রাজবাড়ির মালিক ইন্ডিয়ায় চলে গেছেন।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার কারণে মহারাজ ইন্ডিয়ায় চলে যান।
লেখকের ছোটবেলায় বাবার চাকরিসূত্রে জগদলের এক মহারাজের পরিত্যক্ত বাড়িতে অবস্থান করেন। সেই বাড়ির মালিক অল্প কিছুদিন আগেই দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়ায় চলে যান। কারণ ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ভারতবর্ষ ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি ভাগে ভাগ হয়। তখন ভারত থেকে অনেকে যেমন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশে চলে আসে তেমনই এদেশ থেকেও অনেকে নিরাপত্তা কিংবা জীবনযাত্রার সুবিধার জন্য ইন্ডিয়ায় চলে যায়। এসব কারণেই মহারাজ এদেশ থেকে ইন্ডিয়ায় চলে যান।
উদ্দীপকটি 'নিয়তি' গল্পের বেঙ্গল টাইগার নামের কুকুরটির যত্নের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মানুষের নানা রকম শখ থাকে। অনেকে শখ করে পশু-পাখি পোষে। তারা তাদের পোষা প্রাণীর যত্ন নেয়। তাদের নিয়মিত খাবার দেয়। কেউ কেউ তাদের বাড়তি যত্নের জন্য লোকও নিয়োগ করেন। পোষা পশু-পাখি প্রভুভক্ত হয়। তাদের মনিবের কথা শোনে। বিশেষ করে পোষা কুকুর মনিবের উপকার করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে।
উদ্দীপকে পোষা কুকুরের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের কথকের বর্ণনা অনুসারে কুকুরের দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত লোকটি কুকুরটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, কুকুরটির সঙ্গে খেলা করে। কুকুরটিও তাঁর সঙ্গে লেজ নেড়ে খেলা করে। উদ্দীপকে কুকুরের প্রতি লোকটির যত্ন নেওয়ার এই দিকটি 'নিয়তি' গল্পের বেঙ্গল টাইগার নামের কুকুরটির প্রতি লেখকের মায়ের যত্নের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। লেখকের মা কুকুরটিকে দুবেলা খাবার দেন। মাটিতে খাবার ঢেলে দিলে বেঙ্গল টাইগার তা খায় না। তাকে থালায় করে খাবার দিতে হয় এবং মুখে বলতে হয় 'খাও'; তাহলে সে খায়। লেখকরা ভাইবোন মিলে যখন খেলা করে কুকুরটি তখন তাদের সঙ্গ দেয়। এভাবে উদ্দীপকের কুকুরটির যত্নের বিষয়টি 'নিয়তি' গল্পের কুকুরটির যত্নের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকে কুকুরের পরিচর্যায় নিযুক্ত ব্যক্তির মানসিকতা এবং 'নিয়তি' গল্পের লেখকের মায়ের মানসিকতা একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের কারণে অনেকেই নানা ধরনের প্রাণী পোষে। তারা পোষা প্রাণীর নাম দেয় এবং সেই নাম ধরে ডাকে। পোষা প্রাণীর প্রতি তারা আলাদা আকর্ষণ বোধ করে। পোষা পশু-পাখির প্রতি তারা দয়া দেখায়। পোষা প্রাণীটি যন্ত্রণাকাতর হলে তারা কষ্ট পায় এবং প্রাণীটিকে সুস্থ করে তুলতে নানাভাবে চেষ্টা চালায়।
উদ্দীপকে পোষা কুকুরের প্রতি যত্ন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখানে আলোবাবু বিনুবাবুর কুকুরের যত্ন করেন। তিনি একটি দেশি কুকুরের বাচ্চার পরিচর্যা করেন। কারণ বিনুবাবু শখ করে কুকুর পুষলেও তার সেবা-যত্ন করতে জানেন না। আলোবাবু কুকুরের বাচ্চাটির চোখের পিচুটি পরিষ্কার করে দেন। কুকুরটির সাথে তিনি খেলেন। কুকুরটির মুখের সামনে তিনি টুসকি দেন। কুকুরটিও লেজ নেড়ে তার সঙ্গে খেলা করে। উদ্দীপকের কুকুরটির যত্ন নেওয়ার সঙ্গে 'নিয়তি' গল্পের কুকুরটির প্রতি লেখকের মায়ের যত্ন নেওয়ার বিষয়টির মিল আছে। লেখকের মা জগদলের রাজবাড়িতে থাকার সময় ঐ বাড়ির একমাত্র পাহারাদার একটি কুকুরের প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল আচরণ করেছেন। তিনি দিনে দুবার বেঙ্গল টাইগার নামের ঐ কুকুরটিকে খাবার দিতেন। মাটিতে দিলে খেত না বলে তিনি ঐ কুকুরকে থালায় খাবার দিতেন এবং আদর করে 'খাও' বলতেন। লেখকরা তিন ভাই-বোন মিলে যখন খেলা করতেন বেঙ্গল টাইগারও তাদের সঙ্গে থাকত।
'নিয়তি' গল্পে লেখকের মা জগদলের রাজবাড়িতে থাকতে গিয়ে সে বাড়ির কুকুরটি প্রতি আদর-যত্নের ক্ষেত্রে যে মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা উদ্দীপকের বিনুবাবুর কুকুরের প্রতি আলোবাবুর যত্ন নেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই নিজের কুকুর না হলেও যত্নের কোনো ত্রুটি তাঁরা করেননি। তাঁরা উভয়েই পোষা-প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। এই দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!