পারস্পরিক সম্পর্কের সূত্রে আবদ্ধ, ভাবের আদান-প্রদান ও পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় মানুষ যখন একস্থানে বসবাস করে তখন তাকে সমাজ বলে।
প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে আসছে।
সমাজ গঠিত হয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সমন্বয়ে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সমাজের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ। একত্রে বসবাসের ফলে মানুষের মৃধ্যে নিজস্ব প্রথা, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, রীতিনীতি জীবনপ্রণালি প্রকাশ পায়। মানুষের সাথে মানুষের মিথস্ক্রিয়ার ফলেই সামাজিক সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। সুতরাং বলা যায়, মানুষ সামাজিক জীব।
রফিক যদি ঠিকমতো আয় করতো এবং তারা পরস্পরকে বিশ্বাস করতো তাহলে পরিবারটি টিকে থাকত।
যে কোনো পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকে থাকার প্রধান নিয়ামক হচ্ছে পারস্পরিক বিশ্বাস। পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস থাকলে সেই সংসারে সব সময় কলহ লেগে থাকে। আর সংসার টিকে থাকার জন্য অর্থ অবশ্যই প্রয়োজন। অর্থ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই পরিবারের সদস্যদের আয়মূলক কাজ করা প্রয়োজন।
রফিক রত্নাকে বিয়ে করে পরিবার গঠন করেছিল। কিন্তু রফিক ঠিকমতো কাজ করতো না। এর ফলে তাদের সংসারের প্রয়োজনগুলো পূরণ হত না। যার কারণে তাদের দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত। এছাড়াও তারা দুজন দুজনকে বিশ্বাস করত না। এর ফলে তাদের সংসার টিকে না। কিন্তু রফিক যদি ঠিকমতো আয় করতো তাহলে তাদের মধ্যে কোন ঝগড়া হতো না। এছাড়া একে অপরকে বিশ্বাস করলে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হত। তাদের পরিবারটি টিকে থাকতো।
মিসেস সাদিয়ার দেখা এদেশের পরিবর্তনসমূহ হচ্ছে পরিবার ব্যবস্থার পরিবর্তন।
শিল্পায়ন, নগরায়ণ, যান্ত্রিক সভ্যতার অগ্রগতি আধুনিক বিজ্ঞান ও' প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষা গ্রহণের কারণে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। যার প্রভাব পড়েছে আমাদের পরিবার ব্যবস্থায়।
উদ্দীপকে মিসেস সাদিয়া অনেক বছর পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে দেখেন নারীরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করছে। যা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে মহিলাদের অংশগ্রহণকে বোঝাচ্ছে। শিক্ষার প্রসার ও সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মানুষের মূল্যবোধে পরিবর্তন এসেছে। যার ফলে বর্তমানে আমাদের দেশের মেয়েরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। কিন্তু অতীতে আমাদের দেশের মেয়েরা শুধুমাত্র পারিবারিক গন্ডির মধ্যেই থাকতো। তারা কোনো অর্থনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত থাকত না। এই পরিবর্তনটিই মিসেস সাদিয়া লক্ষ করেছেন। এছাড়া তিনি এদেশের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখেছেন। অতীতে বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মতামত ছিল, মুখ্য। বর্তমানে পাত্র-পাত্রীর মতামতকে অধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়। অতীতে বিয়ের প্রস্তুতি চলত অনেক দিন। বর্তমানে অল্প পরিসরে বা উভয় পক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মিসেস সাদিয়া বিয়ের ক্ষেত্রে এ পরিবর্তনসমূহ দেখেছেন। অতীতে আমাদের দেশে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে কাজের সুবিধার্থে গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে বসবাসের কারণে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার গড়ে উঠছে। শহরগুলোতে পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মিসেস সাদিয়া পরিবার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলোই দেখেছেন।
আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে আমাদের পরিবার ব্যবস্থায়। তাই দীর্ঘদিন পর বিদেশ থেকে ফিরে মিসেস সাদিয়া পরিবার ব্যবস্থার বিভিন্ন পরিবর্তনসমূহ দেখেছেন। যেগুলো তাদের সময়ের পরিবার ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত।
Related Question
View Allপরিবারের সুখ সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবার গঠন করাকে পরিকল্পিত পরিবার বলে।
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যে নতুন সংসার শুরু করে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে।
পাশ্চাত্য সমাজে এই ধরনের পরিবারের সংখ্যা অধিক। আমাদের দেশে বর্তমানে পেশাগত কারণে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা শহরাঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে
যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা সজল যখন রাঙামাটিতে গারো সমাজের একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে তখন সে কৌতূহলী হয়ে যায়।
নতুন পরিবেশ, নতুন পদ্ধতিতে সংঘটিত বিবাহ উৎসব সজলকে অবাক করে দেয়। কারণ সে যে বিয়েতে অংশগ্রহণ করেছিল সেখানে স্বামীরা বিয়ের পর মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি একটি মাতৃপ্রধান পরিবার।
মাতৃপ্রধান পরিবারের ক্ষমতা ও নেতৃত্ব একজন মহিলার ওপর ন্যস্ত থাকে। এখানে স্ত্রী লোকের অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি এবং স্ত্রীলোকের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। পরিবারের ক্ষমতাভিত্তিক হিসেব করলে এটি মাতৃপ্রধান পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের সকল দায়দায়িত্ব এখানে মাতা বা প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোকই নেতৃত্ব দেয়। সজল বিয়েতে এ সকল বিষয়গুলো দেখেই কৌতূহলী হয়েছিল। আমাদের সমাজে আমরা পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে বসবাস করি। যেখানে বিয়ের পর স্ত্রী পুরুষের অধিকারী হয়ে থাকে। কিন্তু গারো সমাজের এই পরিবারের নতুন পরিবেশ, নতুন বিবাহ পদ্ধতি সজলকে কৌতূহলী করে তোলে।
সজল যে পরিবারে বসবাস করে সেটি পরিবারের কাঠামো বা আকারানুযায়ী যৌথ পরিবারের অন্তর্গত।
যৌথ পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিসহ একত্রে বসবাস করে। এ ধরনের পরিবারে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তান-সন্ততি বসবাস করতে পারে।
সজল এরূপই একটি যৌথ পরিবারে বসবাস করে, যেখানে তাদের সাথে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তানাদিও রয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবারে বয়ষ্ক ব্যক্তি পরিবারের প্রধান। তার হাতে সম্পত্তির অধিকার থাকে এবং তিনি পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয় দেখাশুনা করেন।
যৌথ পরিবারে শিশুদের লালনপালনে সমস্যা হয় না। ছোটরা বড়দের সম্মান ও বড়রা ছোটদের সাথে স্নেহের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। যৌথ পরিবারের ছেলেমেয়েরা সহনশীল হয়। ছেলেমেয়েদের সমস্যা সমাধানে বাবা-মা ভূমিকা রাখে। সকলে মিলেমিশে যৌথ পরিবারে ভাগ করে থাকে। ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে যৌথ পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সজলের পরিবারটিও যৌথ পরিবার। এধরনের পরিবারে সকলে মিলেমিশে বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করে।
সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সমাজের রূপান্তর।
পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বলতে বোঝায় পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে একে অপরের প্রতি নির্ভর করা।
পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা পরিবারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক বিশ্বাস যত মজবুত হয় পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা তত বেশি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সুখে দুঃখে একে অপরের অংশীদার হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!