ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের কাটা ছেড়াবিহীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রার গ্যাস মানব শরীরে প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু/ত্বক কোষ ধ্বংস করা হয়।
প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তি শনাক্তকরণের প্রযুক্তি হলো বায়োমেট্রিক্স। মানুষের দৈহিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিই হলো বায়োমেট্রিক্স। দৈহিক গঠন বা শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিগুলো হলো- ফিঙ্গারপ্রিন্ট, হ্যান্ড জিওমেট্রি, আইরিশ স্ক্যানিং, ফেস রিকগনিশন ও ডিএনএ টেস্ট। অন্যদিকে আচরণগত পদ্ধতিগুলো হলো- কিবোর্ড টাইপিং গতি যাচাইকরণ, সিগনেচার যাচাইকরণ ও কণ্ঠম্বর যাচাইকরণ। এ প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার। করে সহজেই অদ্বিতীয়ভাবে ব্যক্তি শনাক্ত করা যায়।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এর প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. বিনোদন ক্ষেত্রে: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এ ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। আজকালকার প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে নানা ধরনের কম্পিউটার গেম তৈরি করা হচ্ছে। মিউজিয়াম ও ঐতিহাসিক স্থানের দৃশ্যও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
২. যানবাহন চালান ও প্রশিক্ষণে: বিমান, মোটরগাড়ি, জাহাজ ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণে সংশ্লিষ্ট সিম্যুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবের ন্যায় প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।
৩. শিক্ষা ও গবেষণায়: শিখন-শেখানো কার্যক্রমে জটিল বিষয়গুলো সিম্যুলেশন ও মডেলিং করে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্য ও চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপন করা যায়। গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন, ডিএনএ গঠন সিম্যুলেশনের মাধ্যমে দেখা যায়।
৪. চিকিৎসা ক্ষেত্রে: জটিল অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, ডিএনএ পর্যালোচনা ইত্যাদিসহ নবীন শল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ে ব্যাপক হারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।
৫. সামরিক প্রশিক্ষণে: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সত্যিকার যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ তৈরি করে সৈনিকদেরকে উন্নত ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়।
৬. ব্যবসা বাণিজ্য: উৎপাদিত ও প্রস্তাবিত পণ্যের গুণগতমান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যতা যাচাই, মূল্যায়ন, বিপণন কর্মী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সব ধরনের কার্যক্রমে সিম্যুলেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এর প্রযুক্তি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বাংলাদেশের উন্নয়নে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। কৃষির উন্নয়ন মানেই এ দেশের উন্নয়ন। কৃষি উন্নয়নকে সহজতর করতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য ঘাটতি একটি সাধারণ সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে বর্তমানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়োগ করে খাদ্যশস্য বহুগুণে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এ বিষয়টি হাইব্রিড নামে বহুল পরিচিত। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুরূপে স্থানান্তর করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। আমাদের দেশেও এ প্রযুক্তির উপর বেশ কিছু সংস্থা কাজ করে অনেক উচ্চ ফলনশীল জাতের শস্যবীজ উৎপাদন করেছেন। এসব বীজ ব্যবহার করে শসাও কয়েকগুণ হারে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। সম্প্রতি পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আমাদের দেশের সোনালী আঁশ পাট বিশ্বের দরবারে হারানো ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করতে যাচ্ছে। খাদ্যশস্য যেমন- ভুট্টা, ধান, তুলা, টমেটো, পেঁপেসহ অসংখ্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ানো, আগাছা সহিষ্ণু, পোকামাকড় প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন হচ্ছে। বিভিন্ন জাতের মৎস্য সম্পদ (বিশেষত মাগুর, কার্প, তেলাপিয়া ইত্যাদি) বৃদ্ধির জন্য জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রাণীর আকার ও মাংস বৃদ্ধি, দুধে আমিষের পরিমাণ বাড়ানো, ভেড়ার পশম বাড়ানোর কাজে জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। কৃষিক্ষেত্র ছাড়াও চিকিৎসা ও ঔষধ শিল্পের উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ভূমিকা রাখছে, যা দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করছে।
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
Related Question
View Allভার্চুয়াল রিয়েলিটি হল কম্পিউটার সিমুলেশন এর সাহায্যে তৈরি ত্রিমাত্রিক পরিবেশ যা ব্যবহার কারীদের কাছে সত্য ও বাস্তব বলে মনে হয় একে সিমুলেশনের পরিবেশ ও বলা হয় কম্পিউটার প্রযুক্তি ও কোন করণ বিধায় প্রয়োগ কৃত্রিম পরিবেশকে এমন ভাবে তৈরি ও উপস্থাপন করা হয় যা ব্যবহারকারীর কাছে সত্য বাস্তব বলে মনে হয়।
Ans ইজরীরুহ না এইটা তো আমি ভালো নেই রাতে আমরা কি পারি নি এই জাগায় সময় আমার কি যে মজা লাগছিল
কৃত্রিম বুদ্ধিমতরা বলতে বোঝানো হয় তৈরি কৃত জ্ঞান যা আবদ্ধ একটি জ্ঞান। রোবটকে কিছু প্রোগ্রামিং দিয়ে কাজ করানো হয়। তাকে যেই কাজটি তার মধ্যে সেটআপ করা হয় বা তার মধ্যে তার ভিতরে যে কাজটি সেটআপ করা হয়েছে শুধু সেই কাজটি করতে পারে। আর মৌলিক গবেষণা অর্থাৎ মানুষের মস্তিষ্ক যা নিজ ইচ্ছামত কাজ করতে পারে তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমাত্রায় মৌলিক গবেষণা সম্ভব নয়।
রোবোটিক্স (Robotics) হল বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের এমন একটি শাখা যেখানে রোবট তৈরির নকশা, নির্মাণ, কার্যক্ষমতা ও প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করা হয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইলেকট্রনিক্স, মেকানিক্স এবং কম্পিউটার সায়েন্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রযুক্তি।
রোবোটিক্সের প্রধান অংশ
১. যান্ত্রিক নকশা (Mechanical Design) – রোবটের শরীর বা কাঠামো গঠনের জন্য মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করা হয়।
২. ইলেকট্রনিক্স (Electronics) – সেন্সর, মোটর ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপাদানের সাহায্যে রোবটকে কার্যক্ষম করা হয়।
৩. প্রোগ্রামিং (Programming) – সফটওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে রোবটের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
রোবোটিক্সের ব্যবহার
শিল্প কারখানা: স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হয়।
স্বাস্থ্যসেবা: সার্জারি রোবট ও চিকিৎসা সহায়তা রোবট ব্যবহার করা হয়।
গবেষণা ও মহাকাশ: মহাকাশ অনুসন্ধানে রোবটিক যান (যেমন, NASA-র মার্স রোভার) ব্যবহৃত হয়।
সেনাবাহিনী: সামরিক ড্রোন ও যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্য রোবট ব্যবহৃত হয়।
রোবোটিক্স দ্রুত উন্নতি করছে এবং ভবিষ্যতে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।
বিজ্ঞান ইঞ্জিনিয়ারিং উপযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত যে বিষয়টি উপর রোবটের ধারণা নকশা উৎপাদন কার্যক্রম কিংবা সাধারণ বাস্তবায়ন করতে পারে তাই হচ্ছে রোবোটিক্স।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণকে বোঝায়। ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটির মূল বিষয় হলো সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার দেশের শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য মোচনের ব্যবস্থা করা। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
উত্তর
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!