জনসংখ্যা সম্পর্কে বাংলাদেশের স্লোগানটি হলো- "দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়।"
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা প্রয়োজন। জনসংখ্যা ও উন্নয়ন পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। একটি দেশের জনসংখ্যার ওপর সে দেশের উন্নয়ন অনেকখানি নির্ভরশীল। তাই দেশের উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনসংখ্যার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অশিক্ষিত ও কর্মহীন জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে তরুণদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে জনসংখ্যাকে দক্ষ করে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে। তবেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে এবং দেশ উন্নত হবে।
রবিন সাহেবের পরিকল্পনা পাঠ্যবইয়ের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের ধারণাকে নির্দেশ করে।
সম্পদ যেখানে সীমিত, সেখানে একটি দেশের বিশাল জনসংখ্যা তার জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা যায়। উদ্দীপকের রতনপুর গ্রামের ধনী ব্যক্তি রবিন সাহেব গ্রামের লোকদের শিক্ষিত ও সচেতন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এ পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রামের মানুষ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সচেতন হবে এবং শিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় জানতে পারবে, বুঝতে পারবে। এছাড়া বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা যায়। শিক্ষার বিস্তার ঘটানো জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করার অন্যতম একটি কৌশল। এর সহায়তায় সহজেই মানুষকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায়।
সুতরাং বলা যায়, রবিন সাহেবের গ্রামের লোকদের শিক্ষিত ও সচেতন তোলার পরিকল্পনা জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের একটি কার্যকরী কৌশল।
কাজল সাহেবের পদক্ষেপ তথা শিক্ষা, চিকিৎসা ও নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি।
কোনো দেশের জনসংখ্যা যখন জনসম্পদে রূপান্তর হয় তখন সে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। আর উন্নত জীবন পাওয়ার জন্য শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের মানুষকে দক্ষ করতে হবে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের জীবনযাত্রাকে উন্নত করবে। উদ্দীপকে উল্লিখিত কাজল সাহেবের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে শিক্ষা, চিকিৎসা, নারী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু এসব পদক্ষেপই জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যথেষ্ট নয়। এগুলো ছাড়াও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার, কৃষিভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করে জনগণকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে। এগুলোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নত হবে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, কাজল সাহেবের উদ্যোগ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যথেষ্ট নয়, বরং আরও অনেক বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নত হবে।
Related Question
View Allউন্নয়ন শব্দটি অগ্রগতি বা বৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন এমন একটি প্রক্রিয়া যা বৃদ্ধি সৃষ্টি করে, অগ্রগতি এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। সাধারণত, উন্নয়ন শব্দটি ইতিবাচক পরিবর্তনকে বর্ণনা করে।
মানবিক ভূগোলের একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো জনসংখ্যা। কোনো দেশের নারী-পুরুষ মিলে যে মোট লোকসংখ্যা হয় তাকে ওই দেশের জনসংখ্যা বলে। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ডের একক জনগোষ্ঠীকে ওই ভূখণ্ডের জনসংখ্যা বলে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়।
অর্থাৎ মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয়/মোট জনসংখ্যা
বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১৭১ জন লোক বাস করে এবং মাথাপিছু আয় ২৭৮৪ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪)।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৬ জন লোক বাস করে এবং তাদের মাথাপিছু আয় ৮১,৬৯৫ মার্কিন ডলার (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ২০২৩)।
একটি দেশ ভবিষ্যতে কতটা উন্নতি করবে তা দেশটির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও তার জনসংখ্যানীতির কার্যকর প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল এবং উন্নয়নশীল দেশের বেলায় কথাটা আরও বেশি সত্যি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!