যদি কোনো ক্ষতিকর পদার্থের বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয় তবে তাই পরিবেশ দূষণ।
গ্রিন হাউসে যেমন ঘরের ভিতরের পরিবেশ বাইরের থেকে অনেক উত্তপ্ত থাকে তেমনি দূষিত বায়ুস্তরও আমাদের কে বেষ্টন করে কাল্পনিক গ্রিন হাউসের মতো কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে যা গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
প্রথম বন্ধুর বর্ণিত সমস্যাটি হলো সামাজিক পরিবেশগত সমস্যা।
সামাজিক পরিবেশগত সমস্যা সমাজে বসবাসরত মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সংঘটিত হয়। সমস্যাগুলো হলো ঘনবসতি, বস্তি সমস্যা, অপরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট, যানজট, যানবাহনের ভিড়, সামাজিক অবক্ষয়, স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব ইত্যাদি।
অপরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে স্থানের সংকুলান না হওয়ায় ঘনবসতি সৃষ্টি হচ্ছে। শহরে দরিদ্র মানুষেরা আবাসিক চাহিদা মেটাতে না পেরে বস্তি তৈরি করছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা ও মলমূত্র ত্যাগ করাতে রাস্তাঘাট অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে। যানবাহনের স্বল্পতা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ট্রাফিক অনিয়মের ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অশিক্ষা, অপুষ্টি, অনুন্নত চিকিৎসার ফলে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে। অজ্ঞতা, অসচেতনতা এবং শহরাঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দেখা দিচ্ছে। এসব সমস্যা সামাজিক জীবনকে বাধা প্রদান করছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশগত সমস্যা মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলেই সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দ্বিতীয় বন্ধুর বর্ণিত সমস্যা ছিল প্রাকৃতিক পরিবেশগত সমস্যা। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে- পানি, শব্দ, বায়ু ও মাটি দূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মরুকরণ, প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ হ্রাস প্রভৃতি। এই সমস্যাগুলোর কারণ নিম্নরূপ-
১. শিল্প কারখানার আবর্জনা ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নানাভাবে নদী-নালা, খাল-বিল ও সাগরের পানিতে মিশে পানি দূষিত করে।
২. কলকারখানা থেকে নির্গত গ্যাস পেট্রোল কয়লা, টায়ার ইত্যাদির অসম্পূর্ণ দহনের ফলে ধোঁয়া উৎপন্ন হয় যা বায়ু দূষণ ঘটায়।
৩. প্লাস্টিক ও পলিথিন জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার এবং তা যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়া মাটি দূষণের অন্যতম কারণ।
৪. কলকারখানার যান্ত্রিক শব্দ ও ব্যবহৃত সাইরেন সেখানকার কর্মরত কর্মী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
৫. প্রতিবেশিদের জোরে রেডিও শোনা, টিভি দেখা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পটকা ফাটানো, গান বাজনার তীব্র আওয়াজ, মিটিং মিছিলে মাইকের ব্যবহার শব্দ দূষণের কারণ।
৬. নদী ভাঙনের ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়।
৭. দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে মরুকরণের সৃষ্টি হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণে, সচেতনতা বৃদ্ধি করে এই সব সমস্যা অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব।
Related Question
View Allমানুষ, অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক জীবন বিকাশের নিশ্চয়তাকে পরিবেশ সংরক্ষণ বলে।
ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা ও পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
বর্ধিত জনসংখ্যার প্রয়োজনে বনজঙ্গল, গাছপালা কেটে চাষের জমি তৈরি বা বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়। গাছপালা কাটার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যায়, খরার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য, বাসস্থান, যানবাহন, শিল্পকারখানা সবকিছুর চাহিদাই বৃদ্ধি পায়। জমিতে অধিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার এবং ভূগর্ভের পানি উত্তোলনের ফলে মাটি দূষণ হচ্ছে। অধিক শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ফলে পানি ও বায়ু দূষণ ঘটছে। সুতরাং বলা যায়, অধিক জনসংখ্যাই পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত স্থানে যে ধরনের দুর্যোগ নির্দেশ করে তা হলো জলোচ্ছ্বাস।
উপকূলীয় এলাকায় প্রবলভাবে ঝড়ের সাথে সমুদ্রের পানি আঘাত হানলে তাকে জলোচ্ছ্বাস বলে। জলোচ্ছ্বাস প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দুর্যোগ। এটি স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। জলোচ্ছ্বাস আকস্মিকভাবে ঘটে। ঘূর্ণিঝড় যখন সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রবল বেগে স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসে তখন সমুদ্রের পানি ফুলে উঠে ঝড়ের সাথে আঘাত হানে। তখন জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। সমুদ্রে ভূমিকম্পের ফলেও জলোচ্ছ্বাস সংঘটিত হয়। জলোচ্ছ্বাস হলে পানির উচ্চতা ১২" পর্যন্ত উঠতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে যে ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয় জলোচ্ছ্বাস তা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এই দুর্যোগ পরিবেশকে বিনষ্ট ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এবং প্রাণহানি ঘটায়। জনপদের স্বাভাবিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে।
উদ্দীপকের ছকে দুটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয় দুটি হলো সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠা, যা ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয় দুটি জলোচ্ছ্বাস দুর্যোগকে নির্দেশ করছে। কারণ পাঠ্যবইয়ে আমরা জেনেছি জলোচ্ছ্বাস হওয়ার পিছনে এ দুটি কারণ দায়ী। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত স্থানটি জলোচ্ছ্বাস দুর্যোগকে নির্দেশ করছে।
দুর্যোগ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উদ্দীপকটি ধারণা দিতে সক্ষম বলে আমি মনে করি।
দুর্যোগ ঘটার পূর্বেই দুর্যোগের আশঙ্কা করে অভিজ্ঞতার আলোকে বিশেষ পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করাকে দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি বোঝায়। দুর্যোগ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা দুর্যোগ কবলিত এলাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দুর্যোগ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা যত দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে জনগণের দুর্ভোগ তত কম হবে।
উদ্দীপকে জলোচ্ছ্বসের পূর্ববর্তী অবস্থার দুইটি কারণ ফুটে উঠেছে। এ দুইটি কারণ দেখে আমরা বুঝতে পারব জলোচ্ছ্বাস হবে। যার প্রেক্ষিতে আমরা জলোচ্ছ্বাসের পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব। এর ফলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
যেমন- পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথে যদি মানুষ ও গবাদি পশু আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতির হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করা যাবে। আবার জলোচ্ছ্বাস থেমে যাওয়ার পর ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিতে হবে। এরপর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সবাইকে একসাথে কাজ করার উদ্যোগ নিতে হবে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দেখে এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।
প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে তাকে দুর্যোগ বলে।
উচ্চ শব্দে মাইক বাজালে শব্দ দূষণ হয়।
উচ্চ শব্দে মাইক বাজালে মানুষের স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। মাইকে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চালালে পরিবেশের শান্তিপূর্ণ অবস্থার ব্যাঘাত ঘটে। কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়, রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ঐ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবে উচ্চ শব্দে মাইক বাজালে শব্দ দূষণ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!