স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শোষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর সরকার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচিই হলো দ্বিতীয় বিপ্লব।
সার্বজনীন ভোটাধিকার হলো নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ভোটদানের স্বীকৃত অধিকার। অতীতে কেবল লিঙ্গ ও শ্রেণিভেদে ভোটদানের অধিকার স্বীকৃত ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে জাতি-বর্ণ-ধর্ম-লিঙ্গ নির্বিশেষে ১৮ বছর বয়স্ক যেকোনো নাগরিক ভোটাধিকার লাভ করেন। ভোট প্রদানের অধিকার সবার জন্য প্রযোজ্য হওয়া-ই হলো সার্বজনীন ভোটাধিকার।
দৃশ্যকল্প-১ এ 'Y' দেশে জনাব 'X'-এর শাসন পাঠ্যপুস্তকের জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলের প্রতিচ্ছবি।
১৯৮১ সালের ৩০ মে জেনারেল জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু বিচারপতি সাত্তারের দুর্বল নেতৃত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, দলীয় কোন্দল, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অর্থনৈতিক সংকট কারণ দেখিয়ে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাত্তার সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি দেশের সংবিধান স্থগিত করেন ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। প্রধান সামরিক শাসক থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে তিনি প্রায় ৯ বছর সামরিক শাসন বলবৎ রাখেন। এ সময় দেশ জুড়ে সামরিক ও স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত থাকলেও রাস্তাঘাট নির্মাণসহ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। বহুদলীয় জোটের কর্মসূচিতে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। উদ্দীপকে 'Y' রাষ্ট্রের জেনারেল 'X'-এর সামরিক আইন জারি ও জেনারেল এরশাদের শাসনামলের ন্যায় 'X'-এর শাসনামলেও সংবিধান স্থগিত ও রাস্তাঘাট নির্মাণের বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। সর্বোপরি উভয়ের পরিণতিও একই সূত্রে গাঁথা। তাই বলা যায় যে, বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের 'Y' রাষ্ট্রের জেনারেল 'X' এর মাঝে ।
স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রাপ্তি ও সাফল্যের ক্ষেত্রে দৃশ্যকল্প- ২-এর উক্তিটির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
দৃশ্যকল্প-২ এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিটি তথা "সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়"- উক্তিটির উল্লেখ রয়েছে। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পদার্পণ করেই বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন যে, 'বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে, কারও প্রতি বৈরী আচরণ সমর্থন করবে না।' তাঁর এ বক্তব্যে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। আর বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থানের আশা ব্যক্ত করায় শান্তিকামী দেশগুলো দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ায়। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ১৪০টি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বন্দরকে মাইনমুক্ত করাসহ নানাভাবে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে। অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে খাদ্যদ্রব্য ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে। এভাবে সদ্য স্বাধীন একটি দেশের বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি পাওয়া ও অন্যান্য দেশকে বন্ধুভাবাপন্ন করে পাশে পাওয়ার পিছনে নিঃসন্দেহে দেশের পররাষ্ট্রনীতির অবদান অতি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষ গোষ্ঠীকেন্দ্রিক বা স্বার্থকেন্দ্রিক হলে স্বীকৃতি ও অসংখ্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কোনোটাই এত দ্রুত সময়ে অর্জন করা সম্ভব হতো না। এই উন্মুক্ত, সরল ও উদার পররাষ্ট্র নীতির ফলেই বিশ্ব দরবারে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু থেকে অদ্যবধি সুন্দরভাবে প্রশংসিত হয়ে আসছে। তাই অনেক শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রও বাংলাদেশের বন্ধুতে পরিণত হয়ে এদেশের সাফল্যের অংশীদার হতে প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত বঙ্গবন্ধুর অমর বাণীটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে 'গণযুদ্ধ' বা 'জনযুদ্ধ' নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭০-এর নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। ওই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা আদেশ'।
আরিফার বাবা স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী ছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার একটি গণমাধ্যম। অর্থাৎ, আরিফার বাবা গণমাধ্যমে কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধে উক্ত মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে এটি মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, রণাঙ্গনের নানা ঘটনা ইত্যাদি দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের প্রতি অনুপ্রাণিত করে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করে। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত্বাবধানে 'জয় বাংলা' পত্রিকা মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অতএব বলা যায়, আরিফার বাবার মতো সংস্কৃতিকর্মী এবং প্রচারমাধ্যম মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে আরিফার মায়ের মতো অনেক নারীর ভূমিকাই ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আরিফার মা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে খাবার সরবরাহ করতেন। মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করতেন। আরিফার মায়ের ন্যায় মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। অপরদিকে, সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেনা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লক্ষ মা-বোন। তারাও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী এবং ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারিভাবে তাদেরকে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করেন।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে আরিফার মায়ের মতো অনেক নারীই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
যে তহবিল থেকে প্রসূত নারীদের অনুদান প্রদান করা হয় সেই তহবিল হচ্ছে 'ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল'।
কোনো দেশের সংবিধান রচনার জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে যে পরিষদ বা কমিটি গঠন করা হয়, তাকে গণপরিষদ (Constituent Assembly) বলে। যেমন- স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু 'বাংলাদেশ গণপরিষদ' নামে একটি আদেশ জারি করেন। এ আদেশবলে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্যগণ গণপরিষদের সদস্য বলে পরিগণিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!