রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশ বছর ধরে বাংলায় অরাজকতা চলতে থাকে, এ অরাজকতাপূর্ণ সময়কে বলা হয় মাৎস্যন্যায়।
১৮২১ সালে শ্রীরামপুরে প্রতিষ্ঠিত মুদ্রণযন্ত্র বাংলার মানুষকে মননশীল ও সচেতন করার ক্ষেত্রে অবদান রাখে। এর ফলে বইপুস্তক ছেপে জ্ঞানচর্চাকে শিক্ষিত সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া ও স্থায়িত্ব দেওয়ার পথ সুগম হয়। সংবেদনশীল মানুষ সমাজের অনাচারের বিরুদ্ধে কঠোর মত প্রকাশ করতে থাকে। এভাবে মুদ্রণযন্ত্রের বদৌলতে শিক্ষা বিস্তারের ফলে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম বাংলায় ইংরেজ কোম্পানির আগমন ও শাসনক্ষমতা দখলের বিষয়টি ইঙ্গিত করে।
ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের হাত ধরে অর্থনীতি বিকাশের ফলে কাঁচামাল ও উৎপাদনসামগ্রীর জন্য বাজারের সন্ধানের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। ফলে তাদের লক্ষ্যস্থল হয় 'খ' দেশ তথা বাংলা সিল্ক ও মিহি কাপড় এবং মসলা বাণিজ্যের কেন্দ্র হওয়ায় বিদেশি বণিকরা এদেশে স্থানীয় শ্রমিকদের খাটিয়ে বড় বড় শিল্পকারখানা স্থাপন করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে থাকে। এই বণিকদের অন্যতম একদল ছিল 'ক' দেশ তথা ব্রিটিশ বা ইংরেজ বণিক দল। ক্রমে ব্যবসার ক্ষেত্রে ইংরেজদের ভূমিকা প্রাধান্য পেতে থাকে। তারা রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা দখল করতে তৎপর হয়। নবাব আলীবর্দি খাঁর মৃত্যু-পরবর্তী নবাব সিরাজউদ্দৌলার কম বয়স ও অনভিজ্ঞতার সুযোগটি কাজে লাগাতে ষড়যন্ত্রে তৎপর হয় ইংরেজ কোম্পানির বণিক গোষ্ঠী। ফলে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে প্রধান সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় মাড়ওয়াড়ি ক্ষমতাবান বণিকও রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় বাংলার শাসন ক্ষমতা কোম্পানির হাতে চলে যায়। এভাবেই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসকে পরিণত হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দেশের ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম বাংলায় ইংরেজ কোম্পানির আগমন ও শাসনক্ষমতা দখলের বিষয়টি ইঙ্গিত করে।
দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত বিষয়টি হলো দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা, যা বাংলার মানুষের জন্য ছিল চরম অভিশাপম্বরূপ।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার মূল ক্ষমতা চলে যায় ধূর্ত ও দুর্ধর্ষ ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের হাতে। তিনি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের নিকট হতে দেওয়ানি লাভের পর বাংলার নবাবকে পুতুল নবাবে পরিণত করে এবং দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করেন। দ্বৈতশাসন ছিল একটি অদ্ভুত শাসনব্যবস্থা। এই শাসনব্যবস্থায় ক্লাইভ বাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এর ফলে নবাব পেলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব আর কোম্পানি লাভ করল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। এ ব্যবস্থা এদেশের মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে তা আদায়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত করের চাপে যখন জনগণ ও কৃষকের নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা, সে সময় দেশে পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১৭৭০ সালে বাংলায় নেমে আসে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া। দুর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ লোক অনাহারে মারা গেলেও কোম্পানি করের বোঝা কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল দ্বৈতশাসনের প্রত্যক্ষ ফল।
তাই বলা হয়, দ্বৈতশাসন ছিল বাংলার মানুষের জন্য এক চরম অভিশাপ।"
Related Question
View Allউপনিবেশিকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি দেশ অন্য দেশকে অর্থনৈতিক শোষণ এবং লাভের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে আনে। দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। বাংলাও প্রায় দুইশ বছর ইংরেজদের অধীনে উপনিবেশ ছিল।
বাংলায় মানব বসতি প্রাচীনকাল থেকেই শুরু হয়। এই অঞ্চল ধনসম্পদে ভরপুর থাকায় বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে এসে বসতি গড়ে তোলে। বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই ছিল বহিরাগতদের আকর্ষণের প্রধান কারণ।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শক্তিশালী শাসক না থাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই সময়কে মাৎস্যন্যায় যুগ বলা হয়। এটি সংস্কৃত ভাষায় 'বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে' এমন অরাজকতার সময় নির্দেশ করে। এ সময়ে বাংলা বহু রাজ্য বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা হয় ১৩৩৮ সালে। সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন।
সুলতানি আমলে বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন সুলতান - শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তিনি বাংলার বৃহদাংশ অধিকার করে 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেন। তার শাসনকালে বাংলার ঐক্য, 'স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বাংলার শিল্প-সাহিত্য এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর শাসনকালে বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধি লাভ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!