দৃশ্যপট-১: 'ক' নামক দেশের দুটি অংশের মধ্যে হাজার কিলোমিটারের ভৌগোলিক দূরত্ব। ধর্মীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট দেশটির মানুষের জীবনধারায় মিল নেই। দুই অংশের মধ্যে বৈষম্যও প্রবল। জাতীয় আয়ের সিংহভাগ পূর্বাঞ্চল হতে আসলেও পশ্চিমাঞ্চলের প্রভাবশালী শাসকগোষ্ঠী তা নিজেদের উন্নয়নে ব্যবহার করে।

দৃশ্যপট-২: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ একটি ভাষণে ঘোষণা করা হয় “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।"

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালে গঠিত একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ সংগঠন বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম ও আইন- আদালতের ভাষা হিসেবে ব্যবহারের জন্য জোর প্রচারণা চালায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের তাৎপর্য অত্যন্ত ব্যাপক। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদে ২৮৮টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ভিত্তি লাভ করে। পাশাপাশি এ নির্বাচনের ফলাফল যুক্ত পাকিস্তানের মৃত্যুবার্তা ঘোষণা করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বিষয় পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান ছিল ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুটি অঞ্চল। উভয় অঞ্চলের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব ছিল প্রায় ১২০০ কিলোমিটার। শুরু থেকেই কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা পশ্চিম পাকিস্তানের অবাঙালি শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছিল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ বৈষম্য ছিল প্রবল। পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয়ে পূর্ব পাকিস্তানের অবদান ছিল বেশি। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত এ বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে। সব গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্থাপিত হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। বাৎসরিক বাজেটের ৭৫% ভাগ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানে, মাত্র ২৫% ভাগ ব্যয় হতো পূর্ব পাকিস্তানে। অথচ পূর্ব পাকিস্তান থেকে রাজস্ব আয় হতো শতকরা ৬২ ভাগ। সামরিক বাহিনীসহ সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পশ্চিম পাকিস্তানিদের আধিপত্য ছিল প্রকট। মোট কথা, সবক্ষেত্রেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতো। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ বলা হয়েছে, শুধু ধর্মীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট দেশের দুটি অঞ্চলের মানুষের জীবনধারায় মিল নেই। দুই অংশের মধ্যে বৈষম্যও প্রবল। জাতীয় আয়ের সিংহভাগ পূর্বাঞ্চল থেকে এলেও তার বেশিরভাগ ব্যয় হতো পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে। পূর্বোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা-১ বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে তার অধিকার আদায়ে সোচ্চার করে স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার  রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াদী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক  ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর  শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস, নির্বাচনে জয়ের পর বাঙালির সাথে প্রতারণা, বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের পটভূমি ও বাঙালির অধিকারের দাবি ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমেই বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ও মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা পায়। এ ভাষণের পরেই বাঙালি জাতির সামনে একটি মাত্র গন্তব্য নির্ধারণ হয়ে যায়, তা হলো স্বাধীনতা। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত কর্মসূচি এবং আহ্বানে সাড়া দিয়ে সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। পূর্ব বাংলার সব অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর পর বঙ্গবন্ধু প্রথম_স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে দেওয়া তার ঐ বাণী শোনার পরই চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। শুরু হয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাঙালির এক অসম লড়াই, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধ নামে পরিচিত। এরপর ৯ মাস দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ত্রিশ লক্ষ বাঙালির জীবন বিসর্জন ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পাই আমাদের পরম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। স্বাধীনতা যুদ্ধের এই পুরো সময়টাতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে যে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল, তাই আমাদেরকে এনে দিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
291
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

বিবাহ বিহীন পরিবার গঠন দিবালোকে স্বপ্ন দেখার মতো। এমন কোনো পরিবারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি যারা বিবাহ বহির্ভূত পরিবার গঠন করেছে। এজন্য পরিবারের ভিত্তি বলা হয় বিবাহকে। যখন একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক একত্রে বৈধভাবে বসবাস করে তখন তাকে পরিবার বলে। এ সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পরিবার গঠনের পূর্বশর্ত বিবাহ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
474
উত্তরঃ

উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালিদের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বশ্যতা স্বীকার করানোর জন্য পাকিস্তানিরা উঠে পড়ে লাগে। ১৯৪৭ সালেই উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব আসলে বুদ্ধিজীবীরা নানা রচনার মাধ্যমে তার প্রতিবাদ জানান। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় বলেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।" বাংলার নির্ভীক ছাত্রসমাজ সাথে সাথে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। তারপর ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ঢাকার এক জনসভায় আবারও ঘোষণা করেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।" এ ঘোষণা শোনা মাত্রই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ভাষা আন্দোলনের গতিকে তীব্রতর করতে গঠিত হয় 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। তীব্র আন্দোলন চলার এক পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ বাহিনী গুলি করলে বরকত, জব্বার, রফিক প্রমুখ শহিদ হন।

উদ্দীপকের আইদান প্রভাত ফেরীতে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করে, আমরা শহিদ মিনারে কেন ফুল দেই? বাবা বলেন, এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ছাত্রজনতা বুকের রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছিল। তাদের স্মরণে আমরা শহিদ মিনারে ফুল দেই। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আইদানের বাবার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
682
উত্তরঃ

উদ্দীপকের দিবসটি অর্থাৎ শহীদ দিবসের মতোই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি বাংলাদেশের নগর সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।

বাঙালির বিভিন্ন দিবস পালনকে সাংস্কৃতিক অথবা আর্থ-সামাজিক যেভাবেই বিবেচনা করি না কেন, তার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। গ্রামীণ ও নগর সংস্কৃতিতে এসব দিবস পালনের অনুষ্ঠানে ভিন্নতা দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই গ্রামীণ সংস্কৃতি অপেক্ষা নগর সংস্কৃতিতে যেকোনো দিবস ঘটা করে পালন করা হয়। যেমন ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। এ দিনটি উপলক্ষে নগরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হয়। যেমন- আনন্দ র‍্যালি বের করা, বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, ইত্যাদি করা হয়। এসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবসময়ই নগরবাসীকে অনুপ্রেরণা যোগায়। এ কারণে নগর সমাজের মানুষ জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দিবসের অনুষ্ঠানে আগ্রহ সহকারে অংশগ্রহণ করে। এছাড়া এ জাতীয় অনুষ্ঠান নগর সমাজের শিশুরা খুব কাছে থেকে উপভোগ করে বলে তাদের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম দানা বাঁধতে থাকে। ফলে দেশের প্রতি তাদের মনে গভীর ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, এসব দিবস উদযাপন নগর সমাজের সব শ্রেণি ও পর্যায়ের মানুষের মধ্যে এক ধরনের জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরি করে।

উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, বাঙালির বিভিন্ন দিবস উদযাপন নগর সংস্কৃতি বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
335
উত্তরঃ

সাঁওতালরা মূলত এ দেশে আসে কৃষি মজুর হয়ে, জমি পরিষ্কার করে চাষাবাদ করার জন্য, রেললাইন বসাতে এবং চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে। ধারণা করা হয়, বর্তমান সাঁওতালদের পূর্বপুরুষরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার রাজ্য ও অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এসে এখানকার পার্বত্য এলাকা ও আশপাশের বন-জঙ্গলে ও পতিত জমিতে বসতি স্থাপন করে। পরে তারা এসব বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে পতিত জমিকে চাষযোগ্য করে তোলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
494
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews