আরাকান রাজ্যের ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন রাজধানীর নাম ম্রাউক-উ।
'পথে পথে মিয়ানমারের যুবতি-তরুণীরা।'- উক্তিটি দ্বারা মিয়ানমারের সন্ধ্যার উৎসবমুখর অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
অপরূপ মিয়ানমার রূপকথার গল্পের মতো। সেখানকার মেয়েরা স্বাধীন ও স্বাচ্ছন্দ্য। কারণ পথে পথে সন্ধ্যায় মিয়ানমারের মানুষেরা রাস্তায় ঘুরতে বের হয়। বিশেষ করে মিয়ানমারের মেয়েরা। তারা লুঙ্গি ও বঝলমলে ব্লাউজ জাতীয় জামা পরে বের হয়। মাথায় গোঁজা থাকে ফুল আর রিবন ফিতা। এই সুন্দর দৃশ্য বোঝাতেই লেখক আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
দৃশ্যকল্প-২-এর সাথে 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির নারীদের সাজসজ্জার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
অজানাকে জানার এবং অদেখাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন। ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের নারী-পুরুষের আচার-ব্যবহার, পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজসজ্জা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।
দৃশ্যকল্প-২-এর 'পালামৌ'-এর কোল যুবতিদের গায়ের রং, তাদের পোশাক ও সাজসজ্জার কথা বলা হয়েছে। এখানে নারীদের পোশাকের যে বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে তা 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির নারীদের পোশাক-পরিচ্ছদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এখানে মংডু ও মিয়ানমারের নারীদের কথা বলা হয়েছে। তারা সবাই পুরুষের মতো লুঙ্গি পরে। তাদের এ লুঙ্গি পরা 'পালামৌ'-এর নারীদের কটিদেশে একখানা ক্ষুদ্র কাপড় জড়ানোকে নির্দেশ করে। মিয়ানমারের নারীরা লুঙ্গি সঙ্গে ঝলমলে ব্লাউজ জাতীয় জামা বা গেঞ্জি পরে। দৃশ্যকল্প-২-এ যুবতিদের পরস্পর ধরাধরি করে চলা বা দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতে মিয়ানমারের নারীদের কলহাস্যে মুখর হয়ে বাড়ির সামনে দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"দৃশ্যকল্প-১ যেন মংডুর স্বাধীন নারীদেরই প্রতিরূপ।" - মন্তব্যটি যথার্থ।
বিভিন্ন দেশ, দেশের মানুষ এবং তাদের আচার-সংস্কৃতি জানার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ভ্রমণ। ভ্রমণের মাধ্যমে নানা বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করা যায়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে বসবাসকারী সাওতাল নারীদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। এই নারীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। তারা তাদের কাজকর্মে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দেয়। কৃষিকাজ থেকে শুরু ঘর গৃহস্থালির সব কাজই তারা করে। এই বিষয়টি 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতে বর্ণিত নারীদের পরিশ্রম ও তাদের দক্ষতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। লেখক এখানে পরিশ্রমী নারীদের কথা বলেছেন, যারা নিজেরা স্বাবলম্বী। তারা পুরুষের পাশাপাশি সব রকম কাজ করে। তারা স্বাধীনভাবে নানা রকম ব্যাবসা পরিচালনা করে। এ ভ্রমণকাহিনিতে লেখক সেখানকার নারীদের বিভিন্ন খাবার তৈরির যে কথা বলেছেন তা দৃশ্যকল্প-১-এ উল্লিখিত সাঁওতাল নারীদের ঘর-গৃহস্থালি কর্মকান্ডের বিষয়কে নির্দেশ করে।
'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতে বর্ণিত নারীরা স্বাধীন। তারা স্বাধীনভাবে ঘরে-বাইরে কাজ করে এবং ব্যাবসা পরিচালনা করে। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ নারীদের যে বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে তা এ ভ্রমণকাহিনির নারীদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allসেলাইবিহীন লুঙ্গির মতো বস্তুটির নাম চীবর।
"ব্যান্ডেল রোড তাদের স্মৃতি বহন করছে" বলতে পাদরি ও পর্তুগিজদের বসবাসের স্মৃতির কথা বোঝানো হয়েছে।
মংডু টেকনাফের ওপারে, মাঝখানে নাফ নদী। এটি পার হয়ে ব্রিটিশ যুগের বহু আগে থেকেই চট্টগ্রামে অনেকে এসেছেন। পাদরি মেস্ট্রো সেবাস্টিন মানরিক সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এ পথে আসেন। তারও একশ বছর আগে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করে। তারা নিজেদের বসতির জায়গাকে ব্যান্ডেল বলত। মংডু ও চট্টগ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম রাস্তাটি অর্থাৎ ব্যান্ডেল রোডটি সেই পাদরি ও পর্তুগিজদের স্মৃতি বহন করছে।
উদ্দীপক-১-এ 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম নারকেল গাছ এবং মংডুদের খাবারের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিটি দেশে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। তবে ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ নিজের দেশের সাথে ভ্রমণরত দেশের সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য বুঝতে পারে।
'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতে দেখা যায়, মংডুর অধিবাসীদের বাড়ির সামনে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে নারকেল গাছ। বাড়ির সামনের নারকেল গাছটির গোড়ার দিকে মাথা সমান উঁচুতে রয়েছে অর্কিড। তাতে রঙিন ও সাদা ফুল ফোটে। উদ্দীপক-১ এ শ্রীলংকার অস্তিত্বের সঙ্গে নারকেলের জড়িয়ে থাকার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। উদ্দীপক-১-এ নারকেলতেল ছাড়া শ্রীলংকানরা রান্না করে না এবং রান্নায় প্রচুর মসলা এবং লাল মরিচ ব্যবহার করে। এই বিষয়টি চাকমা-মারমারা যে ধানিলঙ্কা পুড়িয়ে নুন ও পেয়াজ দিয়ে ভর্তা করে, ভ্রমণকাহিনির সেই বিষয়ে বর্ণনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক-১ এ 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিষয়টি এবং খাবারের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা 'পদ্মাবতী'।
"লুঙ্গি, ফুঙ্গি ও প্যাগোডা- এই তিন নিয়ে মিয়ানমার।"ー উক্তিটি দ্বারা লেখক বুঝিয়েছেন যে, মিয়ানমারের সর্বত্রই লুঙ্গি, ফুঙ্গি ও প্যাগোডা দেখা যায়।
মিয়ানমারের নারী-পুরুষ সবাই লুঙ্গি পরে। মেয়েরা লুঙ্গির সাথে ব্লাউজ পরে, আর পুরুষরা লুঙ্গির সাথে জামা পরে। ফুঙ্গিরা হলেন বৌদ্ধ ভিক্ষু। তাদের পেশা হলো ভিক্ষা করা এবং ধর্ম প্রচার করা। আর প্যাগোডা হলো বৌদ্ধদের প্রার্থনার স্থান। মিয়ানমারে এগুলো বেশি রয়েছে এবং বেশি দেখা যায়। তাই আলোচ্য কথাটি লেখক বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!