রানার নতুন খবর আনার কাজ নিয়েছে।
"জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে" বলতে রানারের জীবনের সব আশা-স্বপ্নকে সামান্য মূল্য বিক্রি করাকে বোঝানো হয়েছে।
রানার বা ডাক বাহক মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখের নানা সংবাদের বোঝা কাঁধে নিয়ে রাতের পথে শহরের দিকে ছুটে চলে। শুধু রাত নয়, দুর্গম পথে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সে নিরন্তর ছুটে চলে। তার ক্লান্তি নেই, অবসর নেওয়ার অবকাশ নেই। তার ক্লান্ত শ্বাস যেন আকাশ ছুঁয়ে যায়, তার ঘামে মাটি ভেজে। সামান্য বেতনের চাকরির জন্য পথের দস্যুর ভয় উপেক্ষা করে ছুটে চলে। তার জীবনের সব রাতকে যেন তারা অল্প দামে কিনে নিয়েছে।
দৃশ্যকল্প-। এর ভাবধারার সাথে 'এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে?'- চরণটির সাদৃশ্য রয়েছে।
সমাজের শ্রমজীবী মানুষের শ্রম ও ত্যাগের ফলে সভ্যতার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে। অথচ তারা সমাজে মূল্য ও মর্যাদা পায় না। তারা উঁচু শ্রেণি দ্বারা নানাভাবে নির্যাতিত ও অবহেলিত।
'রানার' কবিতায় কবি শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন, দুঃখ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদের সততার দিকটি তুলে ধরেছেন। রানার মানুষের সুখ-দুঃখের অনেক অজানা সংবাদ বহন করে নিয়ে যায়। সে পিঠে খবরের বোঝা, মানি অর্ডার নিয়ে দস্যুর ভয় উপেক্ষা করে লন্ঠন জ্বালিয়ে রাতের অন্ধকারে একা ছুটে চলে। অভাবে, ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে গেলেও সে দায়িত্বে অবহেলা করে না। অথচ সমাজ তাকে তার ন্যায়্য প্রাপ্য দেয় না। কবি তাই প্রশ্ন করেছেন- এ বোঝা টানার দিক কবে শেষ হবে? উদ্দীপকে কবির মনে যুগ যুগ ধরে আর্তের কান্নার কথা বলেছেন। এই অবস্থা থেকে আর্ত, লাঞ্ছিত মানুষদের কবি মৃত্যুর ভয়ে আর বসে না থেকে যুদ্ধের সাজ পরে প্রতিবাদ করতে বলেছেন।
দৃশ্যকল্প (ii) যেন 'রানার' কবিতার মূল ভাবনারই প্রতিফলন- মন্তব্যটি যথার্থ।
যাদের ঘামে ও শ্রমে সমাজ-সংসারের চাকা নিত্য সচল থাকে তাদের কেথা কেউ বলে না, কেউ তাদের সুযোগ-সুবিধার কথা ভাবে না। এটা শুধু সত্য নয়, নির্মম সত্য।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প (ii) এর কবিতাংশে কবি শ্রমজীবী মানুষের কথা বলেছেন। এখানে কবি কারখানার চিমনির মুখে সাইরেন-শঙ্খের আওয়াজ এবং হাতুড়ি-কান্তের শব্দ শোনার কথা বলেছেন। অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের নিরলস শ্রমের ইতিবৃত্ত কেউ দেখে না। কাজ করতে করতে হয়তো কেউ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, যদিও জীবনকেই তারা ভালোবাসতে চায়। এই বিষয়টি 'রানার' কবিতায় প্রতিফলিত বিষয়টিকে নির্দেশ করে। রানার সবার কাছে নতুন খবর পৌছে দিলেও তার খবর কেউ নেয় না। সে তার শ্রমেরও উপযুক্ত মূল ও মর্যাদা পায় না। রাত হোক, দুর্গম পথ হোক, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হোক- নিরন্তর তাদের কাজ করতে হয়। ঘরে স্ত্রী দুঃখ, বেদনা, অভিমান, অনুরাগ নিয়ে একা বিনিদ্র রাত জাগে। রানারদের দুঃখের চিঠি কেউ কোনোদিন পড়ে না। তারা অবহেলিতই থেকে যায়।
উদ্দীপক (ii) ও আলোচ্য কবিতা উভয় জায়গায় শ্রমজীবী মানুষের কথা প্রকাশ পেয়েছে। যারা তিল তিল করে নিজেদের শ্রমে ও ঘামে আমাদের সুন্দর জীবনকে আরও সুন্দর করে। অথচ তারা অবহেলিত ও নিগৃহীত হয়। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েই তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। তাই বলা যায় মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!