বসনিয়ার রাজধানীর নাম সারায়েভো।
ইউরোপে হিটলার ও মুসোলিনির নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্রিটেন ও ফ্রান্স কোনো রকম প্রতিরোধের বদলে যে আপসনীতি গ্রহণ করেছিল তাকেই তোষণনীতি বলা হয়। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স তোষণনীতি গ্রহণ করায় 'লীগ অব নেশনস' অসহায় পড়ে পড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে লীগ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হয় এবং এক পর্যায়ে লীগ অব নেশনস মুমূর্ষু লীগে পরিণত হয়।
উদ্দীপকের ঘটনা ও মুচলেকার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ভার্সাই চুক্তির মিল রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে বিজয়ী মিত্রশক্তি জোট তথা ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অন্যান্য দেশ ফ্রান্সের ভার্সাই নগরিতে জার্মানির সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ইউরোপের ইতিহাসে এটি ভার্সাই সন্ধি নামে খ্যাত। এ সন্ধিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য জার্মানিকে এককভাবে দায়ী করে যুদ্ধের সব দায়দায়িত্ব জার্মানির ওপর চাপানো হয়। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয় জার্মানির কাছ থেকে। বিজয়ী মিত্র শক্তির দেশগুলো জার্মানির কাছ থেকে ১৩২ বিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা ক্ষতিপূরণ আদায় করে। পাশাপাশি জার্মানির কিছু খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ভাগ করে নেয়। জার্মানির সামরিক শক্তি খর্ব করা হয়। জার্মান জনগণের মধ্যে বিষয়টি চাপিয়ে দেয়া সন্ধি হিসেবে আখ্যায়িত হয় ও ক্ষোভের জন্ম দেয় যা পরবর্তীতে উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা হিটলার সাফল্যের সাথে নিজের স্বার্থে কাজে লাগান।
উদ্দীপকেও দুটি অঞ্চলের জনগণের মধ্যকার সংঘর্ষ এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ শেষে সালিশের মাধ্যমে জনগণ একটি গ্রামবাসীকে সংঘর্ষের জন্য দায়ী করে তাদেরকে অপমানজনক মুচলেকায় স্বাক্ষর ও জরিমানা প্রদানে বাধ্য করে। ফলে উক্ত গ্রামবাসী জরিমানা প্রদানে বাধ্য হলেও সুযোগ খুঁজতে থাকে প্রতিশোধ গ্রহণের। এ ঘটনাটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী
হ্যাঁ, উক্ত চুক্তির ত্রুটি অর্থাৎ ভার্সাই চুক্তির ত্রুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি রচনা করেছিল বিষয়টির সাথে আমি সম্পূর্ণভাবে একমত পোষণ করি।
ভার্সাই সন্ধিতে জার্মানিকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে পঙ্গু করে ফেলার জন্য কতকগুলো প্রাণঘাতী শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। শর্তগুলো অপমানজনক ও কঠোর হওয়ায় পরাজিত জার্মানি মিত্রশক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্জনের কোনো সুযোগই পায়নি। তারা জার্মানিকে লিখিত খসড়ার ওপর একবার লিখিত মতামত জ্ঞাপনের সুযোগ দিয়েছিল কিন্তু যা লেখা ছিল তা প্রতিফলিত হয়নি। অধিকন্তু জার্মানিকে ভীতি প্রদর্শন করে ভার্সাই সন্ধিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। তারা জার্মানি প্রতিনিধিকে সামরিক প্রহরায় ভার্সাই প্রাসাদে নিয়ে আসে আবার সন্ধিতে স্বাক্ষর করার পর সামরিক প্রহরায় বাইরে নিয়ে যায়। এরূপ অবস্থায় জার্মানির স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় মানসিক প্রস্তুতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই ভার্সাইয়ের সন্ধিকে 'Dictated Peace' বা জবরদস্তিমূলক শান্তি' বলে অভিহিত করা হয়। স্বভাবতই জার্মানি একটি শক্তিধর জাতি। তাকে অপমানিত করে চুক্তি করে মিত্ররাষ্ট্র ঠিক কাজ করেনি। তাকে সম্মান করে সন্ধি করলে হয়ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য সে প্রস্তুত হতো না। অনেক ব্যাথা অনেক কষ্ট বুকে চেপে ভার্সাই প্রাসাদ ত্যাগ করেছে। অতঃপর পরবর্তীতে এ কষ্ট প্রশমিত করার জন্য দেশে ফিরে ভবিষ্যতের আশায় বুক বেঁধে বসেছিল, কখন সময় আসবে আর সে সুযোগে মিত্রশক্তিকে প্রতিহত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ মিত্রশক্তিই ভার্সাই প্রাসাদে ভার্সাই চুক্তিতে গেঁথে রেখেছিল। যার পরিণাম ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
