মানসিক চাপ হলো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ব্যক্তির এমন এক ধরনের অবস্থা, যার দ্বারা সে মানসিক যন্ত্রণা বা পীড়নের সম্মুখীন হয়।
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে তার মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।
সন্তান সবসময় মা-বাবার কাছ থেকে স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা প্রত্যাশা করে। কিন্তু বাবা-মার দ্বন্দ্ব-কলহ বা কোনো কারণে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটলে অথবা আলাদা আলাদা বসবাস করলে সন্তানকে যে কোনো একজনের কাছে অথবা ডে-কেয়ার সেন্টারে থাকতে হয়। ফলে সবকিছুই তার কাছে নিষ্ঠুর বলে মনে হয়। সে চরমভাবে নিজেকে খোলসের মধ্যে গুটিয়ে নেয়। এভাবে তার মধ্যে মানসিক চাপমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ শরীফের এই অবস্থাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় কর্মভারের প্রতিফলন বলা যায়।
কর্মভার হচ্ছে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে সাময়িকভাবে কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। এর ফলে কর্মের প্রতি আগ্রহ বা ইচ্ছা হ্রাস পায়। ক্লান্তি ওবিরক্তিবোধ বৃদ্ধি পায়। কর্মভারকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা-মানসিক বা ব্যক্তিনিষ্ঠ কর্মভার এবং দৈহিক বা বস্তুনিষ্ঠ কর্মভার। মানসিক কর্মভারের অনুভূতি হচ্ছে ক্লান্তি, অবসাদবোধ, চিন্তা করার আসক্তি না থাকা, মনোযোগ ও একাগ্রতা নষ্ট হওয়া, প্রেষণা কমে যাওয়া, ধৈর্য না থাকা; সজিবতা-সক্রিয়তা ও সতর্কতা হ্রাস পাওয়া, আগ্রহ-উৎসাহ ও উদ্দীপনা কমে যাওয়া ইত্যাদি। আবার দৈহিক কর্মভারের অনুভূতি হচ্ছে কতগুলো শারীরিক পরিবর্তন, যেমন- শরীর অবশ লাগা, তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়া, মাথা ভার লাগা ও ব্যথা করা, হাই তোলা, চোখ ব্যথা করা, দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হওয়া, তৃষ্ণা অনুভব করা, শরীর ঘামা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।
দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার্থী শরীফ পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেনা। তার ভীষণ ক্লান্তি লাগে, ঘুমঘুম ভাব আসে এবং মাথাব্যথা করে। তার শারীরিক এই অবস্থাসমূহকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় কর্মভার বলে।
দৃশ্যকল্প-২ এ আরিফ ও সোমার সমস্যার উৎস ভিন্ন। তাদের সমস্যার উৎস যথাক্রমে পরিবেশগত এবং ব্যক্তিগত উৎসকে নির্দেশ করে।
পরিবেশগত প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রেষণা পরিতৃপ্তিতে বাধার সৃষ্টি হতে পারে এবং এর ফলে ব্যক্তি হতাশাগ্রস্ত হলে তাকে হতাশার পরিবেশগত উৎস বলে। উদাহরণস্বরূপ, বনভোজনে যাবার সময় পথে গিয়ে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া। সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন রীতি-নীতি ও বর্ণবৈষম্য অনেকক্ষেত্রে প্রেষণার সন্তুষ্টিতে বাধার সৃষ্টি করে। যেমন-ধনীশ্রেণির সাথে দরিদ্রশ্রেণির প্রেমের ব্যর্থতা, হতাশার জন্ম দিতে পারে। দাঁড়িয়ে থেকেও টিকেট না পাওয়ায় তার মন খারাপ হলো। তার এ মন খারাপ বা হতাশা পরিবেশগত উৎস থেকে উদ্ভূত। দৃশ্যকল্প-২ এ আরিফ ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাবার জন্য দুই ঘণ্টা লাইনে
ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলির কারণে ব্যক্তির মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হলে সেগুলোকে হতাশার ব্যক্তিগত উৎস বলে। শারীরিক বিকৃতি, পঙ্গুত্ব, কুৎসিত চেহারা, অন্ধত্ব, বধিরতা প্রভৃতি ব্যক্তিগত ত্রুটি প্রেষণার পরিতৃপ্তিতে বাধা দিলে হতাশার সৃষ্টি হয়। এছাড়া মানসিক অক্ষমতাও হতাশার কারণ হতে পারে। দৃশ্যকল্প-২ এ সোমার নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও অতিরিক্ত মোটা হবার জন্য তার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। অর্থাৎ তার ব্যক্তিগত ত্রুটির কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সুতরাং সার্বিক আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, আরিফের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে হতাশার পরিবেশগত উৎস থেকে এবং সোমার সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে হতাশার ব্যক্তিগত উৎস থেকে।
Related Question
