আবুল ফজল তাঁর 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে বাংলা নববর্ষকে এদেশের জনগণের নওরোজ বলেছেন।
অন্যান্য উৎসবের তুলনায় বাংলা নববর্ষের উৎসবে মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক হতে পারে বলেই বাংলা নববর্ষ বাঙালির অনন্য উৎসব।
বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ ভুলে মানুষ একত্র হয়। পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ করার মধ্যে বেঁচে থাকার নবপ্রেরণা খুঁজে পায়। পরস্পরের বাড়িতে যাওয়া-আসা, শুভেচ্ছা বিনিময়, খাওয়া-দাওয়া, নানা রকম খেলাধুলা ও আনন্দ উৎসব, মেলা ও প্রদর্শনী মিলে সারা বছরের অন্যান্য দিন থেকে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি স্বতন্ত্র ও গৌরবমণ্ডিত। তাই লেখক বলেছেন বাংলা নববর্ষ বাঙালির অনন্য উৎসব।
উদ্দীপকের দীপ্ত, শেফালী ও নিতীশ চাকমার পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনে 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে উল্লিখিত আনন্দ উৎসবের দিকটি ফুটে উঠেছে।
বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই দিনে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র, উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র বৈষম্য ভুলে সবাই আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠে। বাংলা নববর্ষের উৎসব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে।
উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষের দিনে আনন্দ উৎসবের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। দীপ্ত তার বন্ধু শেফালী ও নিতীশ চাকমাকে নিজেদের দোকানে নিয়ে গিয়ে হালখাতার মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করে। তারা বৈশাখী মেলায় গিয়ে নানা রকমের দোকানে ঘুরে ঘুরে শখের জিনিস কেনে, নাগরদোলায় চড়ে, পুতুলনাচ দেখে। 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধেও পয়লা বৈশাখের এই উৎসব আনন্দের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া হালখাতা, বৈশাখী মেলা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও প্রদর্শনীর কথাও আলোচ্য প্রবন্ধে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের দীপ্ত, শেফালী ও নিতীশ চাকমার পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনে আলোচ্য প্রবন্ধের আনন্দ উৎসবের দিকটি ফুটে উঠেছে।
"পয়লা বৈশাখকে আসিফের পরিবারের নববর্ষ পালনের রীতি থেকে উদ্ধার করাই 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশা"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলা নববর্ষ বাঙালি জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। এই উৎসব বাঙালির প্রাণের উৎসব। বাংলা নববর্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক, পারিবারিক অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এসব অনুষ্ঠান বাঙালি জীবনেরই অংশ।
উদ্দীপকে দীপ্ত তার বন্ধু আসিফ এবং তার পরিবারের কথা বলেছে। আসিফের পরিবার নববর্ষ উপলক্ষে নতুন পোশাক ক্রয় করে। এই পোশাক ক্রয়ে তাদের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। তাদের এই উদ্যোগ 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে বর্ণিত বুর্জোয়া বিলাস ও ফ্যাশনের দিকটিকে নির্দেশ করে। এই প্রবন্ধে বাংলা নববর্ষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে বর্তমানে ঢাকার বা শহরের নববর্ষ পালন অতীতের ধারা থেকে বিচ্যুত। ঢাকার বা শহরের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের নানা ধরনের রঙিন পোশাক পরিধান এবং বিভিন্ন কর্মকান্ড বিলাসিতারই নামান্তর। প্রাবন্ধিক পয়লা বৈশাখের বিভিন্ন গুরুত্ব তুলে ধরে এই অবস্থা থেকে পয়লা বৈশাখকে উদ্ধার করার প্রয়োজনীতার কথা বলেছেন।
পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে উদ্দীপকের আসিফের পরিবার যে উদ্যোগ নেয় তা আলোচ্য প্রবন্ধের বুর্জোয়া বিলাস। আমরা যেন তাতে গা ভাসিয়ে না দিই আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন। এই কারণে তিনি 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে পয়লা বৈশাখের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেছেন। তাই আমরা বলতে পারি যে, "পয়লা বৈশাখকে আসিফের পরিবারের নববর্ষ পালনের রীতি থেকে উদ্ধার করাই 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশা।" সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!