গ্রিন হাউস হলো কতকগুলো গ্যাসের অর্থাৎ কার্বনডাই অক্সাইড মিথেন নাইট্রাস অক্সাইড, সিএফসি, হ্যালন প্রভৃতি গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি আচ্ছাদন, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে থাকে।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশকে দুর্যোগপ্রবণ দেশ বলা হয়। বিভিন্ন প্রকার দুর্যোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, ভূমিকম্প প্রভৃতি দুর্যোগ হানা দেয় আমাদের দেশে। প্রতিবেশী দুটি দেশের সীমানা প্লেটের কাছে অবস্থিত হওয়া বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। তাই বলা যায়, ভৌগোলিক অবস্থানও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ।
দৃশ্যকল্প-১ এর দুর্যোগটি হলো নদীভাঙন নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষাকালে উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাতের দরুন নদীর পানি বেড়ে যায় এবং তা প্রচন্ড গতিতে সমুদ্রের দিকে ধাবিত হয়।
এসময় উপকূলীয় অঞ্চলের নদী সংলগ্ন স্থলভাগে পানির তীব্র তোড়ে সৃষ্টি হয় নদীভাঙনের। আর এভাবেই দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত একটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিলীমা সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারে। নদীভাঙন বাংলাদেশের একটি স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ দুর্যোগটি অন্যান্য সকল দুর্যোগের থেকে একটু আলাদা। কেননা নদীভাঙনে কবলিত জনগোষ্ঠী একেবারে নিঃষ হয়ে যায়। তাদের জীবন ও সম্পদ ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তাই নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দেওয়ার পূর্বে আমরা এ দুর্যোগ মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। তাহলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে যাবে। অতএব নিশ্চিতভাবে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ দ্বারা নদীভাঙন নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর দুর্যোগটি ভূমিকম্প।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ভূমিকম্প সম্পর্কে আগে থেকে কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। তারপরও ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করতে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিতে পারি। সেগুলো হলো- বাড়িতে জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার জন্য দরজা রাখা।
প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী, হেলমেট, টর্চ প্রভৃতি মজুদ রাখা।
ঘরের ভারি আসবাবপত্র মেঝের উপরে রাখা।
ব্যবহারের পর বৈদ্যুতিক বাতি ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে রাখা।
ভূমিকম্প চলাকালীন কোনো শক্ত টেবিল বা শক্ত কাঠের আসবাবপত্রের নিচে অবস্থান করা।
অবিলম্বে সকল বৈদ্যুতিক সুইচ ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করা।
বাড়ির পাশে যথেষ্ট খোলা জায়গা থাকলে, সম্ভব হলে দ্রুত সেখানে চলে যাওয়া।
ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার না করা।
ট্রেন, বাস বা গাড়িতে থাকলে চালককে তা থামাতে বলা।
ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া। উদ্ধার কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা। দুর্গতদের জন্য আশ্রয় খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা করা।
এভাবে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাসকল্পে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়।
Related Question
View Allকোনো জায়গার গড় জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থপূর্ণ পরিবর্তন যার ব্যাপ্তিকাল কয়েক যুগ থেকে কয়েক লক্ষ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তাকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা উষ্ণায়নের কারণে সারা পৃথিবীতেই জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে উষ্ণমণ্ডলীয় দেশে শুষ্ক মৌসুমে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়। এছাড়া বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মৌসুমে অনাবৃষ্টি ও অত্যধিক খরা, শিলাবৃষ্টি, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। এছাড়া শীত মৌসুমে হঠাৎ শৈত্য ও উষ্ণ প্রবাহ এবং ঘন কুয়াশা লক্ষ করা যায়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের কারণ। বাংলাদেশের জীবন ও অর্থনীতির ওপর এসব দুর্যোগের প্রভাব লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন প্রভৃতি।
বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতির মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষ একদিকে যেমন তার জীবনকে করেছে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অন্যদিকে তেমনি পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশকে করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভারসাম্যহীন। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ, বৃক্ষনিধন ও ইঞ্জিনচালিত যানবাহনসহ বড়ো বড়ো শিল্প-কারখানার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয় নানা সমস্যার। এসবের ফলে পৃথিবীতে তাপমাত্রা বাড়ছে। একেই বলা হয় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।
বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর একটি হলো 'গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া'। এটি একটি জটিল সমস্যা। গ্রিনহাউস মূলত কতকগুলো গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি আচ্ছাদন। গ্রিনহাউস গ্যাসকে তাপ বৃদ্ধিকারক গ্যাসও বলে। এই গ্যাস পৃথিবীর চারপাশে বায়ুমন্ডলে চাদরের মতো আচ্ছাদন তৈরি করে আছে।
গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীকে ঘিরে চাদরের মতো একটি আচ্ছাদন তৈরি করেছে। সূর্যের তাপ এই চাদর শোষণ করে এবং তা পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে দেয়। পৃথিবীপৃষ্ঠ দ্বারা গৃহীত এ তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে রাতের বেলা প্রতিফলিত হয়ে, মহাশূন্যে মিলিয়ে যায় এবং এভাবেই পৃথিবী ঠান্ডা হয়। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিফলিত তাপ সম্পূর্ণভাবে মহাশূন্যে মিলিয়ে 'না যেয়ে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!