লালন শাহ্ সিরাজ সাঁই বা সিরাজ শাহ্ শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
জাতিগত পরিচয় মানুষের আসল পরিচয় নয় বলে লালন জাত নিয়ে প্রশ্ন করতে বারণ করেছেন।
এই পৃথিবীতে নানা জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বাস করে। এই জাতি-ধর্ম-বর্ণ দিয়ে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা যায় না। এই পৃথিবীতে সব মানুষই অভিন্ন এক জাতি। কারণ তারা সবাই একই রক্ত-মাংসে গড়া। কাজেই মনুষ্যধর্মের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত মানুষের পরিচয়। লালন তাই জাত নিয়ে প্রশ্ন করতে বারণ করেছেন।
দৃশ্যকল্প-১-এর ভাবার্থ 'মানবধর্ম' কবিতার অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পৃথিবীর সব মানুষ এক ও অভিন্ন। একই স্রষ্টার সৃষ্টি এবং একই প্রকৃতিতে তারা বাস করে। বাইরে পার্থক্য থাকলেও তারা একই রকম রক্ত-মাংসে গড়া। তারা সবাই একই চন্দ্র-সূর্যের আলোয় আলোকিত।
'মানবধর্ম' কবিতায় কবি মানবতার জয়গান করেছেন। তিনি জাতি বৈষম্যের উর্ধ্বে মানবধর্মকে স্থান দিয়েছেন। তার কাছে হিন্দু-মুসলিম ইত্যাদি ধর্ম বা বর্ণের মানুষের আলাদা কোনো পরিচয় নেই। তার কাছে সব ধর্মের সব জাতের মানুষ অভিন্ন এক মানবজাতি, তাদের সবার এক ধর্ম, তা হলো মানবধর্ম। উদ্দীপকের মূলভাব 'মানবধর্ম' কবিতার এই চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। দৃশ্যকল্প-১ এ কবিও জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্যের গান গেয়েছেন। সব ধর্মের মানুষ অভিন্ন এক ধর্মে এসে মিলিত হয়েছে। তা হলো সাম্যবাদের দৃষ্টিতে মানবধর্ম। উভয়ক্ষেত্রে অসাম্প্রদায়িক চেতনার অভিন্ন প্রতিফলন ঘটেছে।
দৃশ্যকল্প-২-এর বিষয়বস্তু যেন কবির প্রত্যাশাই পূরণ করেছে-মন্তব্যটি যথার্থ।
উচ্চ বংশপরিচয় বা ধর্ম-বর্ণের আভিজাত্য বড় জিনিস নয়। কারণ মানুষ তার কর্ম দিয়ে এসবের উর্ধ্বে অবস্থান করতে পারে। তাই যাঁরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও বংশের গৌরব করে তারা ভুল করে। কারণ পৃথিবীর সব মানুষই সমান।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ মানুষের উচ্চ বংশপরিচয় যে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় তা নির্দেশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষ কর্মগুণে যে বড় হতে পারে সেই দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের এই চেতনাটি 'মানবধর্ম' কবিতার মানবধর্মের চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কবিতায় লালন শাহ্ মনুষ্যধর্মের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। এখানে তিনি যে অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনা তুলে ধরেছেন তা উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এর চেতনার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। দৃশ্যকল্প-২-এর কবিতাংশেও উঁচু-নিচু বংশের ও আভিজাত্যবোধের বিষয় নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
'মানবধর্ম' কবিতায় কবি মানুষের মাঝে বিরাজমান ভেদাভেদ ভুলে সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সমাজ গড়ে তুলতে বলেছেন। কে ছোট, কে বড় সেই বিষয়টি মুখ্য নয়। মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করে জীবনকে সার্থক করে তোলার বিষয়টিই মুখ্য। এই বিষয়টি দৃশ্যকল্প-২-এর মূলভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যা 'মানবধর্ম' কবিতারও মূল বিষয়। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'কূপজল' শব্দের অর্থ কুয়োর পানি।
জাতিগত পরিচয় মানুষের আসল পরিচয় নয়। তাই জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।