View Allমানসিক চাপ হলো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ব্যক্তির এমন এক ধরনের অবস্থা, যার দ্বারা সে মানসিক যন্ত্রণা বা পীড়নের সম্মুখীন হয়।
ব্যক্তির অসহায়ত্বের ফলে হতাশার মতো নেতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তাই অসহায়ত্ব ক্ষতিকর।
মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা কোনো কিছু দ্বারা বাধা পেলে যে উত্তেজনার সৃষ্ট হয় তাকে হতাশা বা অসহায়ত্ব বলে। অসহায়ত্বের অবস্থায় পরিস্থিতি ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। ফলে ব্যক্তি পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরূপ পরিস্থিতিতে ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ধংসাত্মক প্রতিক্রিয়া করে থাকে। তাই অসহায়ত্বকে ক্ষতিকর মানসিক অনভূতি বলা হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ পরিলক্ষিত দ্বন্দ্বটি হলো আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব।
আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বে একটি লক্ষ্যবস্তু থাকে, লক্ষ্যবস্তুটি একদিকে যেমন আকর্ষণ করে, অন্যদিকে তেমনি বিকর্ষণও করে। অর্থাৎ আকর্ষণীয় ও বর্জনীয় উভয় গুণই লক্ষ্যবস্তুতে বর্তমান থাকে। লক্ষ্যবস্তুটির আকর্ষণীয় গুণের কারণে ব্যক্তি এর দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ঋণাত্মক গুণটি বেশি শক্তিশালী হওয়ায় আবার তাকে অগ্রসর হওয়া `থেকে বিরত রাখে। ফলে ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়ে।
উদাহরণস্বরূপ- ভালো বেতনের একটি চাকরি পাওয়া গেছে। তবে চাকরিস্থল খাগড়াছড়ি জেলার শেষপ্রান্তে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে। ভালো বেতন একদিকে আকর্ষণ করছে অপরদিকে, দুর্গম অঞ্চল দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এরূপ একটি অবস্থাই আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব।
দৃশ্যকল্প-২-এ মানসিক চাপ মোকাবেলার 'অবদমন' ও 'অপব্যাখ্যান বা যুক্তিসিদ্ধকরণ' কৌশলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা ভিন্ন হলেও মূলত একই শ্রেণিভুক্ত।
তীব্র মানসিক চাপের ফলে আমাদের মনের ইচ্ছাগুলো নিজেদের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয় না বা তৃপ্তি সাধন করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য কামনা-বাসনাকে ব্যক্তি স্বভাবতই জোরপূর্বক ভুলে থাকে বা অবচেতন মনে দাবিয়ে রাখে। এভাবে জোরপূর্বক ভুলে থাকা বা দাবিয়ে রাখার কাজটিকে অবদমন বলে। দৃশ্যকল্প-২ এর প্রথমাংশে এরূপ সংগতি বিধানের চরমতম ও নিকৃষ্টতম কৌশলের কথা বলা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর শেষাংশে নিজের ব্যর্থতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উদ্ভট যুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। মূলত এটা হলো ব্যর্থতার পীড়াদায়ক গ্লানি থেকে মুক্তি লাভের জন্য অপব্যাখ্যার কৌশল ব্যবহার করা। উদাহরণস্বরূপ- বেশ কিছুদিন ধরে খেলছে এমন একজন খেলোয়াড়কে যদি দলের খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত করা না হয় তাহলে তাকে বলতে শোনা যায় 'আরে ভাই, অনেক বয়স হয়েছে, এখন কি আর ছেলেপেলেদের সাথে খেলা আমার সাজে।' মূলত এসব ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অক্ষমতাকে ঢাকবার জন্য দুর্বল যুক্তির আশ্রয় নিয়ে অন্যের চোখে আমাদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকি।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উভয়ই আত্মরক্ষার কৌশল হলেও ভিন্ন। 'অবদমন' ও 'অপব্যাখ্যান
মানসিক চাপ হলো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ব্যক্তির এমন এক ধরনের অবস্থা, যার দ্বারা সে মানসিক যন্ত্রণা বা পীড়নের সম্মুখীন হয়।
ব্যক্তির মানসিক চাপ হ্রাসে সামাজিক সহায়তা ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ প্রয়োজন।
বিভিন্ন সামাজিক কারণে মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যেমন-সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া, সামাজিক বৈষম্য, জাতিগত বিদ্বেষ, বর্ণবৈষম্য প্রভৃতি কারণে সৃষ্ট ব্যর্থতা ও উত্তেজনা। অন্যদিকে সামাজিক সহায়তা চাপ হ্রাস করে। সামাজিক নিরাপত্তা, আশ্বস্ততা ও অনুপ্রেরণা ব্যক্তির বিপর্যস্ত জীবনকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে থাকে।
তাই চাপ হ্রাসে সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!