স্থল। তাই সে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!