প্রথম মিশরীয়রা মানচিত্র তৈরি করে।
ভূপৃষ্ঠের দুইটি স্থানের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং মানচিত্রে ঐ দুইটি স্থানের মধ্যবর্তী দূরত্বকে যে ভগ্নাংশ দ্বারা প্রকাশ করা হয়, তাকে প্রতিভূ অনুপাত বলে। অর্থাৎ মানচিত্রের দূরত্ব/ভূমির দূরত্ব।
প্রতিভূ অনুপাত = মানচিত্রে দূরত্ব (লব-এর একক সংখ্যাটি মানচিত্রের দূরত্ব বোঝায়) ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব (হর-এর সংখ্যাগুলো ভূমির প্রকৃত দূরত্ব বোঝায়।)
দৃশ্যকল্প-১ দ্বারা বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র ও দৃশ্যকল্প-২ দ্বারা ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্রকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত দু'টি স্কেলের মানচিত্রের মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো-
দৃশ্যকল্প-১/বৃহৎ স্কেলের মানচিত্রের এ স্কেলে একাধিক ইঞ্চিতে মাইল
বা একাধিক সেন্টিমিটারে কিলোমিটার দেখানো হয়। অর্থাৎ দৈর্ঘ্যের ক্ষুদ্রতম পরিমাপক একক দ্বারা অপেক্ষাকৃত বৃহত্তর এককে প্রকাশ করা হয়। অন্যদিকে দৃশ্যকল্প-২/ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্রের এ স্কেল দ্বারা মাইলে, ইঞ্চি বা ইঞ্চিতে মাইল কিংবা কিলোমিটারে সেন্টিমিটার বা সেন্টিমিটারে কিলোমিটার দেখানো হয়। অর্থাৎ মানচিত্রে দৈর্ঘ্য। পরিমাপকের ক্ষুদ্রতম একক ভূমিতে বৃহত্তম এককে প্রকাশ করা হয়।
দৃশ্যকল্প-১/বৃহৎ স্কেল দ্বারা অপেক্ষাকৃত স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট এলাকাকে অনেক বড় আকারে দেখানো হয় বলে বিভিন্ন বিষয় ও উপাত্তের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। অন্যদিকে দৃশ্যকল্প-২/ক্ষুদ্র স্কেল দ্বারা বৃহৎ এলাকার মানচিত্র অঙ্কন করা হয় এবং স্থান সংকুলানের অভাবে বিশেষ বিশেষ তথ্য ও বিষয় সাধারণভাবে দেখানো হয়।
দৃশ্যকল্প-১/বৃহৎ স্কেলের মানচিত্রে মৌজা মানচিত্র, জরিপ মানচিত্র প্রভৃতি ১ ইঞ্চিতে ৩৩০ ফুট স্কেলে অঙ্কন করা হয়। অন্যদিকে ভূচিত্রাবলিতে অঙ্কিত বিভিন্ন মানচিত্র দৃশ্যকল্প-২/ক্ষুদ্র ছেলের এক্ষেত্রে মানচিত্রের স্কেল ১ সেন্টিমিটার থেকে কয়েক'শ কিলোমিটধ বা ১ ইঞ্চিতে ১ মাইল থেকে কয়েক'শ মাইল পর্যন্ত হতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষুদ্র স্কেল ও বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র মানবজীবনে বিরাট ভূমিকা পালন করে।
যেকোনো অপরিচিত অঞ্চল সম্পর্কে ধারণা লাভ করা বা পরিচিত হওয়ার জন্য মানচিত্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী সহায়ক হিসেবে দেখা দেয় শিক্ষিত সমাজের অর্ধেক লোক, বিশেষ করে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখাদ অনুসারীরা বর্তমানে ব্যাপকভাবে মানচিত্র ও নকশা ব্যবহার কর ভূগোলের মতো অন্য কোনো বিজ্ঞান মানচিত্রের ওপর এতো বেদি নির্ভর করে না। এজনা মানচিত্রগুলোকে ভূগোলবিদদের প্রধান। হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উত্তম মানচিত্রগুলো এদের প্রকৃত চিত্রানুপাত অনুসারে আমাদেরকে পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করে। ফলে সেগুলো কয়েক পৃষ্ঠায় তুলে ধরা বর্ণনার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। মানচিত্রগুলোর প্রতি লক্ষ করলে সরবরাহকৃত বেশকিছু জটিল তথ্য চিত্রের সাথে সম্পর্ক অনুসারে সহজবোধ্য হয়ে ওে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের জন্য মানচিত্রগুলো ভূগোলবিদগণ ছাড়াও ভ্রমণকারী, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের কাছে প্রয়োজনীয়। সামরিক অফিসারগণ অভিযান পরিচালনার সময় গন্তব্য স্থানে পৌঁছানোর বিভি পথ ও শত্রুর অবস্থানগুলো মানচিত্রের সাহায্যে জেনে নিয়ে কর্তব্য নির্ধারণ করেন। ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও কারখানার ব্যবস্থাপকদের জন্যও মানচিত্র ও চার্টগুলো প্রয়োজনীয়। প্রশাসনিক কাজের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মানচিত্র ব্যবহার করা হয়। কোনো দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য এবং পরিকজন প্রণয়নের জন্য মানচিত্র ব্যবহার করা হয়।