পরিশেষে বলা যায়, ভার্সাই সন্ধি বা চুক্তি প্রকৃতপক্ষে বিশ্বে শান্তির প্রচেষ্টা নয় বরং আরেকটি যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করেছিল।
Related Question
View Allসম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়।
'লিজিয়ন অব অনার' হচ্ছে এক ধরনের উপাধি, যা ১৮০২ সালের ১৯ মে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রবর্তন করেন। এটি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মাননা। লিজিয়ন অব অনার পাঁচ ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. নাইট, ২. অফিসার, ৩. কমান্ডার, ৪. গ্র্যান্ড অফিসার ও ৫. গ্র্যান্ড ক্রস
উদ্দীপকের ঘটনাটি আমার পাঠ্যপুস্তকের ভার্সাই সন্ধির সাথে সংশ্লিষ্ট।
সারায়েভো হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় এবং প্রায় পুরো বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তিনটি মহাদেশের ৩৪টি দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। চার বছরের অধিককাল স্থায়ী এ যুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে বিজয়ী বিশ্বশক্তি জোট ১৯১৯ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে জার্মানিকে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করে। সন্ধি স্বাক্ষরের পূর্বে ভার্সাই সন্ধির খসড়া জার্মানিকে দেওয়া হয়নি। তাই পরবর্তীতে জার্মানিরা এ সন্ধিকে চাপিয়ে দেওয়া সন্ধি বলে অভিহিত করে এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে আড়পাড়া ও জামতৈল গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত অন্যান্য গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসে একতরফাভাবে আড়পাড়াকে দায়ী করে এবং তার ওপর ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দেয়, যা ভার্সাই সন্ধির ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ভার্সাই সন্ধির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
উক্ত ঘটনার অর্থাৎ ভার্সাই সন্ধির প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী-উক্তিটি যথার্থ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে মিত্রশক্তি ১৯১৯ সালের ২৮ জুন জার্মানির কাঁধে ভার্সাই সন্ধি চাপিয়ে দেয়। এ সন্ধিতে প্রথম। বিশ্বযুদ্ধের যাবতীয় ক্ষতিপূরণ জার্মানিকে দিতে বাধ্য করা হয়।। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে জার্মানির নিকট থেকে ১৩২ বিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা আদায় করা হয়। জার্মানির সৈন্য সংখ্যা এক লাখে সীমিত করা হয়। যুদ্ধের সরঞ্জাম উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি নিষিদ্ধ করা
হয়। রাইন নদীর ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সকল জার্মান দূর্গ। সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। সন্ধি অনুযায়ী জার্মানি তার আলসাস
লোরেন ও খনিসমৃদ্ধ সার অঞ্চল ১৫ বছরের জন্য ফ্রান্সকে ছেড়ে দেয়। জার্মানি ভার্সাই সন্ধির কঠোরতায় ন্যুব্জ হয়ে পড়েছি জার্মানবাসী ভেতরে ভেতরে ফুসছিল এ সন্ধির নাগপাশ থেকে মুরি পাওয়ার জন্য। এ সময় উগ্র জাতীয়তাবাদী হিটলাটের আবির্ভাব ঘটে হিটলার ভার্সাই সন্ধির নিষ্ঠুরতা থেকে জার্মানবাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং জার্মানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য মিত্রশক্তির বিরূদ্দে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবেই ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয় এবং বিশ্ব আবার বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ভার্সাই সন্ধির ক্ষতিকর প্রভাবই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ হলো সারায়েভো হত্যাকান্ড।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মান দার্শনিক, পণ্ডিত ও ঐতিহাসিকগণ এ কথা প্রচার করতে থাকেন যে জার্মানগণ হচ্ছে বিশুদ্ধ আর্য এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি। ক্রমে এ জাতীয়তাবাদী ধারণা ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। জার্মান জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করে। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার জাতিগত বিদ্বেষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ অবস্থাকে উগ্র জাতীয়তাবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!