গ্রিক 'Problema' শব্দের অর্থ সমস্যা বা অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি।
যৌতুক প্রথাকে একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যৌতুক প্রথা বিভিন্ন ধরনের
সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করছে। ২০১৬ সালে এদেশে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৩৯ জন নারী, মামলা হয়েছে ৯৫টি। এছাড়া একই কারণে ১২৬ জন নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। যৌতুক প্রথার কারণে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাও সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে আছে- দারিদ্র্য, নারী উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ, দাম্পত্য কলহ, পরিবারের মর্যাদাহানী, হত্যা ও আত্মহত্যা ইত্যাদি। মূলত এ কারণেই যৌতুককে সামাজিক ব্যাধি বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি বাল্যবিবাহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিবাহকে বোঝানো হয়। এক্ষেত্রে বয়সকে বিয়ের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বাংলাদেশের শিশু আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই আইনত ১৮ বছরের নিচের কোনো মেয়ে বা ছেলের বিবাহ সম্পন্ন হলে তাকে বাল্যবিবাহ বলা হয়।
উদ্দীপকের দিবা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। জেএসসির ফরম ফিলাপ করলেও সে পরীক্ষা দিতে পারেনি। এর কারণ ছিলো স্বামী ও অভিভাবকদের নিষেধাজ্ঞা। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় নারীর মর্যাদাহীনতা এবং ক্ষমতায়নের অভাবের কারণে আবহমানকাল থেকে বাল্যবিবাহ প্রচলিত আছে। দারিদ্র্য, অজ্ঞতা, কুসংস্কার, শিক্ষার অভাব, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এ সমস্যাকে আরো উৎসাহিত করছে। ফলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই বাবা-মা মেয়ের বিয়ে দেন। এর ফলে তার পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যার সূত্রপাত হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে দিবার ঘটনা বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যাকে ইঙ্গিত করছে।
বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিরসনের জন্য ২০১৭সালে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সময় এবং পরিস্থিতির বিচারে একে যথার্থ বলা যায়।
স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে বাল্যবিবাহের প্রকোপ বেশি লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের মাত্রা হ্রাস পেলেও তা থেমে নেই। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুসারে বর্তমানে দেশে বাল্যবিবাহের হার৫৯ শতাংশ অর্থাৎ দেশে বাল্যবিবাহ হচ্ছে ৩৯ লাখ ৩০ হাজার শিশুর। ক্রমবর্ধমান এই হার হ্রাস করার জন্য প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন। এ লক্ষ্যে ২০১৭প্রণীত হয়। এ আইনের ধারা- ৭. ৮ ও ৯ এ বাল্যবিবাহ করার শাস্তি, সংশ্লিষ্ট বাবা-মা ও অন্যান্যদের শাস্তি এবং বিয়ে সম্পাদন বা পরিচালনা করার শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ধারা ৮ অনুযায়ী বাবা-মা বা অভিভাবক অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি আইনত বা আইন-বর্হিভূতভাবে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়েকে বিয়ে দিলে বা বিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর শাস্তি হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অনধিক ২ বছর ও অন্যূন ছয় মাস কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। এছাড়া বাল্যবিবাহ পরিচালনা করার জন্যও সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। উদ্দীপকের দিবার স্বামী ও অভিভাবকদের কার্যক্রম এ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাল্যবিবাহের মতো সমস্যা সমাধানে ২০১৭ সালে প্রণীত আইনটি যুগোপযোগী ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটানো জরুরি।
Related Question
View AllIFNS এর পূর্ণরূপ হলো International Federation of Nematology Societies.
সামাজিক সমস্যা সমাজের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বিধায় একে সর্বজনীনভাবে ক্ষতিকর বিবেচনা করা হয়।
বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যাকে সামাজিক সমস্যা বলা যায় না। যখন কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তখন বা সামাজিক সমস্যারূপে গণ্য হয়। এটি সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলের পরিপন্থী। এছাড়া সামাজিক সমস্যা সব দেশের সব সময়ের সমাজের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। কোনো সমাজের মানুষই সামাজিক সমস্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। তাই সামাজিক সমস্যাকে সর্বজনীন ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আনিসা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
যে খাদ্যে খাবারের ছয়টি গুণ, যেমন- আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বিদ্যমান সেই খাবার হলো পুষ্টিসম্মত খাবার। এ ধরনের খাবারের অভাবে শরীরে যে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাই হলো অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতা। আনিসার ক্ষেত্রে এ অস্বাভাবিক অবস্থাই দৃষ্টিগোচর হয়।
বস্তিবাসী আনিসা চোখে সমস্যা, মুখে ঘা, ঠোঁট ফাঁটা সমস্যাগুলোতে ভুগছে। এছাড়া রক্তস্বল্পতার জন্য তার মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
এসব সমস্যার কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা মূলত অপুষ্টির কারণেই হয়। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে একজন মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও গুণগত খাবার। এ ধরনের খাবারের ঘাটতিই অপুষ্টির সৃষ্টি করে। এ অবস্থা শরীরে নানা ধরনের রোগের জন্ম দেয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। এছাড়া পুষ্টিহীনতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যার ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। উদ্দীপকের আনিসার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটার কারণে বলা যায়, সে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পুষ্টিহীনতা সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণকে দায়ী করা যায়।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণ করা অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশে দারিদ্র্য, অধিক জনসংখ্যা প্রভৃতি কারণে অনেকেই মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে পুষ্টিহীনতা অন্যতম। আমাদের দেশের অনেক মানুষ ঠিকমতো খাবার পায় না। আর পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান দরিদ্র লোকের জন্য প্রায় অসম্ভব। এছাড়া খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কেও এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অজ্ঞ। ফলে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তারা স্বাস্থ্যহীনতায় বা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এ কারণে এদেশের মানুষ রক্তশূন্যতা, চক্ষুরোগ, রাতকানা, রিকেটসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
আবার সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু খাবারই পর্যাপ্ত নয়, ভালো আবাসন, পোশাক এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এদেশের মানুষ পর্যাপ্ত বাসস্থান, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শহর এলাকায় বস্তি সমস্যা, গ্রাম এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় দিন পার করছে। এসব কারণে পুষ্টিহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে তাই বলা যায় অপুষ্টি নামক সমস্যাটি সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ না হওয়াই বেশি দায়ী।
জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রধান কর্মকর্তা শহর সমাজসেবা কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করেন।
সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালন বিবাহের অন্যতম কাজ। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। আর পরিবার সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। মানব শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মার ওপরই বর্তায়। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করায় শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন-পালনে কোনো সমস্যা হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!