Related Question
View Allমানচিত্রে দুটি স্থানের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং ভূমিতে ঐ দুটি স্থানের মধ্যবর্তী প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত বা সম্বন্ধকে 'স্কেল' বলে।
কর্ণীয় স্কেলের সাহায্যে তিনটি একক জানা যায়।
কতিপয় কর্ণের সাহায্যে অঙ্কিত স্কেলকে কর্ণীয় স্কেল বলে। কোনো সরলরেখার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ নির্ধারণের জন্য কতিপয় কর্ণের সাহায্যে সৃষ্ট এ স্কেল ব্যবহার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে একটি ক্ষুদ্র রেখাকে কয়েকটি সমান ভাগে ভাগ করার জন্য এরূপ স্কেলের ব্যবহার বেশি। আয়তাকার চাঁদায় এ স্কেলটি অঙ্কিত থাকে।
ভূমিতে দূরত্ব ৫০,০০০ ইঞ্চি হলে মানচিত্রে দূরত্ব = ১ ইঞ্চি
‘’ ‘’ ১ ‘’ ‘’ =
‘’ ‘’ ৬৩,৩৬০ ‘’ ‘’ =
= ১.২৭ ইঞ্জি
আমরা জানি, ৬৩,৩৬০ ইঞ্চি = ১ মাইল]
ভূমিতে দূরত্ব ১ মাইল হলো মানচিত্রে দূরত্ব = ১.২৭ ইঞি
‘’ ‘’ ৪ মাইল ‘’ ‘’
= ৫.০৮ ইঞি
= ৫ ইঞ্চি
স্কেল নির্ণয় :

উদ্দীপকের স্কেলটি একটি কর্ণীয় স্কেল; যার প্রতিভূ অনুপাত ১: ৫০,০০০। এ স্কেলের সাহায্যে একই সাথে তিনটি একক যথাক্রমে গজ, ফুট ও ইঞ্চি একক ব্যবহার করে উপস্থাপন করা যায়। এ স্কেল দ্বারা অধিকতর সূক্ষ্ম মাপ নেওয়া যায়। উদ্দীপকে প্রতিভূ অনুপাত ১: ৫০,০০০ দেওয়া আছে। এখানে মানচিত্রে দূরত্ব ১ ইঞ্চি এবং ভূমিতে দূরত্ব ৫০ ইঞ্চি নির্দেশ করে। এখান থেকে গজ বের করা হয়। অর্থাৎ মানচিত্রে ৫ ইঞ্চি = ভূমিতে ৬.৯৪ গজ বের করা হয়। ভূমিতে যদি ৬ গজ হিসাব করা হয় তবে
মানচিত্রের দূরত্ব আসবে ৪.৩২ ইঞ্চি। এভাবে ৪.৩২ ইঞি
দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একটি রেখা নিয়ে তাকে ৬ ভাগে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক ভাগের মান হবে ১ গজ।
এরপর বামপার্শ্বের ভাগটি ৩ ভাগ করতে হবে প্রত্যেক ভাগের মান হবে ১ ফুট। এবার ৪.৩২ ইঞ্চি রেখার উভয় পার্শ্বে ইঞ্চি দেখানোর জন্য ১ ইঞ্চি করে মোট ১২ টি বিন্দু নেওয়া হয়েছে। পরে বিন্দুগুলো যোগ করে ১২ ইঞ্চি নির্দেশ করে।
এভাবে দেখা যাচ্ছে যে, উপরিউক্ত কর্ণীয় স্কেলের সাহায্যে সহজেই তিনটি একক ব্যবহার করা হয়েছে এবং পরিমাপ অনেক সূক্ষ্ম বলে বিবেচিত হয়েছে।
পৃথিবী অথবা এর কোনো অংশের প্রতিকৃতি নির্দিষ্ট স্কেলে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাসহ সমতল কাগজের ওপর অঙ্কন করা হলে তাকে মানচিত্র বলে। মানচিত্রে দুটি স্থানের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং ভূমিতে বা ভূপৃষ্ঠে ঐ দুটি স্থানের মধ্যবর্তী প্রকৃত দূরত্বের অনুপাতকে স্কেল বলে।
মানচিত্রের যেকোনো দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব এবং ভূপৃষ্ঠে বা ভূমিভাগে ঐ দু'টি স্থানের মধ্যে প্রকৃত দূরত্বের যে অনুপাত বা সম্পর্ক তাকে মাপনী বা স্কেল বলে। বিভিন্ন প্রকার স্কেল হচ্ছে-
(i) সরল স্কেল,
(ii) কর্ণীয় স্কেল,
(iii) তুলনামূলক স্কেল,
(iv) বিশেষ ধরনের স্কেল ও
(v) ভার্নিয়ার স্কেল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!