দৃশ্যকল্প-২ এর চিত্রটি দ্বিগুণ আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বকে নির্দেশ করে যা মানসিক চাপমূলক পরিস্থিতি তৈরি করে।
যখন কোনো ব্যক্তির সামনে দুটি লক্ষ্যবস্তু থাকে এবং দুটি বস্তুরই ধনাত্মক ও ঋণাত্মক দিক থাকে তখন তাকে দ্বিগুণ আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব বলে। লক্ষ্যবস্তু দুটির ভালো দিকটি ব্যক্তিকে আকর্ষণ করে এবং খারাপ দিকটি ব্যক্তিকে বিকর্ষণ করে। অথচ লক্ষ্যবস্তুর একটি তাকে গ্রহণ করতে হয়। আর তখনই গ্রহণ-বর্জনের সিদ্ধান্তহীনতায় ব্যক্তির মধ্যে দেখা দেয় দ্বিগুণ আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব যা দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এ যে দ্বন্দ্বের প্রতিফলন দেখা যায় তা চাপমূলক পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে। কতগুলো কৌশল অবলম্বন করে এরকম পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব। চাপমূলক পরিস্থিতিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত এবং নিজের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতার উন্নয়ন সাধন করতে হবে। নব উদ্যমে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধানে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
যে সমস্যাজনক পরিস্থিতি ব্যক্তির জন্য মানসিক চাপের সৃষ্টি করেছে, তা সমাধান করা যদি ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব না হয়, তবে নিজেকে সে ঐ পরিস্থিতি থেকে সরিয়ে নিতে পারে বা অপসারণ করতে পারে। ব্যক্তি সমস্যাজনক পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন করে এবং নিজের অভ্যন্তরীণ অবস্থার কিছু পরিবর্তন এনে পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারে।
এছাড়া চাপমূলক পরিস্থিতি মোকাবেলার কিছু আত্মরক্ষামূলক কৌশল রয়েছে। যেমন অবদমন, অপব্যাখ্যান, প্রতিক্রিয়া সংগঠন, প্রত্যাবৃত্তি ইত্যাদি।
Related Question
View Allমানসিক চাপ হলো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ব্যক্তির এমন এক ধরনের অবস্থা, যার দ্বারা সে মানসিক যন্ত্রণা বা পীড়নের সম্মুখীন হয়।
ব্যক্তির অসহায়ত্বের ফলে হতাশার মতো নেতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তাই অসহায়ত্ব ক্ষতিকর।
মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা কোনো কিছু দ্বারা বাধা পেলে যে উত্তেজনার সৃষ্ট হয় তাকে হতাশা বা অসহায়ত্ব বলে। অসহায়ত্বের অবস্থায় পরিস্থিতি ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। ফলে ব্যক্তি পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরূপ পরিস্থিতিতে ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ধংসাত্মক প্রতিক্রিয়া করে থাকে। তাই অসহায়ত্বকে ক্ষতিকর মানসিক অনভূতি বলা হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ পরিলক্ষিত দ্বন্দ্বটি হলো আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব।
আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বে একটি লক্ষ্যবস্তু থাকে, লক্ষ্যবস্তুটি একদিকে যেমন আকর্ষণ করে, অন্যদিকে তেমনি বিকর্ষণও করে। অর্থাৎ আকর্ষণীয় ও বর্জনীয় উভয় গুণই লক্ষ্যবস্তুতে বর্তমান থাকে। লক্ষ্যবস্তুটির আকর্ষণীয় গুণের কারণে ব্যক্তি এর দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ঋণাত্মক গুণটি বেশি শক্তিশালী হওয়ায় আবার তাকে অগ্রসর হওয়া `থেকে বিরত রাখে। ফলে ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়ে।
উদাহরণস্বরূপ- ভালো বেতনের একটি চাকরি পাওয়া গেছে। তবে চাকরিস্থল খাগড়াছড়ি জেলার শেষপ্রান্তে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে। ভালো বেতন একদিকে আকর্ষণ করছে অপরদিকে, দুর্গম অঞ্চল দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এরূপ একটি অবস্থাই আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব।
দৃশ্যকল্প-২-এ মানসিক চাপ মোকাবেলার 'অবদমন' ও 'অপব্যাখ্যান বা যুক্তিসিদ্ধকরণ' কৌশলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা ভিন্ন হলেও মূলত একই শ্রেণিভুক্ত।
তীব্র মানসিক চাপের ফলে আমাদের মনের ইচ্ছাগুলো নিজেদের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয় না বা তৃপ্তি সাধন করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য কামনা-বাসনাকে ব্যক্তি স্বভাবতই জোরপূর্বক ভুলে থাকে বা অবচেতন মনে দাবিয়ে রাখে। এভাবে জোরপূর্বক ভুলে থাকা বা দাবিয়ে রাখার কাজটিকে অবদমন বলে। দৃশ্যকল্প-২ এর প্রথমাংশে এরূপ সংগতি বিধানের চরমতম ও নিকৃষ্টতম কৌশলের কথা বলা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর শেষাংশে নিজের ব্যর্থতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উদ্ভট যুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। মূলত এটা হলো ব্যর্থতার পীড়াদায়ক গ্লানি থেকে মুক্তি লাভের জন্য অপব্যাখ্যার কৌশল ব্যবহার করা। উদাহরণস্বরূপ- বেশ কিছুদিন ধরে খেলছে এমন একজন খেলোয়াড়কে যদি দলের খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত করা না হয় তাহলে তাকে বলতে শোনা যায় 'আরে ভাই, অনেক বয়স হয়েছে, এখন কি আর ছেলেপেলেদের সাথে খেলা আমার সাজে।' মূলত এসব ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অক্ষমতাকে ঢাকবার জন্য দুর্বল যুক্তির আশ্রয় নিয়ে অন্যের চোখে আমাদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকি।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উভয়ই আত্মরক্ষার কৌশল হলেও ভিন্ন। 'অবদমন' ও 'অপব্যাখ্যান
মানসিক চাপ হলো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ব্যক্তির এমন এক ধরনের অবস্থা, যার দ্বারা সে মানসিক যন্ত্রণা বা পীড়নের সম্মুখীন হয়।
ব্যক্তির মানসিক চাপ হ্রাসে সামাজিক সহায়তা ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ প্রয়োজন।
বিভিন্ন সামাজিক কারণে মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যেমন-সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া, সামাজিক বৈষম্য, জাতিগত বিদ্বেষ, বর্ণবৈষম্য প্রভৃতি কারণে সৃষ্ট ব্যর্থতা ও উত্তেজনা। অন্যদিকে সামাজিক সহায়তা চাপ হ্রাস করে। সামাজিক নিরাপত্তা, আশ্বস্ততা ও অনুপ্রেরণা ব্যক্তির বিপর্যস্ত জীবনকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে থাকে।
তাই চাপ হ্রাসে সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
