পরিবেশের উপাদানসমূহের মধ্যে যদি কোনো কারণে কোনো পরিবর্তন ঘটে তবে জীবের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। এ স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হওয়াকেই দূষণ বলে। যেমন- বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ, পানি দূষণ ইত্যাদি। এগুলোর যেকোনো একটি দূষিত হলে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে।
তোমরা জান, আমাদের চারপাশের সবকিছু নিয়েই এই পরিবেশ। একটি স্থানের সকল জড় ও জীব নিয়েই সেখানকার পরিবেশ গঠিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ তুমি দেখতে পাবে। পরিবেশের এই বিভিন্নতার কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের জীবও বিভিন্ন ধরনের হয়। তোমরা জান জীবের মধ্যে রয়েছে সল উদ্ভিদ ও প্রাণী। একটি পরিবেশে কোন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী বসবাস করবে তা নির্ভর করে সেখানকার পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের উপরে। পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান মানুষসহ অন্যান্য সকল জীবকে প্রভাবিত করে।
এই অধ্যায় শেষে আমরা
- প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের উপাদানসমূহ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিবেশের উপাদানসমূহের আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের উপাদানসমূহের সংরক্ষণের কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allআমাদের চারপাশে যা কিছু আছে, সবকিছু নিয়েই পরিবেশ।
উদ্দীপকের ছকে X কলামের উপাদানগুলো হলো মাটি, পানি বায়ু ও আলো। এগুলো পরিবেশের জড় উপাদান। এগুলোর উপর 'Y কলামের উদ্ভিদ ধানগাছ বিভিন্নভাবে নির্ভরশীল। যেমন-
১. ধান গাছ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রক্রিয়া সংঘটনে পানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও আলো সবগুলোই প্রয়োজন হয়।
২. ধান, গাছের জীবনধারণের জন্য পানি প্রয়োজন। এ পানি গাছটি মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে শোষণ করে। শোষণকৃত পানি দ্বারা নানা জৈবনিক কাজগুলো সম্পন্ন করে।
৩. ধানগাছ মাটিতে আবদ্ধ থাকে। মাটি থেকে জীবনধারণের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করে।
এভাবে X কলামের উপাদানগুলো ধানগাছকে টিকে থাকতে সহায়তা করে। উক্ত উপাদানগুলো ছাড়া ধানগাছ বাঁচতে পারবে না।
Z কলামের মানুষ বেঁচে থাকার জন্য X ও Y কলামের উভয়ের উপর নানাভাবে নির্ভরশীল। যেমন-
১. মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন খাদ্য। এ খাদ্য মানুষ নিজে তৈরি করতে পারে না। Y কলামের ধানগাছ অর্থাৎ উদ্ভিদ প্রজাতি X কলামের উপাদানগুলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে। মানুষ উদ্ভিদ কর্তৃক তৈরিকৃত এসব খাদ্য নানাভাবে খেয়ে থাকে। যেমন- ধানগাছ থেকে উৎপাদিত ধানকে চালে রূপান্তর করে তা খেয়ে থাকে। এখানে খাদ্যের জন্য মানুষকে X ও Y উভয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
২. মানুষ নিঃশ্বাসের সাথে বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। বায়ুতে এ অক্সিজেন আসে উদ্ভিদের মাধ্যমে।
৩. পানি ও আলো ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে না। পানি X কলামের একটি উপাদান।
৪. মানুষ মাটিতে নানা উদ্ভিদ যেমন- ধানগাছ জন্মিয়ে নানা চাহিদা মেটায়। এক্ষেত্রেও মানুষকে X ও Y কলামের ওপর নির্ভর করতে হয়।
উপরের উদাহরণগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, মানুষ বেঁচে থাকার জন্য X ও Y- উভয়েরই উপর নির্ভরশীল।' করে
আমাদের পরিবেশের মাটি, পানি, বায়ু, আলো, ঘরবাড়ি ইত্যাদি, অজীব উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত হয় তাই জড় পরিবেশ।।
প্রতিকূল পরিবেশে জীব টিকে থাকতে না পেরে আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়াকে জীবের বিলুপ্তি বলে। যেমন- বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন ডাইনোসর যখন পৃথিবীতে ছিল তখন পৃথিবী অনেক উত্তপ্ত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পৃথিবী অনেক ঠান্ডা হয়ে যায়। এ ঠান্ডা সইতে না পেরে তারা সবাই মারা যায় অর্থাৎ এদের বিলুপ্তি ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত P প্রাণীটি একটি বৃক্ষচারী তৃণভোজী প্রাণী। বৃক্ষচারী তৃণভোজী প্রাণী গাছে বাস করে। এরা গাছের ফল, লতা-পাতা, ঘাস ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারণ করে। বৃক্ষচারী তৃণভোজী প্রাণী ছায়াযুক্ত স্থানে বাস করে, এদের বিচরণক্ষেত্র গাছ এবং বাসাও গাছে। গাছেই এদের বংশবৃদ্ধি ঘটে। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এরা গাছের বাসাতেই অবস্থান করে জীবন রক্ষা করে থাকে। আর উদ্দীপকে বলা আছে প্রাণীটি বৃক্ষচারী। তাই এ গাছের ওপরই এরা অধিক নির্ভরশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!