মানুষের জীবনযাপন, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষ যা কিছু সৃষ্টি করে সেগুলোর সমষ্টিকে সংস্কৃতি বলে।
বাঙালি সমাজে সংগীতের অনবদ্য প্রভাব রয়েছে বলে একে সংগীতের দেশ বলা হয়। বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ। এখানকার মাঠে-প্রান্তরে কৃষক হাল চাষ করতে করতে যেমন গান বেঁধেছে, তেমনি নদী ও খালে নৌকা বাইতে বাইতে মাঝিও গলা ছেড়ে গান গেয়েছে। গানের মাধ্যমে মানুষ আধ্যাত্মিক সাধনা করেছে। শহর ও গ্রামের মানুষ সমানভাবে নানা সংগীতের চর্চা করেছে। এভাবে বাংলার সংগীত হয়েছে সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত। তাই বাংলাকে বলা হয় সংগীতের দেশ।
দৃশ্যকল্প-১-এ সংস্কৃতির যে বিষয়টির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে তা হলো সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ।
সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১-এর লিলির মা-চাচিরা বিয়ের পর শাড়ি পরলেও সে তার বিয়ের পর সেলোয়ার-কামিজ পরছে। এ সংস্কৃতি সে তার শ্বশুরবাড়ির সংস্কৃতি থেকে নিয়েছে, যা সাংস্কৃতিক আভীকরণ। যখন মানুষ অন্য কোনো পরিবেশে বসবাস শুরু করে তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ তথা সমগ্র জীবনধারার সাথে সে নিজেকে মানিয়ে নেয়। এভাবে একসময় সংস্কৃতি তার আয়ত্তে চলে আসে যাকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলে। যেমন- মেয়েরা বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির সংস্কৃতির সাথে আত্তীকরণ করে নেয়। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১-এ সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
না, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের জন্য দৃশ্যকল্প-২-এর প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কারণটিই একমাত্র কারণ নয় বলে আমি মনে করি। সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি। সংস্কৃতির চলমান গতিধারা এবং এক সমাজ থেকে আরেক সমাজে প্রসার লাভকে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি বলে। উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২-এ দেখা যায়, 'ইচলাদি গ্রামের মানুষ এখন মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বের সকল সংবাদ দ্রুত সংগ্রহ করে। এতে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ঘটেছে, যা সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের অন্যতম কারণ প্রযুক্তিকে নির্দেশ করেছে। এটি সাংস্কৃতিক "পরিবর্তনের একমাত্র কারণ নয়। বিশ্বায়নের ফলে এবং প্রযুক্তির উন্নতিতে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে সাংস্কৃতায়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের আরেকটি কারণ। নিজ সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে অন্য কোনো সাংস্কৃতিক উপাদানকে নিজ সংস্কৃতির সাথে আত্মস্থ করার প্রক্রিয়াকে সাংস্কৃতায়ন বলে। দীর্ঘসময় বহিরাগতদের শাসনে থাকায় অসংখ্য ইংরেজি, আরবি, ফারসি, সংস্কৃত শব্দ আমাদের বাংলা ভাষায় মিশে গেছে। অপরদিকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ হলো ডান্যের সংস্কৃতিকে আয়ভ করা। দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা-ভাবনা, মূল্যবোধ এক কথায় সমগ্র জীবনের সাথে আত্তীকরণের চেষ্টা করা হয়। আবার সাংস্কৃতিক আদর্শ পরিবর্তনশীলতার আরও একটি কারণ। এটি হচ্ছে এক সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতিতে পরিবর্তন প্রক্রিয়া।
পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লিখিত কারণ অর্থাৎ প্রযুক্তিগত সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সংস্কৃতি পরিবর্তনের একমাত্র কারণ নয়।
Related Question
View Allসাংস্কৃতিক পরিবর্তন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে ঘটে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরের সময় সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শেও সংস্কৃতির রূপ বদলায়। এটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
উন্নয়ন বলতে ক্রমান্বয়ে কোনো কিছু উন্নত বা পরিপূর্ণ রূপলাভকরাকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নকেও নির্দেশ করে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। উন্নয়ন সমাজের পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। উন্নয়ন যেমন সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে, তেমনি সাংস্কৃতির পরিবর্তনও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নয়ন ঘটায়।
বাংলাদেশের কৃষিতে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এটি বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হিসেবে পরিচিত। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
সামাজিক উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সচেতনতার প্রসারের মাধ্যমে ঘটে। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফল।
সংস্কৃতির পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয় কারণ এটি সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। নদীর প্রবাহের মতো সংস্কৃতি পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন মানুষকে নতুন ধারণা ও সুযোগ দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!