মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যাংকই হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক।
ঝুঁকিগত তারতম্যের কারণে সব ঋণে জামানতের প্রয়োজন হয় না।
সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি ঋণগুলো খেলাপি ঋণে (Default Loans) পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই এই ঋণের ঝুঁকি ও সুদের হার উভয়ই বেশি হয়। এই ঝুঁকি কমানোর জন্য ঋণ দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তার জন্য ব্যাংক জামানত নেয়। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি ঋণের ঝুঁকি ও খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই ব্যাংক প্রায়ই জামানত ব্যতীত এই ধরনের ঋণ মঞ্জুর করে। ব্যাংক জমাতিরিক্ত ঋণ হলো স্বল্পমেয়াদি ঋণের উত্তম উদাহরণ যাতে জামানতের প্রয়োজন হয় না। এজন্য সব ঋণে জামানত বাধ্যতামূলক নয়।
জনাব পাটোয়ারি একজন সৎ ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে ব্যাংক তাকে জামানত ছাড়াই ঋণ দিয়েছে।
ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে হলে ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই জামানত হিসেবে সম্পত্তি ব্যাংকের কাছে জমা রাখতে হয়। যদি কখনো ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন তাহলে ব্যাংক উক্ত সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ আদায় করতে পারে। ঋণগ্রহীতা কোনো সম্পত্তি বন্ধক না দিয়ে তার ব্যক্তিগত সুনাম, সততা কাজে লাগিয়ে ঋণ নিলে তা ব্যক্তিক জামানত হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকে দিনাজপুরের ব্যবসায়ী জনাব পাটোয়ারি একজন সৎ ব্যক্তি। তার ব্যবসায়ের অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন হলে কোনো সম্পদ জামানত ছাড়াই স্থানীয় ব্যাংক থেকে ২ বছরের জন্য ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। এখানে তিনি ব্যক্তিক জামানত ব্যবহার করেছেন। তাই তার কোনো সম্পত্তি ব্যাংকে জমা দিতে হয়নি। ব্যক্তিক জামানতের ক্ষেত্রে গ্রাহককে চরিত্র, সততা, আর্থিক সচ্ছলতা, সামাজিক মর্যাদা প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করা হয়। ব্যাংক সাধারণত ঋণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে ব্যক্তিক জামিনদারের সংখ্যা নির্ধারণ করে। তাই উদ্দীপকে জনাব পাটোয়ারি একজন সৎ ব্যবসায়ী হওয়ায় ব্যাংক কোনো অব্যক্তিক জামানত ছাড়াই ব্যক্তিক জামানতের বিপরীতে তাকে ঋণ দিয়েছে।
জনাব আব্দুল হাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক-অব্যক্তিক জামানত চাচ্ছে যা জনাব পাটোয়ারি প্রতিষ্ঠিত সৎ ব্যবসায়ী হওয়ায় তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাকে ব্যাংক সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহকের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি কিংবা ঋণগ্রহীতা বা তৃতীয় পক্ষের নিশ্চয়তা জামানত হিসেবে নেয়। ঋণগ্রহীতা কোনো কারণে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে ব্যাংক জামানত বিক্রি করে বা নিশ্চয়তাদানকারী তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে ঋণের টাকা আদায় | করতে পাঁরে।
উদ্দীপকে জনাব পাটোয়ারি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। সততার জন্য তিনি বেশ পরিচিত। অন্যদিকে আব্দুল হাই সদ্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ের মালিক। জনাব পাটোয়ারির মূলধনের প্রয়োজন হলে কোনো জামানত ছাড়াই ব্যাংক থেকে ২ বছরের জন্য ঋণ নিতে পেরেছেন। জনাব আব্দুল হাইও ব্যাংকের কাছে ঋণের আবেদন করেন। কিন্তু আব্দুল হাইকে স্থায়ী সম্পত্তির দলিল বন্ধক রেখে ঋণ নিতে হয়েছে। ঋণের অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাস্বরূপ ব্যাংক জামানত নেয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক ব্যক্তিক জামানত নেয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে অব্যক্তিক জামানত নেয়। প্রতিষ্ঠিত সৎ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যাংক সাধারণত ব্যক্তিক জামানত তথা তার ব্যক্তিগত চরিত্র, সততা, সুনাম প্রভৃতি বিবেচনা করে ঋণ দেয়। আর নতুন কোনো ব্যবসায়ী ঋণ আবেদন করলে অব্যক্তিক জামানতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কেননা নতুন ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অজানা। ফলে ঋণের অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা কম। তাই উদ্দীপকে জনাব পাটোয়ারি একজন প্রতিষ্ঠিত সৎ ব্যবসায়ী হওয়ায় তার ঋণের বিপরীতে অব্যক্তিক জামানত রাখতে হয়নি। কিন্তু নতুন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় জনাব আব্দুল হাইকে তার স্থায়ী সম্পদের দলিল তথা অব্যক্তিক জামানত বন্ধক রাখতে হয়েছে।
