আরবরা ৭১২ সালে সিন্ধু জয় করেন।
অসাধারণ বীরত্বের জন্য উকবা বিন নাফিসকে আরব আলেকজান্ডার বলা হয়।
বিখ্যাত বীর উকবা বিন নাফিসকে খলিফা মুয়াবিয়া ১০,০০০ সৈন্যসহ উত্তর আফ্রিকায় প্রেরণ করেন। উকবা এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে উত্তর আফ্রিকার বার্বারদের দমন করেন এবং ৬৭০ খ্রিষ্টাব্দে লিবিয়া ও তিউনিশিয়া দখল করে কায়রোয়ান নগরীতে উত্তর আফ্রিকার রাজধানী স্থাপন করেন। এরপর উকবা আরও অগ্রসর হয়ে আলজেরিয়া ও মরক্কো দখল করে আটলান্টিকের তীর পর্যন্ত মুসলিম শাসনাধীনে নিয়ে আসেন। আর রাজ্য বিস্তারে অসাধারণ বীরত্বের জন্যই উকবা বিন নাফিস ইসলামের ইতিহাসে আরব আলেকজান্ডার নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে স্পেনের উমাইয়া যুগের সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান কর্তৃক ওয়ালিদের সেনাপতি মুসা ইবনে নুসাইরকে স্পেন আক্রমণের আহ্বান জানানোর ঘটনার সাথে মিল পাওয়া যায়।
স্পেন ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রটি খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলে বিজিত হয়। আর তৎকালীন স্পেনের রাজা ছিলেন গথিক বংশীয় এক বিলাসপ্রবণ ব্যক্তি। যার কুশাসনে স্পেনের সামাজিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠে ছিল। এর ফলে সেখানকার প্রাদেশিক শাসকগণ ও বাইরের আক্রমণের মাধ্যমে রাজার পতন প্রত্যাশা করছিলেন। উদ্দীপকেও এরূপ একটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দিল্লীর সুলতান ইব্রাহিম লোদী তার আমলা আলম খান লোদীর পুত্র দেলোয়ার খান লোদীকে অপমান করলে আলম খান পুত্রের অপমানের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য কাবুলের বাদশা বাবরকে দিল্লী আক্রমণের আমন্ত্রণ জানান। অনুরূপভাবে স্পেনের সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান ও স্পেন আক্রমণের জন্য মুসলিম শাসককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। জুলিয়ান প্রথানুযায়ী তার সুন্দরী কন্যা ফ্লোরিডাকে রাজকীয় আদব-কায়দা শেখানোর জন্য স্পেনের রাজা রড়ারিকের দরবারে প্রেরণ করলে রডারিক ফ্লোরিডার শ্লীলতাহানি করেন। ফলে কাউন্ট জুলিয়ান কন্যার অপমানের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের সেনাপতি মুসা ইবনে নুসাইরকে স্পেন আক্রমণের জন্য আহবান জানান। এ ঘটনা উদ্দীপকের ঘটনারই প্রতিচ্ছবি।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত স্পেন বিজয়ের ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
উদ্দীপকে কাবুলের বাদশা বাবর কর্তৃক দিল্লী আক্রমণের কথার মাধ্যমে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলে স্পেন বিজয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর মুসলমানদের স্পেন বিজয় মূলত মধ্যযুগের ইউরোপীয় ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করেছিল।
স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় যুগ-যুগান্তরের ধর্মযাজক ও অভিজাতশ্রেণির অন্যায় ও অত্যাচারের দীর্ঘ কাহিনীর পরিসমাপ্তি ঘটে। ন্যায় ও সাম্যের ছকে গড়ে ওঠে নতুন সমাজব্যবস্থা। স্পেন বিজয়ের ফলে সেখানে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার ন্যায়সংগতভাবে স্বীকৃত হয়। পুরাতন মালিকদের হাতে সম্পত্তি প্রত্যাবর্তিত হয়। কৃষিক্ষেত্রের উন্নতি বিধানকল্পে নতুন নিয়ম প্রচলন করা হয়। এতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীভূত হয়। এছাড়া ভূমিকর ও নিরাপত্তা কর ধার্য করা হয় এবং শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি বিধান করা হয়। স্পেনে মুসলিম শাসনের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়। বহুদিন পর রাস্তাঘাটগুলো ডাকাত-জলদস্যুদের দখল থেকে মুক্ত হয়। মুসলমানদের বিচারব্যবস্থার ফলে স্পেনীয় খ্রিষ্টান ও মুসলমানরা সুবিচার পায়। মুসলিম শাসনামলে স্পেনের ভূমিদাস ও ক্রীতদাসরা স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের স্বাধীনতা পায়। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় নির্যাতন ও নিগ্রহের হাত থেকে মুক্তিলাভ করে জনগণ সম্পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা লাভ করে।
পরিশেষে বলা যায়, মুসলমানদের স্পেন বিজয়ের ফলে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে।
Related Question
View Allস্পেন ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
প্রথম আব্দুর রহমানের অনন্য কৃতিত্ব ও গুণাগুণের জন্য ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্বাসি খলিফা আল মনসুর তাকে 'কুরাইশদের বাজপাখি' বলে অভিহিত করেন।
