কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্যের নাম- মহাশ্মশান।
'তোমারি নিঃশ্বাস বসন্তের বায়ু' বলতে কবি জগতের সমস্ত পরিবর্তন ও মঙ্গল সাধনে স্রষ্টার কৃতিত্বকে বুঝিয়েছেন।
'প্রার্থনা' কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার-মহিমার কথা বর্ণনা করেছেন। তাঁর অনুভূতির জগতে স্রষ্টার অবস্থান অতি উজ্জ্বল। তিনি বিশ্বাস করেন, জগতে যা কিছু সুন্দর, প্রকৃতিতে যা কিছু পরিবর্তন সূচিত হয়, জগতে যা কিছু স্থায়ী ও চিরন্তন, সবই সৃষ্টিকর্তার নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনিই জগতের সমস্ত প্রাণীর মঙ্গল সাধন করেন। বসন্তের নির্মল বাতাস, ফুলের সৌরভ সব তারই দান। কবি তাই গভীর বিষণ্ণতা ও দুঃখের সময় স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন তার হৃদয়ে শক্তি লাভের জন্য। প্রশ্নোক্ত বাক্যে স্রষ্টার প্রতি কবির কৃতজ্ঞতা ও গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে।
দৃশ্যকল্প-১ এর সাথে 'প্রার্থনা' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো সুখ-শান্তির পথে পরিচালনার জন্য স্রষ্টার কাছে কবির প্রার্থনার দিকটি।
স্রষ্টাই পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টির নিয়ন্তা। তাঁর দয়ায় সমগ্র জগৎ সংসার পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর দয়া বা মহিমার কোনো তুলনা হয় না। তিনিই মানুষকে সুখ-শান্তির পথে পরিচালিত করেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশের দৃশ্যকল্প-১ সহজ, সরল, সুন্দর ও শান্তিময় জীবনের জন্য সরল সঠিক পুণ্য পথে চালানোর জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে। কবি এখানে স্রষ্টাকে তাঁর প্রিয়জনের পথে পরিচালার কথা বলেছেন। এই বিষয়টি 'প্রার্থনা' কবিতায় কবির সহজ, সরল, সুন্দর ও শান্তিময় জীবনে চলার জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি স্রষ্টার অপার মহিমাকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন এবং আমরা যেন তাঁর আরাধনায় আত্মনিয়োগ করতে পারি সেজন্য তাঁর কাছে শক্তি প্রার্থনা করেছেন। উভয় ক্ষেত্রে স্রষ্টার কাছে সুখ ও শান্তিময় জীবন প্রত্যাশা করা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ কায়কোবাদের প্রত্যাশাকেই ধারণ করেছে-মন্তব্যটির যথার্থ।
সৃষ্টিকর্তা সর্ব মহান ও সর্বজ্ঞ। পৃথিবীর সমস্ত কিছু তাঁর আশীর্বাদে পুষ্ট। জগতের সবকিছুই তিনি সৃষ্টি করেছেন। তাঁর কাছেই সবাই শেষ আশ্রয় লাভ করে। তাঁর দয়া ও মহিমার কোনো তুলনা নেই।
দৃশ্যকল্প-২-এ ভ্রান্তিময়, অভিশাপগ্রস্ত পথে কবিকে পরিচালিত না করার জন্য স্রষ্টার কাছে মিনতি করা হয়েছে। তিনি যেন কবিকে অন্যায় পথে পরিচালিত না করেন। তিনি যেন সত্য সঠিক পথ থেকে কখনো মিথ্যা অন্ধকার পথে না নেন। তার জন্য কবি যে প্রার্থনা করেছেন তা 'প্রার্থনা' কবিতার মূলভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। কবি এখানে বিপদে-আপদে, সুখে, শান্তিতে সবসময় বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেছেন। কবি স্রষ্টার দয়া পাওয়ার জন্য ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেছেন।
'প্রার্থনা' কবিতায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। কবিতার ভাবার্থে স্রষ্টার মহিমা বর্ণনা করে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা হয়েছে। কারণ তাঁর করুণা ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ তাই মিথ্যা ও অভিশাপের পথে আমাদের পরিচালনা না করার জন্য- তার দয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allস্তুতি কথার অর্থ প্রশংসা।
'তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে'- আলোচ্য উক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন তিনি স্রষ্টার স্মরণাপন্ন হয়েছেন নিঃস্ব-রিক্ত হাতে।
কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন স্রষ্টার কাছে। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেন। কবি জানেন, স্রষ্টার অসীম করুণায় বিশ্বের প্রতিটি প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রাণধারণ করে আছে। সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে স্রষ্টাই কবির একমাত্র ভরসার স্থল। কবি তাই চোখের জল আর নিজের দীনতা নিয়ে নিঃস্ব হাতে স্রষ্টার দুয়ারে প্রার্থনা করেন।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রার্থনা' কবিতার স্রষ্টার প্রতি কবির অনুরাগ এবং দুঃখ-কষ্টে স্রষ্টার করুণা লাভের প্রত্যাশার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'মানুষ' স্রষ্টার সৃষ্ট জীবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষের পার্থক্য জ্ঞান-বুদ্ধিতে এবং আচরণে। স্রষ্টা মানুষকে নানাভাবে সহায়তা দান করেন। তাই মানুষকে নিজের এ দীনতা দূর করতে এবং বিপদে-আপদে সাহায্যের জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করতে হয়।
উদ্দীপকে স্রষ্টাকে স্মরণ করা হয়েছে। সুখের দিনে স্রষ্টাকে ভুলে না যাওয়া এবং দুঃখের সময় তাঁকে মনে করার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়টি 'প্রার্থনা' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'প্রার্থনা' কবিতায় কবি বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় বিধাতা বা স্রষ্টাকে স্মরণ করার কথা বলেছেন। তাঁর কাছে শক্তি প্রত্যাশা করেছেন। কারণ তাঁর অফুরন্ত দয়াতেই জগতের সবকিছু চলছে। উদ্দীপকের কবির বিশ্বাসবোধ এবং 'প্রার্থনা' কবিতার কবির বিশ্বাসবোধে কোনো পার্থক্য নেই। এই বিবেচনায় উদ্দীপকটি 'প্রার্থনা' কবিতায় প্রতিফলিত সুখে-দুঃখে স্রষ্টার সাহায্য প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকটি 'প্রার্থনা' কবিতার একটি বিশেষ দিককে নির্দেশ। করলেও সমগ্রভাব প্রকাশে সক্ষম নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্রষ্টা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। মানুষের অন্যতম প্রধান কাজ হলো ইবাদতের মধ্য দিয়ে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাঁকে সন্তুষ্ট করতে হয় কর্মের মধ্য দিয়ে, সেবার মধ্য দিয়ে।
উদ্দীপকে স্রষ্টার অসীম দয়া ও ক্ষমার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। স্রষ্টাকে সুখে যেমন ভোলা উচিত নয়, তেমনি দুঃখের সময় তাঁর করুণা প্রার্থনা করা উচিত। স্রষ্টাকে না দেখা গেলেও তাঁর সৃষ্টির বিশালতার মাঝে আমরা তাঁকে উপলব্ধি করতে পারি। কবি তাই দুঃখের দিনে স্রষ্টাকেই নিঃশঙ্কোচে স্মরণ করতে চেয়েছেন। এই 'বিষয়টি 'প্রার্থনা' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। স্রস্টাকে স্মরণ করতে হবে সবার মঙ্গলের জন্য। যন্টার কাছেই কবি শক্তি প্রত্যাশা করেছেন। বিপদে-দারিদ্র্যে কবি কেবল স্রষ্টাকেই স্মরণ করেন। তবে উদ্দীপকে কবিতার মতো স্রষ্টার কাছে সরাসরি প্রার্থনা প্রতিফলিত হয়নি। সেখানে সুখের দিনে স্রষ্টাকে না ভোলা এবং দুঃখের রাতে তার করুণা নিয়ে দ্বিধা না করার কথা বলা হয়েছে মাত্র।
'প্রার্থনা' কবিতায় স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করা হয়েছে, যা উদ্দীপকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি। কবিতায় কবি নিজেকে রিক্ত-শূন্য মনে করেছেন। স্রষ্টার প্রশংসা করার মতো তাঁর যোগ্যতা নেই বলে স্বীকার করেছেন। বিপদে-আপদে, সুখ-দুঃখে, তাঁকে স্মরণ করার কথা বলেছেন। বলেছেন সৃষ্টিজগতের ওপর স্রষ্টার অপরিমেয় আশীর্বাদের কথা। উদ্দীপকে সুখে-দুঃখে স্রষ্টাকে স্মরণ করার বিষয়টি ছাড়া অন্য বিষয়গুলো অনুপস্থিত। এই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
কায়কোবাদের 'মহাশ্মাশান' মহাকাব্য জাতীয় রচনা।
সৃষ্টিকর্তাকে ভক্তি ও তাঁর স্তুতি বা প্রশংসা করার মতো শক্তি কবির না থাকায় তিনি তাঁর কাছে শক্তি কামনা করেছেন।
'প্রার্থনা' কবিতাটি কবি কায়কোবাদের স্তুতিমূলক কবিতা। কবি এখানে স্রষ্টার প্রশংসা ও ভক্তি করার জন্য স্রষ্টার কাছে শক্তি প্রার্থনা করেছেন। স্রষ্টাকে কীভাবে ভক্তি করতে হয়, কীভাবে তাঁর প্রশংসা করতে হয় তা কবির জানা নেই। যে জ্ঞান থাকলে স্রষ্টার গুণ-কীর্তন করা যায় তাও তাঁর নেই। তাই বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় তিনি স্রষ্টার কাছে শক্তি কামনা করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!