Related Question
View Allযে ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংক তার গ্রাহককে অগ্রিম ঋণ মঞ্জুর করে, কিন্তু সরাসরি নগদে সেই টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয় না তাকে নগদ ঋণ বলে।
ব্যাংক অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করে তাই ব্যাংক তহবিল।
ব্যাংক একটি আর্থিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক ব্যবসায়ের সফলতা অর্জনে এ তহবিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ ও ধার করা অর্থের সমন্বয়ে এ তহবিল গঠিত হয়।
জনাব রানার ব্যাংক জামানতটি পণ্য বন্ধক।
ঋণগ্রহীতা জামানত হিসেবে পণ্যের দখল ঋণদাতাকে দিলে তাকে পণ্য বন্ধক বলা হয়। এক্ষেত্রে পণ্যের মালিকানা ঋণগ্রহীতার, আর দখলস্বত্ব ঋণদাতার কাছে থাকে। ঋণ পরিশোধ করলে ঋণগ্রহীতা পণ্য ফিরে পায়। অন্যথায়, ঋণদাতা তা বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে।
উদ্দীপকের জনাব রানার মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা আছে। ব্যবসায়িক কাজে তার বড় অঙ্কের ঋণের প্রয়োজন হয়। তাই তিনি তার তৈরিকৃত মোটরসাইকেল জামানত রেখে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়। পণ্য বন্ধকের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতকৃত পণ্য জামানত রেখে ঋণ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে মোটরসাইকেল হলো জনাব রানার জন্য প্রস্তুতকৃত পণ্য। এটা বন্ধক রেখে সে ৪ কোটি টাকা ঋণ পায়। জনাব রানার জামানতটি পণ্য বন্ধকের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। তাই বলা যায়, জনাব রানা পণ্য বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিলেন।
উদ্দীপক অনুযায়ী সমতা বন্ধক অর্থাৎ কারখানার জায়গাটির দলিল জামানত হিসেবে বেশি উপযুক্ত।
যে সম্পত্তির দলিলপত্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণদাতা জামানত হিসেবে রাখেন, তাকে সমতা বন্ধক বলে। এক্ষেত্রে সম্পত্তির দখল ঋণগ্রহীতার কাছেই থাকে। উত্তম জামানত ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে ক্ষতির আশঙ্কা কমায়।
উদ্দীপকে জনাব রানা ও জনাব সবুজ দুজনেরই মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা রয়েছে। তাদের বড় অঙ্কের ঋণের প্রয়োজন। জনাব রানা তার তৈরিকৃত মোটরসাইকেল জামানত রেখে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়। অন্যদিকে, জনাব সবুজ কারখানার জায়গাটির দলিল বন্ধক রেখে ৬ কোটি টাকা ঋণ নেয়। ঋণের জামানতের ক্ষেত্রে ব্যাংক কতগুলো বিষয় বিবেচনা করে। উল্লিখিত ক্ষেত্রে জামানতের মূল্যের স্থিতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচ্য বিষয়।
জনাব রানার জামানত হলো পণ্য বন্ধক। অন্যদিকে, জনাব সবুজের জামানত হলো সমতা বন্ধক। মোটরসাইকেলের মূল্য চাহিদা অনুসারে ভিন্ন হয়। তবে জায়গার মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল। আবার আইনগত দিক বিবেচনায়ও জায়গার দলিল বেশি গ্রহণযোগ্য। তাই জনাব সবুজের সমতা বন্ধক ব্যাংকের কাছে বেশি উপযুক্ত।
ব্যাংক যে হিসাবের মাধ্যমে গ্রাহককে ঋণের টাকা প্রদান করে তাকে ঋণ হিসাব বলে।
গ্রাহক সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে KYC ফর্ম গ্রাহকের লেনদেনের সচ্ছতা নিশ্চিত করে।
KYC-এর পূর্ণরূপ হলো Know Your Customer। এ ফর্মে ব্যাংক গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, পেশা, কাজের ধরন ও অন্যান্য যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। ফলে গ্রাহক সহজে কোনো অবৈধ লেনদেন করতে পারে না। এভাবে লেনদেনের সচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!