এই পৃথিবীতে নানা জাতি ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বাস করে। কিন্তু এসবের ভিত্তিতে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা উচিত নয়।
মনুষ্যধর্মের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত মানুষের পরিচয়। এই পৃথিবীতে সবাই একই রক্ত-মাংসে গড়া। তাই জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।
উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতায় পৃথিবীর সব মানুষকে এক জাতি হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে, এখানেই উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতার মিল পাওয়া যায়।
পৃথিবীতে মানুষের জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয় কোনো আসল পরিচয় নয়; তারা সবাই এক ও অভিন্ন মানবজাতি। সব মানুষ রক্ত-মাংসের তৈরি।
উদ্দীপকে পৃথিবীর সব মানুষকে এক জাতি হিসেবে দেখা হয়েছে। মানুষকে 'মানুষ জাতি' বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। কারণ পৃথিবীর সব মানুষ একই চন্দ্র-সূর্যের তাপ গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। বাইরে আলাদা হলেও ভেতরে সবার এক। সবার শরীরেই লাল রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। 'মানবধর্ম' কবিতায় সাধক লালন শাহ্ও পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে কোনো ভিন্ন ভিন্ন জাত খুঁজে পান না। তিনি সব মানুষকে 'অভিন্ন এক জাতি' হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এভাবে উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতায় যে-ধর্মচর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে তা হলো মনুষ্যধর্ম।
মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। পৃথিবীর সব মানুষ অভিন্ন এক জাত। ধর্ম, বর্ণ, জাতি ভেদে মানুষের মধ্যে যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়, তা মিথ্যা। জগতে মানবধর্মই শ্রেষ্ঠ।
উদ্দীপকের চরণগুলোতে মানুষ জাতির স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। কারণ পৃথিবীর সব মানুষ এক ও অভিন্ন, বাহ্যিক চেহারায় কিছু পার্থক্য থাকলেও শরীরে প্রবাহিত রক্তের রং সবারই এক, তা হলো লাল। এ বক্তব্যে অভিন্ন এক ধর্মের কথাই উঠে এসেছে। আর এ ধর্ম হলো মনুষ্যধর্ম। 'মানবধর্ম' কবিতায় কবি সব ধর্মকে পরিহার করে সেই মনুষ্যধর্ম চর্চার কথাই বলেছেন। কারণ মনুষ্যধর্মই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
'মানবধর্ম' কবিতায় লালন ফকির মানুষের জাত-পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। নিজে কোন ধর্মের বা জাতের এমন প্রশ্ন লালন সম্পর্কে আগেও ছিল, এখনও আছে। কিন্তু লালন বলেছেন জাতকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। মনুষ্যধর্মই মূলকথা। উদ্দীপকেও সেই ধর্মের কথা উঠে এসেছে। কারণ এই ধর্মই মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।
লালন শাহ্ মানবতাবাদী মরমি কবি।
মানুষের জাত সম্পর্কে অভিমত ব্যক্ত করতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
মরমি সাধক লালন শাহ্'র মানবধর্মের প্রতি কর্মকাণ্ডে জগতের লোকের মনে প্রশ্ন জাগে। লালন শাহ্'র জাত কী? তিনি কোন ধর্মের, কোন বর্ণের, কোন জাতের, কোন গোত্রের লোক তা তারা জানতে চায়। কারণ লালন কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে কেবল মানবসত্তার ওপর গুরুত্ব দেন। লালনসাধনার গভীরে যেতে পারে না বলেই মানুষ লালন শাহ্'র কাছে জাত সম্পর্কে জানতে চায়। লালন বলেন, জগতে জাতের কোনো রূপ তার চোখে পড়েনি। তিনি কেবল মানুষ চেনেন, মানুষের তৈরি জাত-ধর্ম তাঁর কাছে অর্থহীন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!