প্রথম আব্দুর রহমান জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। কিন্তু বিদ্রোহীদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার প্রদর্শনে তিনি কুণ্ঠাবোধ করতেন না। তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি তার গতিপথের যাবতীয় প্রতিবন্ধকতাকে একক শক্তি দিয়ে নির্মূল করতেন। আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের বিরুদ্ধে খলিফা আল মনসুর একটি অভিযান প্রেরণ করেন। আদ-দাখিল আল মনসুরের সেনাপতিকে পরাজিত করে তার ছিন্ন মস্তক ও একটি চিঠিসহ আল মনসুরের দরবারে প্রেরণ করেন। তার এ অনন্য কৃতিত্ব ও গুণাগুণের জন্য ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্বাসি খলিফা আল মনসুর তাকে 'কুরাইশদের বাজপাখি' বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিহিংসার স্বরূপ প্রথম আব্দুর রহমানের ক্ষেত্রেও একই রকম ছিল।
উমাইয়া ও আব্বাসি দ্বন্দ্ব ছিল দীর্ঘদিনের। তাদের যে কোনো এক গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসলে অন্যদের চরমভাবে দমন-পীড়ন চালাত। উমাইয়াদের সরিয়ে আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় আসলে আব্দুর রহমান ভাগ্য বিপর্যয়ের শিকার হন।
উমাইয়া খিলাফতের পতন ঘটিয়ে আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে আব্বাসীয়রা উমাইয়াদের নৃশংসভাবে হত্যা শুরু করে। এই নৃশংসতার হাত থেকে কেবল উমাইয়া যুবরাজ আব্দুর রহমান রক্ষা পান। তিনি পালিয়ে গিয়ে উত্তর আফ্রিকার সিউটায় মামার আশ্রয় লাভ করেন এবং একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করে স্পেনে উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যুবরাজ আলাল যেমন রাজ্য হারা হন, একইভাবে আব্বাসিদের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি ও নৃশংসতার শিকার হয়ে প্রথম আব্দুর রহমান নিজ বাস্তুভূমি ত্যাগ করে পলায়ন করতে বাধ্য হন। দীর্ঘকাল পথে-প্রান্তরে ঘুরে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিনি নিজেকে সুসংগঠিত করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, যুবরাজ আলালের প্রতিহিংসার শিকার হওয়া এবং আব্বাসিদের ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতায় প্রথম আব্দুর রহমানের ভাগ্য বিপর্যয়ের ঘটনা একই ধারায় প্রবাহিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত যুবরাজ আলালের মতো প্রথম আব্দুর রহমানও নিজ প্রচেষ্টা ও একাগ্রতায় আমিরাত প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন।
আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের অন্যতম কৃতিত্ব হচ্ছে স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করা। বর্বর ইয়েমেনি ও খ্রিস্টানদের দ্বারা বহুবার আক্রান্ত হলেও নিজ বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা এবং সামাজিক দক্ষতার বলে এ সকল বিপদ হতে তিনি মুসলিম রাজ্য স্পেনকে মুক্ত করতে সমর্থ হন। যদিও তিনি একসময় আব্বাসীয়দের অত্যাচারের শিকার হয়ে পালিয়ে স্পেনে এসেছিলেন। উদ্দীপকের আলালও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে রাজ্যহারা হন এবং পুনরায় নিজেকে সুসংগঠিত করে রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন।
উদ্দীপকে আলাল রাজ্য দখলের ক্ষেত্রে যে ধরনের কৌশল অবলম্বন করেন ঠিক একই ধরনের কৌশলের মাধ্যমে আব্দুর রহমানও স্পেন দখল করেন। শুধু কৌশল বা শান্তি প্রস্তাব নয়, আব্দুর রহমান আদ-দাখিলকে 'মাসারা' নামক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। এ যুদ্ধে স্পেনের শাসক ইউসুফ আল ফিহরি পরাজিত হলে আব্দুর রহমান স্পেন দখল করেন। স্পেনের তৎকালীন মুদারীয় শাসনকর্তা ইউসুফ আল ফিরির কুশাসনে রাজনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। সিমারীয়রা অতিষ্ঠ হয়ে আব্দুর রহমানকে স্পেন আক্রমণের আমন্ত্রণ জানায়। এ প্রেক্ষিতে তিনি ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনে যান। তিনি বাবার, নির্যাতিত মুদারীয়দের ঐক্যবন্ধ করেন। ফলে তার শক্তি বৃদ্ধি পায় ও মুন্যে জয়লাভ করে স্পেনে আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন। আব্দুর রহমান যেমন রাজ্য দখল ও জনগণের মন জয় করেছিলেন, উদ্দীপকের আলালের ক্ষেত্রেও তা লক্ষণীয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের আলাল খলিফা আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের ন্যায় বিজিত অঞ্চলে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে আমিরাত প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন।
স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম আব্দুর রহমানকে আদ-দাখিল বলা হয়।
মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনের রাজা রডারিককে পরাজিত করে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
স্পেনের সিউটা দ্বীপের শাসক কাউন্ট জুলিয়ানের আমন্ত্রণ পেয়ে খলিফা আল ওয়ালিদের অনুমতিক্রমে ৭১০ খ্রিষ্টাব্দে মুসা ইবনে নুসায়ের সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদকে স্পেনে পাঠান। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে তারিক রাজা রডারিকের সম্মুখীন হন। সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের পর তারিক বিজয় লাভ করেন এবং রডারিক পরাজিত হয়ে নদীতে ডুবে প্রাণ হারান। তারিকের সুদক্ষ রণকৌশল আর সাহসী মনোভাবে স্পেনে ইসলামের পতাকা উত্তোলিত হয়। এ কারণেই তিনি ইতিহাসে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!