নগরকেন্দ্রিক ছোট ছোট রাষ্ট্রকে নগর-রাষ্ট্র বলে।
নাগরিকগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আইন মান্য করে।
নাগরিকদের অধিকার উপভোগ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আইন অপরিহার্য। আইনের উপস্থিতি ছাড়া মানুষের পক্ষে উৎকৃষ্ট জীবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। তাছাড়া আইন অমান্য করলে প্রত্যেক রাষ্ট্রেই শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব কারণেই নাগরিকরা আইন মান্য করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জাহিদ হাসানের ছেলে-মেয়ে জন্মস্থান নীতি সূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
নাগরিকতা অর্জনের জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী পিতামাতা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, সন্তান যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন- বাংলাদেশি পিতামাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে, সেই সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। এক্ষেত্রে নাগরিকতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ নীতি অনুযায়ী সন্তান অন্য দেশের জাহাজ, 'বিমান বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করলেও জাহাজ, বিমান বা দূতাবাস যে দেশের সে ঐ দেশের নাগরিক হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ অল্প কয়েকটি দেশ এ নীতি অনুসরণ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জাহিদ হাসান বাংলাদেশের নাগরিক। চাকরির সুবাদে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করলে সেখানে তার ছেলেমেয়ে জন্মগ্রহণ করে। তার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের সকল নাগরিক সুবিধা ভোগ করে, যেহেতু জাহিদ হাসানের ছেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছে জন্মস্থাননীতি অনুযায়ী সে আমেরিকার নাগরিক হবে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জাহিদ হাসানের ছেলেমেয়ে জন্মস্থান নীতি সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
মি. জন অনুমোদনসূত্রে এবং জাহিদ হাসানের সন্তানেরা জন্মস্থান নীতির ভিত্তিতে নাগরিকতা অর্জন করেছেন।
নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন- জন্মসূত্র ও অনুমোদনসূত্র। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতির মধ্যে জন্মস্থাননীতি একটি। এ নীতি অনুযায়ী বাবা-মা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, সন্তান যে দেশে জন্মগ্রহণ করবে সে সেই দেশেরই নাগরিকতা লাভ করবে। আর কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলা হয়। শর্তগুলো হলো- সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা, সরকারি চাকরি করা, সততার পরিচয় দেওয়া, সে দেশের ভাষা জানা, সম্পত্তি কেনা, দীর্ঘদিন বসবাস করা ইত্যাদি। কোনো ব্যক্তি এগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করলে সে নাগরিকতার জন্য আবেদন করার মাধ্যমে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জন করতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশের নাগরিক জাহিদ হাসানের সন্তানেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছে। তাই তার সন্তানরা জন্মস্থান নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করেছে। অপরদিকে, ব্রিটেনের নাগরিক মি. জন ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে অনেক টাকা বিনিয়োগ করেন। বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকতার জন্য আবেদন করলে সরকার তাকে নাগরিকতা প্রদান করে। অর্থাৎ, মি. জন অনুমোদনসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকতা অর্জন করেন।
পরিশেষে বলা যায়, নাগরিকতা অর্জনের জন্মস্থান নীতি ও অনুমোদনসূত্র দুটি আলাদা পদ্ধতি। উদ্দীপকের জাহিদ হাসানের সন্তান জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং মি. জন অনুমোদন সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকতা অর্জন করেছেন।
Related Question
View Allপ্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ধারণার উদ্ভব হয়।
একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে। সাধারণত একজন ব্যক্তি একটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনের সুযোগ পায়।
তবে জন্মসূত্রসহ নাগরিকতা অর্জনের একাধিক নীতি থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- বাংলাদেশ নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি অনুসরণ করে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জন্ম ও জন্মস্থান উভয় নীতি অনুসরণ করে। কাজেই বাংলাদেশি কোনো পিতা-মাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করবে। আবার জন্মনীতি অনুযায়ী সে বাংলাদেশের নাগরিকতাও অর্জন করবে। বিনিয়োগ, অভিবাসন ইত্যাদি উপায়ে অনুমোদনসূত্রেও এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করতে পারে। এভাবে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ইউনিয়নের নাগরিকদের মধ্যে নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য পালনের বিষয়টি লক্ষ করা যায়।'
অধিকার ভোগ করতে হলে রাষ্ট্রের নাগরিকদের যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় সেগুলোই কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। নাগরিকের কর্তব্য প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- নৈতিক ও আইনগত কর্তব্য। ব্যক্তির বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে, তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে। যেমন: নিজে শিক্ষিত হওয়া এবং সন্তানদের শিক্ষিত করা, সততার সাথে ভোট দেওয়া, রাষ্ট্রের সেবা করা, বিশ্বমানবতার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের নাগরিকরা নৈতিক কর্তব্য পালন করেছেন। কেননা তারা ইউনিয়নের নির্বাচনে 'X' ও 'Y' ব্যক্তির মধ্য থেকে 'X' ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য বলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। তাদের এই কাজের সাথে নাগরিকের অন্যতম নৈতিক কর্তব্য সততার সাথে ভোট দেওয়ার সাদৃশ্য রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, 'ক' ইউনিয়নের নাগরিকদের মধ্যে নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য পালনের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের চেয়ারম্যান 'X' ব্যক্তি যে সততা ও কর্তব্যপরায়ণতা দেখিয়েছেন তার আলোকে তাকে সুনাগরিক বলা যুক্তিসঙ্গত।
রাষ্ট্রের সব নাগরিককে সুনাগরিক বলা যায় না। এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট গুণের অধিকারী হতে হয়। ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ লর্ড ব্রাইস (Lord James Bryce) 'The Hindrances to Good Citizenship' (১৯০৯) গ্রন্থে সুনাগরিকের তিনটি মৌলিক গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা: বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম। খ্যাতিমান এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, একজন ব্যক্তিকে সুনাগরিক হতে হলে এ তিনটি গুণের অধিকারী হতে হবে। একজন নাগরিক বুদ্ধিমান, বিবেকবান ও সংযমী হলেই কেবল রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে এর উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের চেয়ারম্যান 'X' ব্যক্তির মধ্যে বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম এ তিনটি গুণই উপস্থিত। বুদ্ধিমান বলেই স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি যোগ্য লোককে বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি বিবেকবোধসম্পন্ন হওয়ার কারণে তিনি নিজের ভাইয়ের ছেলে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তার আত্মসংযমেরও প্রমাণ পাওয়া যায়। কেননা চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলেই নিজের ভাইয়ের ছেলেকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে উপেক্ষা করে বৃহত্তর স্বার্থে যোগ্য প্রার্থীকেই নিয়োগ দেন। সুতরাং আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের 'X' ব্যক্তি একজন সুনাগরিক।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত তথ্য অধিকার আইনটি ৫ এপ্রিল, ২০০৯ তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে।
নাগরিকের অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
অধিকার ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলব্ধি করতে পারে না। অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন। রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অধিকার অপরিহার্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!