মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে ১.৬ কিলোমিটার থেকে ৮০৫ কিলোমিটার ব্যাসসম্পন্ন গ্রহাণুগুলোকে একত্রিতভাবে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
পড়ন্ত বা স্রোত আছে এমন নদীর পানির চাপকে ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অন্যান্য বিদ্যুতের তুলনায় এটি অনেক সস্তা। তাছাড়া জলবিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ থেকে অনেক দীর্ঘস্থায়ী। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরাসরি কোনো কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন হয় না। এছাড়াও ফসলের জমিতে অবিচ্ছিন্ন সেচ দিতে বাঁধের মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
উদ্দীপকের মাইশা ও মাহিরের ঘটনাটি গ্রীষ্ম ঋতুকে নির্দেশ করে।
মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল। এটিই দেশের উষ্ণতম ঋতু। গড় হিসেবে উষ্ণতম মাস এপ্রিল। এ সময়ে সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ থেকে উত্তরদিকে তাপমাত্রা ক্রমন্বয়ে বেশি থাকে। গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তিরেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। উদ্দীপকে মাইশা ও মাহির এ ধরনের শীতল বায়ুই অনুভব করেছিল। আবার এ ধরনের বায়ুর ফলে এক ধরনের ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এ ঝড়কে কালবৈশাখী ঝড় বলা হয়।
অতএব নিশ্চিতভাবে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ মাইশা ও মাহিরের ঘটনাটি গ্রীষ্ম ঋতুকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে লিমা ভূমিকম্প নামক দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে এবং এ সময় তার আচরণটি মোটেও যুক্তিযুক্ত ছিল না বলে আমি মনে করি। ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ কম্পন অত্যন্ত মৃদু থেকে প্রচণ্ড হয়ে থাকে, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। ফলে পৃথিবীতে বহু পরিবর্তন ও ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। তাই এ দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হতে পারে। উদ্দীপকে লিমাকে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়তে দেখা যায়। যা মোটেও ঠিক নয়। ভূমিকম্পের সময় নিজেকে ধীরস্থির ও শান্ত রাখতে হবে। বহুতল দালানের ভিতর থাকলে এবং রাতে ভূমিকম্প হলে টেবিল বা খাটের নিচে ঢুকে অবস্থান নিতে এবং কাচের জানালা থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রয়োজনে ঘরের কোণে বা বিল্ডিং-এর কলামের গোড়ায় আশ্রয় নিতে হবে। আর এ কাজগুলোই ভূমিকম্প চলাকালীন সময়ের জন্য উপযুক্ত করণীয় ছিল। কিন্তু উদ্দীপকের লিমা এ কাজগুলো না করে বরং ভীত হয়ে চিৎকার করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকে। তার এ আচরণ ভূমিকম্পের সময় মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। তাই আমরা ভূমিকম্প চলাকালীন করণীয় যথাযথভাবে পালন করব এবং সচেতন থাকব।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
বস্তুত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাংশের পাহাড়িয়া অংশ ব্যতীত প্রায় সমগ্র দেশটিই বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত নদ-নদীর পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি। বাংলাদেশের ভূখণ্ড উত্তর হতে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশের নদনদী, উপনদী ও শাখানদীগুলো উত্তর দিক হতে দক্ষিণে অর্থাৎ বঙ্গোপসাগরের অভিমুখে প্রবাহিত হয়।
মানচিত্রের 'A' চিহ্নিত অঞ্চলটি হচ্ছে প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি।
বাংলাদেশের মোট ভূমির ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়। এ সময়ের আন্তঃবরফগলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়। নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ অঞ্চলের মাটি ধূসর ও লালচে বর্ণের।
চিত্রের 'B' চিহ্নিত স্থানটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে নির্দেশ করায় এখানে ছোটবড় পাহাড়-পর্বত অধিক পরিলক্ষিত হবে এবং 'C' চিহ্নিত অঞ্চলটি সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বিধায় এখানে নদীনালাসহ অধিক ঘনবসতি পরিলক্ষিত হবে।
'B' স্থানটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ যা বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২% এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত। আবার ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিওডংসহ ছোটবড় বেশকিছু টিলা জাতীয় পাহাড় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় হিসেবে আমাদের ভূখন্ডে শোভা পাচ্ছে। আর 'C' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। তবে এ সমভূমি একদিনে সৃষ্টি হয়নি। সমতল ভূমির ওপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গ কিলোমিটার। সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূষি খুবই উর্বর। ফলে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। আর তাই সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিতে ঘনবসতি অধিক পরিলক্ষিত হবে এটাই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি পাহাড় হচ্ছে চিকনাগুল।
কালবৈশাখি এক প্রকার ঝড়। গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক হতে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়ে যে ঝড়ের সৃষ্টি করে সে ঝড়কেই কালবৈশাখি ঝড় বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!