সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে।
আধুনিক প্রযুক্তি বা বস্তুগত সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তন ও উন্নয়ন সমাজে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। এখন ঘরে বসে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের খবর জানা যায়। ফলে এক সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসছে। অনুন্নত সংস্কৃতি দ্রুত উন্নত সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করছে।
দৃশ্যকল্প-১ এ বাংলা সাহিত্যের চর্যাপদের চিত্র ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে শ্রাবণীর বাবা ঢাকার জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করে বাংলার প্রাচীন আমলের একটি সাহিত্য নিদর্শন সম্পর্কে বলেন। তিনি বলেন এই নিদর্শন থেকে আমরা বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে জানতে পারি। উদ্দীপকের তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় যে, শ্রাবণীর বাবা তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদ সম্পর্কে বলেন। প্রায় ১২০০ বছর আগে বৌদ্ধ সাধকরা চর্যার পদগুলো রচনা করেছেন। চর্যার অধিকাংশ হয়ত আমাদের পক্ষে বোঝা কঠিন হবে। তাই শাব্দিক অর্থছাড়াও এগুলোর ভাবার্থ বুঝতে হয়। এ চর্যাপদে বাংলার জনগণ, ভাষা, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, গ্রামীণ সামাজিক জীবন ইত্যাদি সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। যার মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম আমাদের প্রাচীন ইতিহাস ও'ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ বাংলা সাহিত্যের চর্যাপদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ বাংলার আঞ্চলিক লোকগানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা বাংলার সংগীতশিল্পের সমৃদ্ধতার পরিচয় বহন করে।
উদ্দীপকে সালেহা গ্রামের বৈশাখী মেলায় অনেক ধরনের গান উপভোগ করে। সালেহা জানতে পারে গানগুলো গ্রামের কৃষক, জেলে, মাঝি-মাল্লাসহ সাধারণ মানুষেরা গেয়ে থাকেন। উদ্দীপকের অনুরূপে, বাংলার মাঠে-প্রান্তরে কৃষক হাল চাষ করতে যেমন গান বেঁধেছে তেমনি নদী ও খালে নৌকা বাইতে বাইতে মাঝিও গলা ছেড়ে গান গেয়েছে। আবার সাধারণ মানুষ তার মতো করে গানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনা করেছে। আমরা বৈষ্ণব পদাবলীর কথা আগেই জেনেছি। কীর্তনগান প্রধানত হিন্দু সমাজে হতো, এখনও হয়। তবে বাউল ও ভাটিয়ালি গান গ্রামের হিন্দু-মুসলমান সকলেই গেয়ে থাকে। মুর্শিদি, পালাগান, রারমাস্যা, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি বহু ধরনের আঞ্চলিক লোকগান ছড়িয়ে আছে সারা বাংলা জুড়ে।
তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এর বাংলা আঞ্চলিক লোকগান, বাংলার সংগীত শিল্পের সমৃদ্ধতার পরিচয় বহন করে।
Related Question
View Allসাংস্কৃতিক পরিবর্তন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে ঘটে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরের সময় সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শেও সংস্কৃতির রূপ বদলায়। এটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
উন্নয়ন বলতে ক্রমান্বয়ে কোনো কিছু উন্নত বা পরিপূর্ণ রূপলাভকরাকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নকেও নির্দেশ করে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। উন্নয়ন সমাজের পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। উন্নয়ন যেমন সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে, তেমনি সাংস্কৃতির পরিবর্তনও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নয়ন ঘটায়।
বাংলাদেশের কৃষিতে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এটি বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হিসেবে পরিচিত। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
সামাজিক উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সচেতনতার প্রসারের মাধ্যমে ঘটে। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফল।
সংস্কৃতির পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয় কারণ এটি সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। নদীর প্রবাহের মতো সংস্কৃতি পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন মানুষকে নতুন ধারণা ও সুযোগ দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!