বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারগণকে নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
দ্বৈত শাসন বলতে ইংরেজ কোম্পানি ও বাংলার নবাবের সমন্বয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়।
১৭৬৫ সালে প্রণীত এ শাসনব্যবস্থায় নিযামত বা বাংলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল বাংলার নবাবের হাতে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার, জমিজমার বিবাদ সংক্রান্ত বিচার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত হয়। বাংলার শাসনের দায়িত্ব এভাবে দুটি পৃথক সংস্থার হাতে চলে যাওয়াই দ্বৈত শাসন।
উদ্দীপকের সম্রাট বাবর যেন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলারই প্রতিভূ।
১৭৫৬ সালে আলীবর্দি খানের মৃত্যুর পর তার দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার সিংহাসনে বসেন। সিংহাসনে বসার পরই তাকে নানামুখী ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হয়। সিরাজ প্রথমেই তার পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হন। তার বড় খালা ঘসেটি বেগম ছিলেন এর মূল হোতা। এছাড়া দেওয়ান রাজবল্লভ, সিরাজের খালাতো ভাই পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা শওকত জঙ্গ, প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খানসহ অনেকে এ ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়। এর পরিণতিতে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে ইংরেজদের সাথে প্রহসনের যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত ও ক্ষমতাচ্যুত হন।
একইভাবে উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ দেখা যায়, জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর মাত্র এগার বছর বয়সে ফারগনা রাজ্যের অধিপতি হন। সিরাজউদ্দৌলার মতই তিনি ঘনিষ্ঠজনদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন। অবশেষে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও শত্রুপক্ষের আক্রমণের জেরে পরাজিত ও ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি কাবুলে পালিয়ে যান। অর্থাৎ সিরাজউদ্দৌলা ও বাবরের উত্থান ও পতন অনেকটা একই ধরনের। তাই বাবরকে সিরাজউদ্দৌলার প্রতিভূ বলা যায়।
বুহাইরির মতো দেশপ্রেমের কারণে মীর কাশিমের সাথে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
মীর জাফরকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মীর কাশিমকে বাংলার সিংহাসনে বসায়। মীর কাশিম ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনচেতা শাসক। তিনি তার প্রজাদের খুবই ভালবাসতেন। এজন্য তিনি প্রজাদের কল্যাণের প্রতি সচেতন ছিলেন। তিনি প্রথমে প্রশাসনকে ইংরেজদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। ইংরেজরা "দস্তক” নামক ছাড়পত্রের অপব্যবহার করলে দেশীয় ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে সবার জন্য আন্তঃবাণিজ্য শুল্ক উঠিয়ে দেন। এতে ইংরেজদের একচেটিয়া ব্যবসায় অসুবিধা হয় এবং তারা ক্ষুব্ধ হয়। পরবর্তীতে মীর কাশিম দেশ ও জনগণের স্বার্থে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ইংরেজদের সাথে তার যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠে। অবশেষে তিনি ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন। মূলত দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে গিয়েই মীর কাশিম ইংরেজ কোম্পানির সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।
একইভাবে দৃশ্যকল্প-২-এ দেখা যায় উগান্ডার আরুয়া প্রদেশের মেয়র
মুহম্মদ বুহাইরি চীনা কোম্পানির সম্প্রসারণনীতির বিরুদ্ধাচরণ করায় তার সাথে কোম্পানির দ্বন্দ্ব বেঁধে যায়। বাংলার নবাব মীর কাশিমের মতো তিনিও দেশ ও জনপদের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে চীনা কোম্পানির সাথে যুদ্ধে জড়ান ও পরাজিত হন।
উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের বুহাইরির মতোই দেশ ও জনগণকে ভালোবাসার কারণে মীর কাশিমের সাথে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধ হয়।
Related Question
View Allভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
প্রাচীনকালে বাংলা সম্পদে সমৃদ্ধ ও স্বয়সম্পূর্ণ ছিল বলে অনেকেই বাণিজ্য করতে এসছিল।
প্রাচীন বাংলার গ্রামের স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষকদের ক্ষেত ভরা ফসল, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ থাকত। এদেশের তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড় ইউরোপের কাপড়ের চেয়েও উন্নতমানের ছিল। এ অঞ্চলের নানা ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ও মসলার বেশ খ্যাতি ছিল। এসব পণ্যের আকর্ষণেই এদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে এসেছে অনেকেই।
উদ্দীপকের ক্ষমতা ভাগাভাগির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বৈত শাসনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবনীয় ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। এর মাধ্যমে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পরিণত হয় ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন ও কামালের মাঝে পারিবারিক গার্মেন্টস ও সংসারের দায়িত্ব বণ্টন হয়। এতে মামুন কামালকে উপযুক্ত অর্থ প্রদান না করায় সংসারে জটিলতা দেখা দেয়। এই বিষয়টির সাথে দ্বৈত শাসনের মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ঘটনা বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।
দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার দ্বারা প্রশাসনে চরম দুর্নীতি শুরু হয়েছিল। নামে বেনামে অর্থ ইংল্যান্ডে পাচার হয়েছিল। ফলে বাংলার রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করা হয়। এছাড়াও অনাবৃষ্টির কারণে ঐ সময় (১৭৭০ সাল) দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, মানুষ মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই দুর্ভিক্ষেও রাজস্ব না কমিয়ে তা অব্যাহত রাখা হয়। ফলে চরম শোষণ-নির্যাতনে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাছাড়াও কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বণিকশ্রেণি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছিল।
ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
ইংরেজ বন্দি হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য এক মিথ্যা কাহিনীর প্রচারণা চালায় যা ইতিহাসে অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
এতে বলা হয় যে, ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪.১০ ফুট প্রশস্ত ছোট একটি ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই মিথ্যা প্রচার মাদ্রাজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই মিথ্যা প্রচারই হলো 'অন্ধকূপ হত্যা'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!